আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লীগ নেতাদের বিচারের কার্যক্রম চলছে। ইতিমধ্যেই বিচারের ফুটেজ সম্প্রচার করা হয়েছে, সেটুকুই বাংলাদেশের মানুষ দেখতে পাচ্ছে। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জানিয়েছেন, ভারত শেখ হাসিনাকে হত্যা করবে। মোদী শেখ হাসিনাকে হত্যা করে এমনভাবে সাজাবেন, যাতে মনে করা হয় বাংলাদেশেরই মানুষই তাকে হত্যা করেছে। ভারত শেখ হাসিনাকে হত্যা করবে, এমন ভয়াবহ কথা একটি লিখিত নথি থেকে পাঠ করেন তিনি। আদালতের দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্যে হইচই পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিচার হচ্ছে। যেখানে চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম সরকারের প্রসিকিউশনের প্রধান হয়ে কাজ করছেন। এমনকি তিনি শেখ হাসিনার বহুবার ফাঁসি চেয়েছেন তিনি। এইবার আদালতে দাঁড়িয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন। বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কারা ভেঙেছে এবং শেখ হাসিনা ও ভারত নিয়ে মন্তব্য করেছেন তিনি। বঙ্গবন্ধুর স্ট্যাচু কারা ভেঙেছে, এটা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, শেখ মুজিবর রহমানের শত শত স্ট্যাচু উন্মুক্ত জনতা ৫ তারিখে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভেঙেছে। এটা সাধারণ মানুষের কাজ। নির্দিষ্ট কোনও রাজনৈতিক দলের বা গোষ্ঠীর কাজ নয়।
এরপর তিনি ভারত ও শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে আছে, তাকে ভারত আশ্রয় দিয়েছে। যতদিন সে ভারতে থাকবেন, যতদিন তাকে ভারত রাখবে, ততদিন বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ঠিক হবে না। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো করার জন্য ভারত শেখ হাসিনাকে মেরে ফেলবে। অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, ভারতের খুব প্রয়োজন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করার। ভারতের একাড়ি অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতি হচ্ছে। এমনটাই বোঝাতে চেয়েছেন তাজুল ইসলাম। এমন কথায় তিনি আদালতে বলেন। তিনি বলেন, মোদী তাকে মেরে এমন ভাবে নাটক সাজাবে, যেন মনে হয় বাংলাদেশেরই কেউ তাকে হত্যা করেছে। এমনভাবেই মোদী শেখ হাসিনাকে শেষ করে দেবে। তাজুল ইসলামের এমন মন্তব্য বাংলাদেশের টেলিভিশনের সম্প্রচার হয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল বলছেন, যেহেতু এটি টেলিভিশনের সম্প্রচার হয়েছে, কাজেই ভারত সরকারের কাছে এই খবরটি পৌঁছেছে। আদালতে দাঁড়িয়ে চিফ প্রসিকিউটার কি প্রতিবেশী দেশের সঙ্গে সম্পর্ক তিক্ত করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন? খুব স্বাভাবিকভাবেই এই প্রশ্নটা উঠছে, এরপরে ভারত কূটনৈতিক স্তরে বাংলাদেশের সঙ্গে কোন সম্পর্কে সমীকরণের দিকে হাঁটবে? এদিকে বাংলাদেশের ঢাকা বিমানবন্দরে যখন অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটল, তখন বাংলাদেশ বিমানবন্দরে কোনও বিমান কোঠানামা করতে পারছে না। একাধিক বিমানকে জরুরী ভিত্তিতে কলকাতায় ল ল্যান্ড করিয়েছে বাংলাদেশ বিমান কর্তৃপক্ষ। যখন বিপদের দিনেও বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে ভারতের সাহায্য নিতে হচ্ছে, তখন বাংলাদেশের চিফ প্রসিকিউটারের এমন মন্তব্য। অনেকে বলছেন, যেটুকু ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক ছিল, সেটুকুও খাদের কিনারায় গিয়ে দাঁড় করাল বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ। চিফ প্রসিকিউটারের বক্তব্য মানে তো সরকারের বক্তব্য হিসাবেই ধরা হবে। তবহে এরপর ভারতের তরফে কি খাড়ার ঘা নেমে আসে, সেটাই দেখার।












Discussion about this post