দিন কয়েক আগে বাংলাদেশ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন লিখতে গিয়ে উল্লেখ করতে হয়েছিল যে তদারকি সরকারের বড়ো কর্তা যদি বলেন এখন দিন, তো মেজ কর্তা উঁহু করে মাথা না়ড়বেন এবং বলবেন হতেই পারে না। এ ঘোর সন্ধ্যা। এখন দেখা যাচ্ছে শুধু তদারকি সরকারের কর্তারা নন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ( ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম এক কথা বলছেন। আর সেনাবাহিনী ঠিক উল্টোটা বলছে। তাদের বলাবলির বিষয় বাহিনী সদস্যদের যাদের আইসিটির আওতায় আনা হয়েছে।
বাহিনীর তরফ থেকে জোর গলায় বলা হয়েছে, পুলিশ এদের গ্রেফতার করেনি। এরা আত্মসমর্পণ করেছে। কারণ এরা বাংলাদেশের সংবিধান, আইনের প্রতি দায়বদ্ধ এবং শ্রদ্ধাশীল। আর তাজুল ইসলাম বলছেন মোটেই না। পুলিশ এদের গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছে। হয়তো তিনি এটাও বলতে পারতেন যে ওদের চ্যাংদোলা করে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে বা কলার টানতে টানতে, মারতে মারতে আদালতে নিয়ে আসা হয়েছে। শত হলেও চিফ প্রসিকিউটর। তাই, কিছুটা হলেও ভাষা ব্যবহারে তিনি অনেকটাই সংযত ছিলেন।
তাজুল ইসলাম বলেছেন, মানবতা বিরোধী অপরাধে তিন মামলায় অভিযুক্ত ১৫ সেনাকর্তা আত্মসমর্পণ করেনি। বরং তাদের পুলিশ গ্রেফতার করে আদালতে হাজির করেছে। বুধবার শুনানি শেষের পর আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আসল অপরাধীরা ভারতে পালিয়ে গিয়েছে এবং তাঁর মক্কেলরা নির্দোষ। অপর দিকে তাদের পক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন, সেনা সদর দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, আইন ও আদালতের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ওই ১৫ কর্মকর্তাকে স্বেচ্ছায় ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেছেন। তারা সবাই সিনিয়র এবং অভিজ্ঞ কর্মকর্তা – যাদের অনেকেই আন্তর্জাতিক মিশনে কাজ করেছেন। তাঁরা সবাই আদালতের মাধ্যমে ন্যায় বিচার প্রত্যাশা করেন।’ প্রশ্ন উঠছে অন্য জায়গায়। আদালতে আত্মসমর্পণের আগের পর্যায় নিয়েই প্রশ্ন। তারা কী গ্রেফতার না আটক। পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাকে আদালতে পেশ করতে হয়। আদালত ঠিক করে দেবে, যাকে কাঠগডায় পেশ করা হয়েছে, তিনি কোথায় থাকবেন? তিনি জামিনের জন্য আবেদন করলে জামিন মঞ্জুর হবে কি না? ১১ অক্টোবর বাহিনীর তরফ থেকে এই ইস্যুতে বলা হল ওই ১৫জনকে তারা তাদের হেফাজতে নিয়েছেন। তাজুল ইসলাম জানিয়েছে, সেনাবাহিনীর কোনও ক্ষমতা নেই এদের গ্রেফতার করার। একমাত্র পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারে।
এই ইস্যুতে সরকারের বিবৃতি, ট্রাইব্যুনালের বিবৃতি এবং সেনাবাহিনীর বিবৃতি – পরস্পর পরস্পর বিরোধী। যা থেকে এটা আরও একবার প্রমাণ হয়ে যাচ্ছে বাহিনীর ১৫ জন সদস্যকে নিয়ে এই তিনের মধ্যে চুড়ান্ত টানাপোড়েন চলছে। চলছে দর কষাকষি। এই তপ্ত আহবে রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর দফতর থেকে একটি বিবৃতি জারি করা হল। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সেনানিবাসের একটি অংশকে অস্থায়ী কারগার হিসেবে তৈরি করা হয়েছে। এই নিয়ে বিবৃতি পালটা বিবৃতি এসেছে। প্রশ্ন উঠছে, যদি মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ গ্রেফতার হওয়া কোনও ব্যক্তিকে সাধারণ কারাগারে রেখে বিচার চলতে পারে, তাহলে এদের কেন জন্য সেনা নিবাসের একটি অংশকে অস্থায়ী ছাউনি হিসেবে ঘোষণ করা হল যেখানে তাদের রাখা হবে। কিন্তু কাদের রাখা হবে, সে বিষয়ে কোনও প্রান্ত থেকে কিছু বলা হয়নি। তাই, খটকা লেগেই রয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post