কোনও কিছুতেই আর মুহাম্মদ ইউনূসের মুখ রক্ষা হচ্ছে না। এইবার জুলাই সনদ সাক্ষর করতে গিয়ে মুখ পুড়ল তার। মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে উত্তাল বাংলাদেশ। জুলাই সনদকে কেন্দ্র করে ইঁট ছোড়াছুড়ি থেকে লাঠিপেটা, বিক্ষোভ চলার পর দেখা গেল চেয়ার ফাঁকা। জুলাই সনদে সই করল না এনসিপি বা জাতীয় নাগরিক পার্টি। জুলাই সনদ সাক্ষরের পর তারই প্রতিবাদে ঢাকায় আক্রমণাত্বক বিক্ষোভ চলে জুলাই যোদ্ধা বলে দাবিদারদের। এদিকে অনেকে বলছেন ইউনূসের মূল উদ্দেশ্য একটাই, যতদিন সম্ভব বাংলাদেশে ক্ষমতায় টিকে থাকা। তার জন্য একের পর এক নাটক মঞ্চস্থ হচ্ছে ইউনূস সরকারের তরফে। সেই তালিকায় নতুন সংযোজন জুলাই সনদ স্বাক্ষর।
১৭ তারিখ আয়োজন করা হয়েছিল জুলাই সনদ স্বাক্ষরের অনুষ্ঠান। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ তাতে অংশগ্রহণ করলেন না। সেদিন দেখা গেল, আসলে জুলাই যোদ্ধা কারা, সেই নিয়ে লড়াই। এদিকে একদল ব্যক্তি নিজেদের জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে পড়ে ঝামেলা তৈরি করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে লাঠিপেটা করে পুলিশ। বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের খন্ডযুদ্ধ বাঁধে। যদিও পুলিশ সেনা নামিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে অনুষ্ঠানটি এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য পরিসর তৈরি করে। অনুষ্ঠান কোনওরকমে চালিয়ে নিয়ে যায় উদ্যোক্তারা। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, কেন নির্বাচনের আয়োজন না করে জুলাই সনদ সাক্ষরের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল। বাংলাদেশের গণতন্ত্র ফিরিয়ে দেওয়া, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আদেও কি রয়েছে এই জুলাই সনদ সাক্ষরে? এমনকি জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস তার বক্তব্যে সনদের গুরুত্ব তুলে ধরতে গিয়ে বহুক অপ্রয়োজনীয় ও অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনেছেন। প্রধান উপদেষ্টার এই বক্তব্যে আলংকারিক বাহুল্য ও শ্রেষ্ঠত্ববাদী অহমিকার চর্বিতচর্বণ ছাড়া আর কিছুই নেই। মোটাদাগে তার এই অন্তঃসারশূন্য বক্তব্য জাতিকে আশার আলো দেখাতে ব্যর্থ হয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, বাংলাদেশে যবে থেকে অন্তবর্তীকালীন সরকার গঠিত হয়েছে, তবে থেকে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ অশান্ত। এমনকি শান্ত করার কোনও লক্ষণই দেখা যাচ্ছে না। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট হচ্ছে। সেন্ট মার্টিন দ্বীপ বিদেশীদের হাতে তুলে দেওয়ার মতো ষড়যন্ত্র চলছে। কেউ কেউ আবার বলছেন, মুহাম্মদ ইউূসের মুকুটের পালকে নতুন করে অসম্মান যোগ হল, তা হল জুলাই সনদ সাক্ষর। কারণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হওয়ার ২৪ ঘন্টা আগে তার বিরোধীতা করে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছে। ঢাকার সংসদ ভবনের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিক্ষুব্ধকারী। তারা পুলিশের গাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। পাল্টা লাঠিপেটা করে পুলিশ। কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়ে পুলিশ। এমনকি তাতে আহত হন প্রায় ৩৬ জন। অনেকে বলছেন, বিশ্বের ইতিহাসে এই প্রথম হল, ইউনূসের জুলাই সার্কাস যাদের দান, সেই জুলাই যোদ্ধারাই ইউনূসের সার্কাসের প্রতিবাদ করল? আসলে তিনি বুঝতে পারছেন, তার দিন শেষ। এইভাবে বেশির দিন আর উপদেষ্টা সেজে সরকারি টাকা নয়ছয় করতে পারবেন না। আর বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবেন না তিনি। তাই তিনি নতুন নতুন নাটক তৈরি করে ক্ষমতায় আরেও কিছুদিন টিকে থাকতে চাইছে। আর তারই একটি মাধ্যম হল জুলাই সনদ সাক্ষর।












Discussion about this post