বাংলাদেশের তদারকি সরকার প্রধান ড. মহম্মদ ইউনূস কি ইস্তফা দিচ্ছেন? আচমকাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে এই গুঞ্জন। বিশেষ করে জুলাই সনদ সইয়ের পর এই গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে উঠেছ। জুলাই সনদ স্বাক্ষরের দিন তদারকি সরকারের বহু শরিক গড়হাজির ছিল। চুক্তি সইয়ের দিন যায়নি এনসিপি। বয়কট করে চার বামদল সিপিবি, বাসদ, বাসদ (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ জাসদ। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম আগেই জানিয়ে দেন, যে সনদের আইনি ভিত্তি নেই, সেই সনদে তারা সই করবে না। এই আবহে একটা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে তাহলে কী চাপের মুখে পড়ে তদারকি সরকার প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁডাচ্ছেন বা দাঁডা়নোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মহম্মদ ইউনূস।
বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীমহল মনে করে ক্ষমতা থেকে এখনই সরে দাঁড়ানোর কোনো ইচ্ছা বা বাসনা ইউনূসের নেই। তার বড় প্রমাণ জুলাই সনদ। কী রয়েছে এই সনদে। এটা আসলে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার একটা প্রচেষ্টা। সেখানে এমন দুটি আইন রাখা হয়েছে যে আইনে সেটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একটি আইন হল – সংবিধান বা অন্য কোনও আইনে ভিন্ন কিছু থাকলে সনদের বিধান প্রাধান্য পাবে। দ্বিতীয় আইনটি হল জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর বৈধতা বা প্রয়োজনীয়ত সম্পর্কে কোনও আদালতে প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। তার মানে চাইলেও কেউ কোনও আইনের সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আদালতে যেতে পারবেন না। অর্থাৎ আদালতে মুখ চিরকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার একটি কুৎসিত নির্লজ্জা প্রয়াস। তদারকি সরকার প্রধান নিজেই নিজেকে আন্তর্জাতিক মহলের কাছে কার্যত উলঙ্গ করে দিলেন। আর এই কাজে তাঁকে সাহায্য করল ২৮টি রাজনৈতিক দল।
গত মে মাসে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়ে দেন, তদারকি সরকার প্রধানের পদ থেকে ড. মহম্মদ ইউনূস ইস্তফা দেবেন কি দেবেন, সেটা একান্তই তার ব্যক্তিগত বিষয়। দলের তরফ থেকে তাঁর ইস্তফা চাওয়া হয়নি। বিএনপি তাঁকে ইস্তফা দেওয়ার জন্য চাপ দেবে না। তবে নির্বাচনের নীতি নির্দেশিকা ঘোষণা না করে তিনি যদি তদারকি সরকার প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়ান সেটা একান্তই তার নিজস্ব বিষয়। আর তিনি যদি ব্যক্তিগতভাবে মনে করে তিনি তাঁর দায়িত্ব পালন করতে পারছে না, তাহলে রাষ্ট্র হাত গুটি বসে থাকতে পারে না। রাষ্ট্রকে তাঁর বিকল্প খুঁজে নিতে হবে।
এই বিবৃতির পর কেটে গিয়েছে আরও পাঁচ মাস। পরিস্থিতি পরিবেশ বদলে গিয়েছে। সেই বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সঙ্গে কোনভাবেই এঁটে উঠতে পারেছন না ইউনূস। বিশেষ করে সেনাবাহিনীর কর্মরত এবং প্রাক্তন সদস্যদের বিচারের আওতায় এনে তিনি নিজেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন। ফলে, তিনি যদি তদারকি সরকার প্রধানের পদ থেকে আচমকা ইস্তফা দেন তাহলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। বাংলাদেশের রাজনৈতিকমহল মনে করে ইস্তফাই তাঁর সেফ এক্সিটের পর প্রশস্ত হবে। মান সম্মান যেটা তিনি হারিয়েছিলেন, সেটা কিছুটা হলেও তিনি ফিরে পাবেন। যে সব দেশ তাঁকে আশ্রয় দিতে অস্বীকা করেছিল, সেই সব দেশের কাছে আশ্রয় চাইলে হয়তো তারা আশ্রয়ের ব্যাপারে চিন্তাভাবনা করতে পারে।












Discussion about this post