সেনা কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করে এক মারাত্মক ঝুঁকি নিলেন সেনাপ্রধান ইউনূস। এই ঘটনায় বাহিনীর মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এমনকী সেনার মধ্যে বেশ কয়েকটি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। এই গোষ্ঠীর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির পাল্লা বেশি। সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মূল অভিযোগ, বাহিনীর বেশ কয়েকজন মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত। তাই, বিচারের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের সুশীল সমাজ বলছে, অত্যন্ত জঘন্য এবং নিকৃষ্টতম কাজ করেছেন সেনাপ্রধান ওয়াকার। যে বাহিনীর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অমানবিক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেই বাহিনী কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছিল। আর তাদের মান সম্মান ভূলুণ্ঠিত করা হয়েছে। তাছাড়া মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার যে অভিযোগ বাহিনীর বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে, সেই কাজ তো বহু বাহিনীর গুপ্ত শাখা করে থাকে। কারণ, সরকারকে ফেলার একটা চেষ্টা তলায় তলায় করে থাকে। রাজনৈতিক দলগুলি করে প্রকাশ্যে। আর থাকে অদৃশ্য শক্তি. যাদের সহজে চোখে দেখা যায় না। আর তাদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন দেশে রয়েছে গুপ্তচর সংস্থা।
আমেরিকার কথাই ধরা যাক। তাদের রয়েছে সিক্রেট সার্ভিস। দেশের স্বার্থে বা সরকারের স্বার্থে যদি তারা কয়েক হাজার লোককে গুলি করে মারে, তাহলে এর জন্য কোথাও জবাবদিহি করতে হয় না। একই কথা প্রযোজ্য ভারতের ক্ষেত্রেও। জবাবদিহি যেমন করতে হয় না, তেমনই গুপ্তচর সংস্থা সেই সব কর্মী, যারা দেশের স্বার্থে মানুষকে গুলি করে মেরেছে, তাদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসার ধৃষ্টতা দেখায় না। এটা করা মানে আগুন নিয়ে খেলা। বাংলাদেশে এখন সেটাই হয়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার এবং তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস হাতে হাতে মিলিয়ে এই বাহিনীর ওই সব সদস্যের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত থাকার অভিযোগ তুলে তাদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে।
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্ষেত্রে সেনাবাহিনী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বলা হয়, এই দুই দেশের সরকারে যিনিই আসীন হন না কেন, সেনার সমর্থন না থাকলে বেশিদিন গদিতে টিকে থাকা সম্ভব নয়। কারণ, সেনার হাতেই রয়েছে দেশ শাসনের রিমোট। ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে রাষ্ট্রপতি আসলে নাম সর্বস্ব শাসক। কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে। সব ক্ষমতা থাকে প্রধানমন্ত্রীর হাতে।
বাংলাদেশ এমনিতেই নানা কারণে উত্তাল। পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে সেনাবাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে বিচারের আওতায় আনা। এই ঘটনায় বাংলাদেশ তোলপাড়। কারণ, বাহিনী কী ভূমিকা নিতে পারে, বাংলাদেশবাসী তার সাক্ষী। তাই, এই বিচার নিয়ে নানা প্রশ্ন ঘুরতে শুরু করে। তাহলে সেনাবাহিনী কী ক্ষমতা দখল করতে চলেছে? বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে নানা মিথ তৈরি হয়। তার মধ্যে একটি হল, সেনাসদস্য, তিনি অবসরপ্রাপ্ত হোন বা কর্মরত, তারা যদি কোনও অপরাধ করে থাকেন, তাহলে তাদের বিচার হবে সেনা আদালত। এই ঘটনায় সেই মিথ ভেঙে দেওয়া হল। তাদের বিচার হবে সেনা আদালতের বাইরে অর্থাৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইম ট্রাইব্যুনাল বা আইসিটি)। তবে একটি বিষয় এখনও স্পষ্ট হয়নি, তা হল তাদের কোথায় রাখা হবে? বাহিনীর তরফ থেকে একটি অস্থায়ী কারাগার তৈরি করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, সেখানেই তাদের রাখা হয়েছে। যদিও আইসিটি-য়ের চিফ প্রসিকিউটার তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, থাকার ব্যাপারটি নিশ্চিত করে ট্রাইব্যুনাল। এর অর্থ, সব ক্ষেত্রে বাহিনী শেষ কথা বলবে না। এমন বহু ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে শেষ কথা বলবে আদালত। বিশেষ করে বিচার প্রক্রিয়ায় তাদের কথাই শেষ কথা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post