বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও প্রশাসনিক দুর্বলতার প্রেক্ষাপটে একাধিক বিশ্লেষক অভিযোগ করছেন যে সরকার তার ক্ষমতা সংহত করতে গিয়ে প্রথমে পুলিশ বাহিনীকে দুর্বল করেছে এবং এখন সেনাবাহিনীর ভিত নড়বড়ে করে তুলছে। এই প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর বর্তমান প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।গত কয়েক মাসে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও নেতৃত্বের সংকট নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ পেয়েছে। সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, “দেশকে এগিয়ে নিতে হলে ভালো মানুষ হতে হবে” এবং শৃঙ্খলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তার বক্তব্য বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।বিশ্লেষক সায়ের তার এক লেখায় উল্লেখ করেন, “বর্তমান প্রশাসন অজান্তেই বাংলাদেশকে বিদেশি শক্তিগুলোর জন্য একটি যুদ্ধক্ষেত্রের দিকে ঠেলে দিচ্ছে” এবং সেনাপ্রধানের বক্তব্যকে ‘প্রক্সি যুদ্ধের’ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে মতবিরোধ, পদোন্নতি নিয়ে অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের অভিযোগও সামনে এসেছে। সেনা বারবার দেশের অভ্যন্তরীন বিষয়ে নাক গলিয়েছে, এবং দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে নষ্ট করেছে।
পুলিশ বাহিনীর ক্ষেত্রে অতীতে রাজনৈতিক ব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও, সাম্প্রতিক সময়ে তাদের কার্যকারিতা ও জনসেবার ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। একই ধারা সেনাবাহিনীতেও দেখা যাচ্ছে, যেখানে অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার অভাব এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ উঠেছে। হয়তো সেনারা দেশের অভ্যন্তরের সুরক্ষার নামে রাজনৈতিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ছে নিজেদের অজান্তে অথবা পদ প্রতিষ্ঠার লোভে। যার ফল সেনাদের ট্রাইব্যুনালে এনে বিচার।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ২০২৪ সালে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং তার পূর্বসূরী এস এম শফিউদ্দিন আহমেদের সময়কার কিছু সংস্কারকে বাতিল করেন। তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর কিছু কৌশলগত সিদ্ধান্ত যেমন করিডোর ও বন্দর ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সরকার যদি নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর কাঠামোগত স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্ব রক্ষা না করে, তাহলে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়বে।
বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে পরিকল্পিতভাবে দুর্বল করার অভিযোগ ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। প্রথমে পুলিশ বাহিনীকে রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণে এনে কার্যত অকার্যকর করে তোলার পর, এবার সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরেও একই কৌশল প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের ভূমিকা নিয়ে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সরকারের ‘নিয়ন্ত্রণনীতি’ এখন আর গোপন নয়। পুলিশ বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার, পদোন্নতিতে অনিয়ম, এবং মাঠপর্যায়ে পেশাদারিত্বের চরম সংকট—এসবই এখন পুরনো অভিযোগ। কিন্তু সেনাবাহিনীর মতো সংবেদনশীল ও কৌশলগত বাহিনীর অভ্যন্তরে একই ধরনের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ শুরু হওয়ায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
একজন অবসরপ্রাপ্ত জেনারেল বলেন, “ওয়াকার-উজ-জামান সেনাবাহিনীর ঐতিহ্য ও পেশাদারিত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করছেন। এটি শুধু সেনাবাহিনীর মনোবল নয়, দেশের সার্বভৌমত্বের জন্যও হুমকি।”
সাম্প্রতিক সময়ে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরে শৃঙ্খলাভঙ্গ, অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতের অভিযোগ সামনে এসেছে। করিডোর ব্যবস্থাপনা, বিদেশি প্রশিক্ষণ চুক্তি, এবং অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন—এসব সিদ্ধান্তে সেনাপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
সরকারের এই ‘নিয়ন্ত্রণের খেলা’ যদি চলতেই থাকে, তাহলে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। সেনাবাহিনীকে দুর্বল করে সরকার হয়তো স্বল্পমেয়াদে সুবিধা পেতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এর মূল্য দিতে হবে গোটা জাতিকে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post