উমার কৈলাশে গমনের পরই মর্ত্যলোকে শুরু হয়ে যায় শক্তির পুজো কালী পুজোর প্রস্তুতি। কালী পুজো শহরাঞ্চলের পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ স্থানেই করা হয়। কালী পুজো ঘিরে যেমন রয়েছে গ্রামাঞ্চলে নানান অলৌকিক কথা। তেমনি অজানা রয়েছে রাজ্যের বহু গ্রামে কথিত কালী মন্দির ও কালী পুজোর কাহিনী।
একদিকে কালী পুজোয় যেমন মা কালী বিশেষ সাড়ম্বরে পূজিতা হন তারাপীঠ, কালীঘাট, দক্ষিনেশ্বর সহ বহু জায়গায়। অন্যদিকে বহু গ্রামাঞ্চলের আরাধ্য পূজিতা দেবীর কথা অনেকেরই অজানা। ইতিহাস ঘাটলে উঠে আসে এমন বহু গ্রামাঞ্চলের দেবী ও মন্দিরের কথা। যার কথা আপনি – আমি না জানলেও জানেন অনেকেই। যেইখানে সারাবছর দূরদূরান্ত থেকে ভক্তি ভোরে মায়ের কাছে ছুটে আসেন ভক্তরা। চলুন আজ তেমনি এক দেবী ও মন্দিরের কথা আপনাদের শোনাই,
সালটা ১৯৮৬, এলাকার দোকান ব্যবসায়ীদের হাত ধরে সূচনা হয়েছিল পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ঐতিহ্যবাহী বড় কালীপুজো। এই কালী প্রতিমাটি দশ ফুট উচ্চতার একটি পাথর খোদাই করে নির্মিত। যা এইখানকার স্থানীয় শিল্পকলার অনন্য নিদর্শনকে বহন করে। সময়ের সাথে সাথে পরে এলাকাবাসীদের চেষ্টায় মায়ের একটি মন্দির গড়ে তোলা হয়। এরপর পুনরায় মন্দিরটি নির্মিত করা হয় ২০১৬ সালে। মা কালী এইখানে পূজিতা হন বৈষ্ণবী রূপে। মায়ের সাথে পুজো করা হয় ডাকিনি ও যোগিনীর।
এই বড় কালী মন্দির পুরুলিয়ার রঘুনাথপুরের ভক্তির বড় একটি কেন্দ্রবিন্দু। পাশাপাশি রঘুনাথপুরের বড় কালী মন্দির বহন করে শহরের ঐতিহ্য ও ইতিহাসকেও। সারাবছরই মন্দিরে দেখা যায় ভক্তদের ঢল। পাশাপাশি প্রতি বছর এই সময় বড় কালীপুজোকে কেন্দ্র করে দেখা যায় আনন্দ, ভক্তি এবং ঐতিহ্যের মিলনমেলা। এই পুজোকে কেন্দ্র করে কালী পুজোর সময় রঘুনাথপুরে দেখা যায় এক ধর্মীয় ও সংস্কৃতিক উৎসবের আবহ। জাকজমকপূর্ণ ভাবে এবং মহাসমারোহে পালিত হয় বড় কালী মন্দিরে মা কালীর পুজো। শক্তির দেবী মা কালীর দর্শন পেতে দূর দূরান্ত থেকে আগত হন দর্শনার্থীরা।












Discussion about this post