বাংলাদেশের আকাশে বাতাসে এক অস্থির পরিস্থিতি হঠাৎ স্তব্ধ সেনানিবাস ক্যান্টনমেন্ট। বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অপহরণ, হত্যা ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগে সেনাবাহিনীর ১৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিচারপতি এম গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ ‘পলাতক’ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ জারি করেছে।এই সামরিক আধিকারিকদের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার প্রধানমন্ত্রিত্বকালীন সময়ে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছিল।কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থেকে একটি সেনা বাসে করে ওই ১৫ জন সেনা আধিকারিককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। জানা যায় তারা প্রত্যেকেই হাসিনা পন্থী বলেই পরিচিত,এদের মধ্যে রয়েছেন এক মেজর জেনারেল, ছয় ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, কয়েকজন কর্নেল, লেফটেন্যান্ট কর্নেল ও মেজর। গত ৮ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর গত ১১ অক্টোবর সেনা কর্তৃপক্ষ ওই ১৫ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। প্রধান অভিযুক্ত শেখ হাসিনা এখনও পলাতক।
যা তিনি ভারতের আশ্রয় রয়েছে বলেই খবর।ট্রাইব্যুনালের নির্দেশ ঘোষণার পর সরকারের প্রধান আইনজীবী তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “আজ আদালতে হাজির করানো ১৫ জন সেনা আধিকারিককে অপহরণ, হত্যা ও হেফাজতে নিয়ে নির্যাতনের মামলায় কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।” তিনি জানান, এদিন আদালত কোনও জামিনের আবেদন শুনতে চায়নি। আগামী ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি, তার আগে জামিনের আবেদন করা যেতে পারে। এরই মধ্যে আবার আগামী ফেব্রুয়ারিতে সম্ভাব্য জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তুঙ্গে। অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন সরকার সম্প্রতি ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন করে শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচারের পথ খুলে দেয়। তার মানে দুধ কা দুধ পানি কা পানি হতে মানুষের অসুবিধা হলো না যে সবটাই চলছে ইউনূসের কূটনীতিতেই। হাসিনা পন্থী কর্মরত সেনা আধিকারিকদের অসামরিক আদালতে হাজির করা এবং বিচার প্রক্রিয়া চালানো নিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে প্রবল অসন্তোষ দানা বেঁধেছে যা ইউনূস সাহেব আগে থেকেই জানতেন এমনটা যে হতে চলেছে।কয়েকজন প্রাক্তন সেনাকর্তা ও প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই বিচার সেনাবাহিনীর মনোবলে আঘাত হানতে পারে। এখানেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে তবে সেনাবাহিনী প্রধান অর্থাৎ জেনারেল ওয়াকার উজ জামান তিনি কি করছিলেন? এতদিন তবে কি তিনি জল মেপে এগোচ্ছিলেন যখনই বুঝলেন ইউনূসের পাল্লা ভারী সুযোগ বুঝে তিনি সেই দিকেই ঝুঁকে পড়লেন তা নিয়ে যথারীতি ক্যান্টনমেন্টে অশান্তি তুঙ্গে ওঠে সেনাবাহিনীর মধ্যে।
অন্যদিকে, প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ইউনূস সরকারকে সতর্ক করে বলেছে, সেনাবাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এমন কোনও পদক্ষেপ যেন না করা হয়। কিন্তু চাষা নাহি শোনে ধর্মের কাহিনী। এখানেও তার বিকল্প হলো না ইউনূস সেনাপ্রধান আর বাহিনীর মধ্যে অশান্তি লাগিয়েই ছাড়লেন। অন্যদিকে হাসিনার প্রসঙ্গ না বললেই নয় কারণ তিনিই প্রধান উপদেষ্টার যে মূল টার্গেট তা ৮ থেকে ৮০ প্রত্যেকের বোধগম্য।২০১০ সালে শেখ হাসিনার আমলেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মূলত মুক্তিযুদ্ধের সময়কার অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত হয়েছিল। বর্তমানে সেই ট্রাইব্যুনালই ব্যবহৃত হচ্ছে তাঁর আমলের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিচার প্রক্রিয়ায়।বর্তমানে আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ শীর্ষ নেতা হয় জেলবন্দি, না হয় আত্মগোপন করে আছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। আবার বা কেউ রয়েছে ভারতে।অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী প্রশাসন শেখ হাসিনার দলের প্রকাশ্যে কাজকর্ম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে এবং আসন্ন নির্বাচনে তারা লড়তে পারবে না। এই পরিস্থিতিতে ১৫ জন সেনা আধিকারিকের কারাদণ্ডের নির্দেশ বাংলাদেশের রাজনৈতিক এবং সামরিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করল। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে শেখ হাসিনার আমলে ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০টি চুক্তি বাতিল করেছে ইউনূস সরকার।সোমবার বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১০টি চুক্তি বাতিল করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। তিনি তাঁর পোস্টে ভারতের সঙ্গে বাতিল ও বিবেচনাধীন চুক্তি-প্রকল্পগুলির একটি তালিকাও প্রকাশ করেন। যেগুলি হল ত্রিপুরা-চট্টগ্রাম রেল সংযোগ প্রকল্প, অভয়পুর-আখাউড়া রেলপথ সম্প্রসারণ, আশুগঞ্জ-আগরতলা করিডর, ফেনী নদী জল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, বন্দরের ব্যবহার সংক্রান্ত সড়ক ও নৌপথ উন্নয়ন চুক্তি, ফারাক্কাবাদ সংক্রান্ত প্রকল্পে বাংলাদেশের আর্থিক সহযোগিতা প্রস্তাব, সিলেট-শিলচর সংযোগ প্রকল্প, পেট্রোলিয়াম পাইপলাইন সম্প্রসারণ চুক্তি, ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং ভারতীয় প্রতিরক্ষা কোম্পানি জিআরএসইর সঙ্গে টাচ বোট চুক্তির কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন তৌহিদ বাতিল হওয়া চুক্তিকে বাংলাদেশের পক্ষে লাভজনক নয় দাবি করেন।
তবে এখানেই প্রশ্ন তবে কেন ইউনুস সাহেব এমনটি চাইছেন তবে কি ভারতের সাথে সম্পর্ক তলানিতে নিয়ে যাওয়াই তাঁর প্রধান উদ্দেশ্য? তৌহিক আরও বলেন, “ঢাকা এবং দিল্লির মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতেই চুক্তি ভাঙার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই চুক্তি যেমন বাতিল হয়েছে আবার অন্যদিকে সরকার বর্তমানে আদানির কোম্পানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এবং ভারতের ঋণের অধীনে চলা আরও কিছু প্রকল্প পর্যালোচনা করছে।’ এখন বোঝাই যাচ্ছে ইউনুস সাহেব যে এক ঢিলে দুই পাখি মারার পরিকল্পনা করেছেন। একদিকে ভারতের সাথে হাসিনার আমলের ১০ মূল্যবান চুক্তি বাতিল করে ভারত সহ হাসিনাকে ব্যাক ফুটে ফেলে দেওয়া অন্যদিকে হাসিনার ঘনিষ্ঠ ১৫ সেনা কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের মধ্যে দন্দ লাগিয়ে বাংলাদেশের সেনা ব্যবস্থাকে ভেঙে দেওয়া। যাতে করে ইউনুস সাহেবের সিংহাসনকৃত গদি উনি বজায় রাখতে পারেন তার দিকেই এগোচ্ছে ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের ইতিহাস।












Discussion about this post