বাংলাদেশের সঙ্গে ১০ টি চুক্তি বাতিল হয়েছে ভারতের। গত রবিবার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এমনই একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। এরপরই তোলপাড় শুরু হয় ওপার বাংলায়। ওপার বাংলারই বহু রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারতের সঙ্গে চুক্তি বাতিল নয়, বরং ভারতের অনাগ্রাহতার কারণে চুক্তি বাতিল হতে পারে। তবে মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেছেন, যে চুক্তিগুলির কথা বলা হচ্ছে, তারমধ্যে অনেকগুলির চুক্তির কোনও অস্তিত্ব নেই। এমনকি তিনি আওয়ামী লীগের আমলে হওয়া ভারতের সঙ্গে কয়েকটি চুক্তি বা প্রকল্প বাতিল হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসিফ মহামুদ সজীব ভূঁইয়া যে পোস্ট দিয়েছেন, সেটা উড়িয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন। অর্থাৎ যে চুক্তি বা প্রকল্পের কথা বলা হচ্ছে, সেগুলির বেশিরভাগ কোনও অস্তিত্ব নেই। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে পর্যালোচনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার রাতে স্বগর্বে চুক্তি বাতিলের কথা জানিয়েছিলেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। এমনকি চুক্তি বাতিলের একটি স্ক্রিনশট আপলোড করেন তিনি। সঙ্গে লেখেন, অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর চুক্তিগুলি নিয়ে আলোচনা হয়। চুক্তির খুঁটি নাটি বিষয় নিয়ে পর্যালোচনার পর তদারকি সরকার চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিকে এই নিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, এই বিষয়ে আমি কিছু বলব না। তবে বেশ কিছু চুক্তি বা প্রকল্পের অস্তিত্ব নেই।
তবে কোন কোন চুক্তি বাতিল হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে? জানা যায়, বাতিল হওয়া চুক্তির মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম-ত্রিপুরা রেল প্রকল্প, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ প্রকল্প, আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডোর, ফেনী নদী জল প্রকল্প, বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি, ফারাক্কাবাদ প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তা প্রস্তাব, সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি গার্ডেনরিচ শিপ বিল্ডার্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড-য়ের সঙ্গে টাগ বোগ চুক্তি। পাশাপাশি ভারতের গৌতম আদানির সংস্থা আদানি পাওয়ার-য়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত চুক্তিটিও তদারকি সরকার খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
প্রসঙ্গত, গত বছর শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর হাসিনার আমলে হওয়া চুক্তি বাতিলের জন্য পাকিস্তানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলি লাগাতার চাপ দিতে থাকে অন্তবর্তীকালীন সরকারকে। তাদের দাবি ছিল, পায়রা বন্দর উন্নয়ন, বিদ্যুৎ ক্রয়-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি বাতিল করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ককে একেবারে বিচ্ছেদের দিকে নিয়ে যেতে চেয়েছে পাকিস্তানপন্থীরা। যারা এখন বাংলাদেশ শাসন করছে প্রায় সামনের সারিতে দাঁড়িয়ে। যেটা বাংলাদেশের জন্য দুর্ভাগ্যজনক তো বটেই, পাশাপাশি এই দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বাংলাদেশের মানুষ। সুযোগ, সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমনকি প্রতিবেশী দেশ ভারত সবরকম সুযোগ সুবিধা বাতিল করে দিচ্ছে বাংলাদেশের জন্য। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে বাংলাদেশের জনগণ। যেটা বুঝছে না মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার। তবে এটাও জেনে রাখা উচিত, যে সরকারই নির্বাচিত হয়ে বাংলাদেশের সিংহাসন দখল করবে, তাদের এর জন্য আপসোস করতে হবে। বলছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এখন দেখার, সময় আসলে কি নিয়ে আসে বাংলাদেশের সূদূর ভবিষ্যতের জন্য!












Discussion about this post