প্রতিবছরের মতো এবছেরও আলোর উৎসব দীপাবলিতে শুভেচ্ছাবার্তা এল সূদূর হোয়াইট হাউজ থেকে। বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আজ আমি আজকের (২১ অক্টোবর, বুধবার) এই শুভদিনে প্রত্যেক মার্কিন নাগরিককে দীপাবলি উৎসবের শুভেচ্ছা জানাই। আলোর উৎসব দীপাবলি আমাদের মনে করিয়ে দেয় দুর্ভাগ্যের ওপর আলোর জয়, বন্ধু পরিবারের সঙ্গে মিলিত হওয়ার সময় , সমাজের সুখ-শান্তি পুনর্নবীকরণের উৎসব হল দীপাবলি। যতজন প্রদীপ ও লণ্ঠন জ্বালাবেন, আলোর চিরন্তন সত্যে আনন্দ প্রকাশ করুন। মঙ্গল অবশ্যই অমঙ্গলের ওপর জয়ী হয়। সবাইকে স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির আশার কামনা জানাই। এই প্রদীপ অন্ধকারের ওপরে আলোর, অজ্ঞানের ওপরে জ্ঞানের এবং মন্দের ওপর ভালোর জয়ের প্রতীক। ’
গত বছরেও ট্রাম্প আলোর উৎসব দীপাবলিতে শুভেচ্ছাবার্তা দিয়ে থাকেন। এটা রুটিন কার্যক্রম বলা যেতে পারে। তবে দীপাবলী উপলক্ষ্যে এবার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, সেই বার্তার শব্দবন্ধনির দিকে লক্ষ্য করা যাক। তিনি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন পরিবার, সম্প্রীতি,স্থায়ী শান্তি ও সমৃদ্ধির ওপর। এবারের বার্তার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, তিনি কিন্তু সরাসরি বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি। তবে ঘুরিয়ে করেছেন।
ট্রাম্প দীপাবলিতে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতকেও। ওই দিন রাতে ওভাল অফিস থেকে ফোন যায় ৭ নম্বর লোককল্যাণ মার্গে। ট্রুথ সোশ্যালে তিনি নিজেই এই ফোনালাপের কথা জানান। যদিও সাউথব্লক থেকে এই খবর লেখা পর্যন্ত কোনো সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি। এবার ট্রাম্পের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে আলোচনা করা যাক। প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে এত কিছু ঘটে যাওয়ার পরেও কেন ট্রাম্প একটি শব্দ খরচ করলেন না। অথচ, তিনি দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী মোদির সঙ্গে তার ফোনালাপের পাকিস্তানের প্রসঙ্গ উঠেছে। এদিকে, একটি সূত্র বলছে ভারতের বিদেশমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর এবং মার্কিন বিদেশ সচিব মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা হয়। জয়শঙ্করকে ফোন করেছিলেন রুবিও। সূত্রটি জানিয়েছে, কথায় কথায় তিনি বাংলাদেশের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। সূত্রটির দাবি, সম্প্রতি ভারতের সেনাগোয়েন্দাদের ঢাকা সফরের বিষয়টি আমেরিকা জানত। বলা ভালো সাউথব্লক থেকে ওয়াশিংটনকে অবগত করানো হয়। ওয়াশিংটন থেকে ফোন যায় জেনারেল ওয়াকার এবং তদারকি সরকার প্রধান ইউনূসের কাছে। সে সময় এই নিয়ে যে খবর প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে উল্লেখ করা হয়, যমুনাভবন, উত্তরপাড়া ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের আমন্ত্রণ জানায়। তবে এখন যে তথ্য উঠে এসেছে, সেটি হল, তাদের আমন্ত্রণ জানাতে আমেরিকা থেকে চাপ এসেছিল।
প্রশ্ন উঠছে, বাংলাদেশে বিভিন্নস্তরে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা যে বৈঠক করেন, সে সব বৈঠকের নির্যাস কী? প্রথমটি হল সেখানকার নির্বাচন নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া। ভারত চাইছে, নির্বাচন এগিয়ে আনতে। ফেব্রুয়ারি নয়, ডিসেম্বরের মধ্যে যাতে ভোট করা যায়, সে বিষয়ে ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। আর যেটা সব থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা হল সেনা গোয়েন্দাদের তরফ থেকে জেনারেল ওয়াকার উজ জামানকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হলেও বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশে ফিরবেন। কীভাবে ফিরবেন, তার নীল নকশাও তৈরি হয়ে গিয়েছে। সেটা জেনারেল ওয়াকারকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post