মুজিব কি আর সাধে বলেছিলেন ‘সাত কোটি মানুষকে আর দাবায়ে রাখতা পারবা না। বাঙ্গালী মরতে শিখেছে। তাদের কেউ দাবাতে পারবে না। রক্ত যখন দিয়েছি, রক্ত আরও দেব। এই দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম। ’ মুজিবের আদর্শ যে দলের পাথেয়, সে দলকে যে কোনওভাবে ‘দাবায়ে’ রাখা যাবে না, সেটা আরও একবার প্রমাণ করে দেখাল আওয়ামী লীগ। তারা এবার তাদের মিছিলের রণকৌশল বদলে নিয়েছে। তারা এবার ঝটিকা মিছিল কর্মসূচি নিয়েছে। তাদের এই কর্মসূচির পিছনে রয়েছে গত ২৪ সেপ্টেম্বরের একটি ঘটনা।
ওই দিন আওয়ামী লীগ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মিছিল বের করে একটা কেন্দ্রে জড়ো হওয়ার দিকে প্রায় অগ্রসর হচ্ছিল, সেই সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক লপ্তে গ্রেফতার করে দলের কয়েকশো কর্মী সমর্থককে। ওই কর্মসূচি নিয়ে গোয়েন্দাদের তরফে সরকারকে একটি রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। সেই রিপোর্টে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের অভিসন্ধি ছিল ঢাকা দখল করা। পরে গ্রেফতার হওয়া নেতাদের পুলিশ জেরা করে বেশ কিছু গোপন তথ্য উদ্ধার করে। সেই নীল নকশা ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর আওয়ামী লীগ এই ধরনের কর্মসূচি থেকে নিজেদের বিরত রাখে। কারণ, পুলিশ তাদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতে অনেকটাই সক্ষম হয়েছে। প্রায় এক মাস বাদে আওয়ামী লীগ ফের রাস্তায় নেমেছে।
পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নিষিদ্ধ হওয়া আওয়ামী লীগ এবং তাদের অঙ্গ সংগঠনের ১৩১জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ঝটিকা মিছিল কর্মসূচির। এই মিছিল সম্পর্কে আরও কিছু তথ্য উঠে আসছে। তারা মিছিল বের করেছে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে, বিভিন্ন সময়ে। এই কর্মসূচি গোয়েন্দাদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে তদারকি সরকার।
আওয়ামী লীগ যে সব জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করেছেন, সেই সব এলাকাগুলি হল কুর্মিটোলায় জেনারেল হসপিটাল, আখরা, ওয়ারীর জয়কালী মন্দির, ধানমন্ডির আবাহনী মাঠ, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল, সাতরাস্তা মোড়, বাটা সিগন্যাল, উত্তরা তিন নম্বর সেক্টর, আগারগাঁও বেতার ভবন, রমনার মৎস্যভবন। পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তাদের মধ্যে কয়েকজনের নাম জানা গিয়েছে। এরা হলেন এখলাস মিয়া, মো. জিয়াউর রহমান, সাইফুল ইসলাম, জুয়েল আহম্মেদ রনি, মো. আক্তার হোসেন, মো. রিয়াজ উদ্দিন।
তবে আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেজে বলা হয়েছে, তারা রাজধানীর ৩৫টি স্পটে একসঙ্গে মিছিল করেছে। দিয়েছে জয়বাংলা স্লোগান। এই ঝটিকা মিছিলের খবর এল এমন একটা সময়, যখন তদারকি সরকার নানা দিক থেকে চাপে রয়েছে। তাদের সেই চাপ বাড়িয়ে দিয়েছে ছটি মানবাধিকার সংগঠনের যৌথ চিঠি। চিঠিতে এমন কিছু বিষয়ে তারা গুরুত্ব দিয়েছে, যা একেবারেই তদারকি সরকারের না পসন্দ। যেমন তারা বাক স্বাধীনতার ওপর জোর দিয়েছে। জোর দিয়েছে আওয়ামী লীগের ওপর থেক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে। বিনা অভিযোগে পুলিশ যাদের গ্রেফতার করেছে, তাদের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে। আর প্রমাণ পেশ করতে না পারলে তাদের অবশ্যই ছেড়ে দিতে হবে। এই চিঠির খবর পেয়েছে আওয়ামী লীগ। তাতে তারা বেশ উজ্জীবিত। তার এক ঝটকা তারা দেখিয়ে দিল ঝটিকা মিছিল কর।












Discussion about this post