প্রতিবেদনে যাওয়ার আগে দুটি তারিখ উল্লেখ করতে হয়। ৮ অক্টোবর এবং ৯ অক্টোবর। বাংলাদেশ সেনার বেশ কয়েকজন প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দিনটি ছিল ৮ অক্টোবর। পরের দিন ৯ অক্টোবর সে দেশের সেনার ৫৬ জন কর্তা গোপন বৈঠক করেন। একই দিনে ভারতীয় সেনার তরফ থেকে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানিয়ে দেওয়া তাদের গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল ঢাকা যাবে। উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। সেই সব ঘটনার জন্য তদারকি সরকার ভারতকে কাঠগড়ায় তুলেছে। ভারত কড়া ভাষায় তাঁর প্রতিবাদ জানিয়েছে। তবে সরাসরি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মাথা ঘামায়নি। এবার সেই পদক্ষেপ করল। ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদলকে ঢাকা পাঠানো হল। বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকেও বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাদের সফরে কথা জানিয়ে দেওয়া হয়। সূত্রের খবর, খোদ তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস তাদের সে দেশের সফরের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেন। তাদের এই সফর থেকে একটা বার্তা উঠে আসছে। ভারত আর চুপচাপ বসে থাকবে না। এই অবস্থায় ভারতীয় সেনার গোয়েন্দাকর্তারা ঢাকার যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।
ভারতের একটি সংবাদসংস্থা ১২ অক্টোবর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই প্রতিবেদনের শিরোনাম – আইসিটি সেট টু চার্জশিট ওয়ান ফিফটি অ্যাডিশনাল অ্যান্ড সার্ভিং রিটায়ার্ড অফিসার্স অব বাংলাদেশ আর্মি। এই শিরোনামে তারা বিশ্লেষণ করতে গিয়ে জানায় বাংলাদেশ সেনাপ্রধান ওয়াকার উজ জামান রীতিমতো চাপে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১৫০ জন সেনাকর্তার নামের একটি তালিকা তৈরি করেছে। সেই তালিকা অনুসারে জুলাই অভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে যারা হিংসাত্মক কার্যকলাপে লিপ্ত ছিল তাদের আইনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পৃথক একটি চার্জশিট আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হবে। বাংলাদেশ সেনার সরকারি ভাষ্যে এতোদিন বলা হচ্ছিল প্রাক্তন ও কর্মরত সেনা মিলিয়ে মোট ২৫ জনকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় নিয়ে আসার তোরজোর চলছে। অথচ ভারতের গণমাধ্যম ফাঁস করে দিল আসল তথ্য।
ফিরে যাওয়া যাক ভারতীয় সেনার গোয়েন্দা শাখার কয়েকজন কর্মকর্তার ঢাকা সফরের বিষয়ে। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে সাউথব্লক এতোদিন পর্যন্ত ঢাকা বা উত্তরপাড়ার কার্যকলাপ নিয়ে একেবারেই মাথা ঘামাতো না। কিন্তু সেনাবাহিনীর বেশ কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত এবং কর্মরত সদস্যদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করার পর ভারতীয় সেনা যেন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
সোমবার আরও একটি চাঞ্চল্যকর খবর পাওয়া গেল। ভারতীয় সেনাপ্রধান উপেন্দ্র দ্বিবেদী বৈঠক করেন বাংলাদেশ সেনার লেফটেন্যান্ট জেনারেল মহম্মদ মণিউর রহমানের সঙ্গে । বৈঠক হয়েছে জাতিসঙ্ঘে। সেখানে দুই দেশের সেনাপ্রধান একটা আলোচনচক্রে যোগ দেন। আলোচনাচক্রের শিরোনাম ইউনাইটেড নেশনস ট্রুপ কন্ট্রিবিউটিং কান্ট্রিস ফোরাম। সূত্রে পাওয়া খবরে জানা গিয়েচেন, দুই সেনাকর্তা দ্বিপাক্ষিকস্তরের নানা বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করেন। ঐকমত্যে পৌঁছান পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়েও। এই বৈঠকও নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে সে দেশের সেনাবাহিনীর প্রাক্তন এবং কর্মরত সদস্যের একাংশকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আওতায় আনার প্রেক্ষিতে। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে উত্তরপাড়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে আপাতত ওই ২৫জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার। সূত্রের খবর, এর পিছনে ভারতীয় সেনার বিশেষ ভূমিকা রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post