ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল সম্প্রতি ঢাকা সফর করে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন জেনারেল কুন্দন সিং। এই খবর হয়েছিল একেবারে গোপনে। ভারতের একটি দৈনিক প্রথম এই খবর প্রকাশ করে। এখন বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমেও প্রচার করা হয়েছে গোয়েন্দা সেনাকর্তাদের ঢাকা সফরের খবর। কেন তারা সেখানে গিয়েছিলে, সে বিষয়ে একবার আলোচনা করা যাক। সেটা সহজ হবে যদিও সেই সব জায়গার কথা উল্লেখ করা যায়, যেখানে সেনাগোয়েন্দারা গিয়েছিলেন। তারা গিয়েছিলেন লালমণির হাট এবং ঠাকুরাগাঁও। এই দুটি জায়গার মধ্যে লালমণির হাট একাবারে সীমান্ত লাগোয়া। নির্ভরযোগ্য সূত্রে ভারতীয় সেনাগোয়েন্দারা খবর পায় সেখানে জঙ্গি শিবির গড়ে উঠেছে। আর সেই সব দেখতে তারা সরেজমিনে সেখানে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
কেন তাদের এই সফর? প্রথম কারণ, বাংলাদেশর রাজনীতির গতিপথ বদলে গিয়েছে। সে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালেয়র ভোটে ছাত্র শিবির বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে। পরাজিত হয়েছে বিএনপির ছাত্রদল। ফলে, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতি দেখতে তাদের ঢাকা সফর। দ্বিতীয় কারণ, সম্প্রতি ঢাকায় যে অভ্যুত্থান হয়েছে, সেই অভ্যুত্থানে বেশ কিছু জঙ্গির সামিল হওয়ার খবর পেয়েছে ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখা। সেই খবরের সত্যতা খতিয়ে দেখতে ভারতীয় সেনার গোয়ন্দাকর্তারা ঢাকা গিয়েছিলেন। যেদিন সন্ধ্যায় ভারতীয় সেনাগোয়েন্দারা দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দেন, সেদিনই জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তার কয়েকজন অধস্তন কর্মীকে নিয়ে লালমণির হাট এবং ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলেন। ঘুরে দেখেন ওই দুই জায়গায় বায়ুসেনা ছাউনি। সূত্রের খবর, তারা গিয়েছিলেন তিনটি হেলিকপ্টারে করে। প্রথমে যান ঠাকুরগাঁও, পরে লালমণির হাট।
সূত্র বলছে, ভারতীয় সেনাগোয়েন্দারা জেনারেল ওয়াকারের হাতে তুলে দিয়েছেন বেশ কিছু নথি। যদিও সেই নথিতে কী বলা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনও খবর পাওয়া যায়নি। তবে তাদের ফিরে আসার দিন সন্ধ্যায় জেনারেল ওয়াকারের লালমণির হাট এবং ঠাকুরগাঁও যাওয়া থেকে একটা বিষয় স্পষ্ট যে তারা এমন কিছু তথ্য তার হাতে তুলে দিয়েছিলেন যা দেখে ওয়াকারের রক্তচাপ মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়।
ভারতীয় গোয়েন্দাদের ঢাকা সফরের কিছুদিন আগে পাকিস্তান সেনার এক প্রতিনিধিদল ঢাকা সফর করে। তারাও কিন্তু লালমণির হাটে যায়। এটা ধরে নেওয়া যেতেই পারে, ভারতীয় সেনাগোয়েন্দাদের থেকে প্রাপ্ত নথির সত্যতা খতিয়ে দেখতেই সেনাপ্রধান ওয়াকার তাঁর বাহিনীর কয়েকজনকে নিয়ে লালমণির হাট ঘুরে দেখেন। তাদের এই সফরের আরও একটি উদ্দেশ্য রয়েছে। এই লালমণির হাটকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি তিস্তা জলচুক্তি কার্যকরের একটা দাবি মাথাচাড়া দিচ্ছে। যদিও সেই খবর কিন্তু বাংলাদেশের গণমাধ্যমে খুব একটা ফলাও করে প্রচার করা হচ্ছে না। সে দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্রে ভিতরের পাতায় খুব ছোট আকারে প্রকাশ করা হচ্ছে। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা কর্তারা সেই বিক্ষোভে আঁচ কতটা, তার একটা আভাষ পেতে তারা সেখানে যান। তারা জানার চেষ্টা করে, কারা এই আন্দোলনের মাথা? কে তাদের উস্কানি দিচ্ছে। সূত্রের খবর, হাসিনা চাইছেন এই তিস্তা প্রকল্প ভারত কার্যকর করুক। আর তদারকি সরকার চাইছেন এই প্রকল্প চিনের হাতে তুলে দিতে। সেটা হলে ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে।
দেশে ফিরে তারা তাদের সফরের রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট মহলের হাতে তুলে দিয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post