সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে একটি খবর প্রকাশিত হয়। সেই খবর হল ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার চার প্রতিনিধিদলের ঢাকা সফর। সফরের নেতৃত্ব দেন জেনারেল কুন্দন সিং। পরে অবশ্য এই খবর নিয়ে তেমন আর চর্চা হয়নি। দিন কয়েক বাদে আবার তাদের সফরের খবর ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে জায়গা করে নেয়। সেই খবর অনুসারে, প্রতিনিধিদলের তিন দিন থাকার কথা ছিল। তারা ছিল চারদিন। তারা ঢাকা পৌঁছান গত ১৪ অক্টোবর। ফিরে আসার কথা ছিল ১৬ অক্টোবর। পরিবর্তে তারা ভারতে ফেরেন ১৭ অক্টোবর। সূত্রে পাওয়া খবর জানা গিয়েছে, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার প্রতিনিধিদল জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক করেন সে দেশের বাকি দুই বাহিনী নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর কর্তাদের সঙ্গেও। একটি গণমাধ্যমের খবর অনুসারে, তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারকে নিয়ে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং লালমণির হাট। যেদিন তারা ঢাকা পৌঁছান সেদিন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান ওয়াকার –উজ জামান গিয়েছিলেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের দুটি বিমানবন্দরে।
সেনাপ্রধান ওয়াকারকে ওই তিন জায়গায় নিয়ে গিয়ে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার প্রতিনিধিদল তাকে দেখিয়েছিলেন আমেরিকা সেখানে বসিয়েছে এডি সিস্টেম। এর কারণ ব্যাখা করতে গিয়ে তারা জেনারেল ওয়াকারকে বলেন, তিনটি দেশের ওপর নজরদারির জন্য আমেরিকা ওই তিন জায়গায় এডি সিস্টেম বসিয়েছে। এই তিন দেশ হল ভারত, চিন এবং রাশিয়া। লালমণির হাটে আমেরিকা তৈরি করেছে বাংকার।
ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কর্তারা ঢাকা যাবেন বলে তদারকি সরকার প্রধান মহম্মদ ইউনূসের কাছে অনুমতি চেয়েছিলেন। যা নেহাতই সৌজন্যমূলক। সূত্রের খবর, তদারকি সরকার প্রধান স্বেচ্ছায় তাদের অনুমতি দেন। যদি তারা সেটা না দিতেন তাহলে গোয়েন্দা শাখার কর্তারা একপ্রকার জোর করেই চলে যেতেন। আসলে মহম্মদ ইউনূসের এটা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তাও ছিল না। কারণ, গত ১৬ মাস ধরে ঢাকা একের পর এক ভারত বিদ্বেষী কার্যকলাপ চালিয়েছে। ভারতের বিরুদ্ধে প্ররোচনামূলক বা উস্কানিমূলক বক্তব্য দেওয়ার জন্য সে দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদী, মৌলবাদী শক্তিগুলিকে উস্কে দিয়েছে। তাছাড়া সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এবং বর্তমান বেশ কয়েকজন সদস্যকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যনালের আওতায় এনে তিনি নিজেই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছেন। সেনাবাহিনীর একাংশ বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি এখন তার বিরুদ্ধে ঘুঁটি সাজাতে শুরু করেছে। উদ্দেশ্য তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কর্তাদের ঢাকা আমন্ত্রণ করা ছাড়া দ্বিতীয় কোনও রাস্তা আর ইউনূসের সামনে খোলা ছিল না।
সূত্রের খবর, ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কর্তারা ঢাকা গিয়েছিলেন হাতে গরম কিছু প্রমাণ নিয়ে। সেই প্রমাণ হল স্যাটেলাইট ইমেজ। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারের হাতে সেই প্রমাণ তুলে দেন। আর তাতেই ধরা পড়ে আমেরিকা সেখানে কী কীর্তি করেছে। উল্লেখ করা যেতা পারে, কিছুদিন আগে বাংলাদেশে এসেছিল একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজা। বাংলাদেশ সরকারিভাষ্যে সে সময় জানায়, যৌথ মহড়ার জন্য ওই মার্কিন রণতরীর বাংলাদেশ সফর। এখন দেখা যাচ্ছে মহড়ার নাম করে তারা ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে এডি সিস্টেম বসিয়েছে। ইউনূস এবং জেনারেল ওয়াকারকে ভারতীয় গোয়েন্দা শাখার কর্তারা জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ১০ দিনের মধ্যে সে দেশের সব সন্ত্রাসবাদী সংগঠনকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে হবে।












Discussion about this post