বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও বেশ কয়েকটি ঘটনার কারণে প্রবল উত্তেজক পরিস্থিতি। তাই সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠে যাচ্ছে। এই প্রশ্ন উঠার বড় ভূমিকা রয়েছে জাতিসংঘ। এর কারণ, বাংলাদেশ পুলিশের পর এইবার সেনাদের ফেরত পাঠাচ্ছে তারা। তবে কি আস্থা হারাচ্ছে জাতিসংঘ?
জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের একটি বড় অংশকে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতিসংঘ সদর দফতর। চলমান বৈশ্বিক আর্থিক সংকট ও বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার অংশ হিসেবে আগামী ৯ মাসের মধ্যে বিভিন্ন মিশন থেকে মোট ১ হাজার ৩১৩ বাংলাদে সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে বলেই জানা গিয়েছে। এর মধ্যে শান্তিরক্ষায় বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব মূলক অবস্থান আরো কিছুটা কম হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই জাতিসংঘ কঙ্গো প্রজাতন্ত্র থেকে বাংলাদেশ পুলিশের শেষ তিন কন্টজেনের প্রত্যাহারের নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ অনুসারে ১৮০ সদস্যের ইউনিট নভেম্বরের মধ্যেই দেশে ফিরবে। এই কন্টিনজেন্টের সদস্যরাই ছিলেন একমাত্র মহিলা পুলিশ ইউনিট। যারা মোতায়েন হয়েছিল দুই মাস আগে। জাতিসংঘ মহাসচিব অন্তনীয় গুতরেস শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আর্থিক সংকটের কারণে ১৫ শতাংশ বাজেট হ্রাসের নির্দেশ দিয়েছেন।এরমধ্যে ইউনিফর্মধারি সদস্যদের জন্য বরাদ্দ অর্থ ১৫ শতাংশ কমানো হচ্ছে। এর ফলে মাঠ পর্যায়ে শান্তিরক্ষা বাহিনী কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে।
এএফপি ৯ই অক্টোবর একটি প্রতিবেদনে জানায়, বিশ্বের ৯টি অঞ্চলের শান্তি রক্ষা মিশন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী কমিয়ে আনতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। এর সেই পরিমাণটা হল এক চতুর্থাংশ। এটার কারণ হিসেবে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা কমে যাওয়া। সেই কারণেই তহবিলের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। বাজেট কমানোর জেরে ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা সদস্য, পুলিশকে দেশে ফেরত পাঠানো হতে পারে।জানা যায়, ২০২৫-২৬ সালে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনের মোট বাজেটের পরিমাণ ছিল ৫৪০ কোটি ডলার। অনুদান হিসেবে ১৩০ কোটি ডলার দেওয়ার কথা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের। কিন্তু আমেরিকা জাতিসংঘকে জানিয়ে দিয়েছে, তারা বাজেটের অর্ধেক বা প্রায় ৬৮ কোটি ২০ লক্ষ ডলার দেবে। জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ সুদানে ইউএনমিস থেকে ৬১৭ সদস্যকে প্রত্যাহার করা হবে। মিনুসকা থেকে ৩৪১, ইউনিসফা থেকে ২৬৮, মনুসকো থেকে ৭৯ ও পশ্চিম সাহারার জাতিসংঘ মিশন মিনুরসো থেকে আট বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী প্রত্যাহার করা হবে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দশটি দেশে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষিবাহিনী কাজ করছেন। তারমধ্যে রয়েছে সুদান ও দক্ষিণ সুদানের মধ্যবর্তী সীমান্ত অঞ্চল আবেই, মধ্য আফ্রিকা, সাইপ্রাস, কঙ্গো, লেবানন, দক্ষিণ সুদান। এছাড়াও পশ্চিম সাহারা, ইয়েমন, লিবিয়া, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতর। জানা যায়, ১৯৮৯ সালে প্রথম নামিবিয়া মিশনে জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয় বাংলাদেশের পুলিশ। এখনও পর্যন্ত ২৪টি দেশের ২৬টি মিশনে পুলিশের ২১ হাজার ৮১৫ জন অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে ৩টি দেশে ১৯৯ জন শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে যদি বাজেট হ্রাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়, তবে ১৩ থেকে ১৪ হাজার সেনা, বেসরকারি কর্মী ছাঁটাই হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই সিদ্ধান্তের জেরে বাংলাদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তার কারণ শান্তিরক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরফে যে সেনাদের পাঠানো হয়, তার জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা বাংলাদেশ সেনাকে দিতে হয় রাষ্ট্রসংঘের। সেই টাকাটা আর বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পাবে না। আর সেখানেই একটি বড় ক্ষতির সন্মুখীন হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।












Discussion about this post