আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সঙ্ঘ বা ইসকনকে নিয়ে বাংলাদেশে আবারও বিক্ষোভে উত্তাল। এবার ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি তুলে রাজধানী ঢাকা-সহ গোটা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করল ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন। লক্ষ্য করার বিষয় হল, কোনও রাজনৈতিক বা ধর্মীয় সংগঠন সরাসরি এই আন্দোলনে অবতীর্ণ হয়নি, ‘তৌহিদী জনতা’র নামের আড়ালে চলছে যাবতীয় খেলা। শুক্রবার জুম্মার নমাজের পরেই ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে একটি বড় বিক্ষোভ মিছিল বের করে ‘তৌহিদী জনতা’। এটা ছিল তাঁদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি। ঠিক একই সময়ে দেশের প্রায় প্রতিটি জেলা-শহরে ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল বের হয়। অর্থাৎ, একটা সুসংহত বিক্ষোভ কর্মসূচি।
অন্যদিকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশে ‘ইসলামিক রিভোলিউশনারি আর্মি’ তৈরির চেষ্টা শুরু করেছে মুহাম্মদ ইউনূস সরকার। জানানো হয়েছে, রিজার্ভ ফোর্স হিসেবে প্রায় ৪০ হাজার যুবককে অস্ত্রশস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজ শুরু করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এরমধ্যে প্রথম দফায় ৮,৮৫০ জনকে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, জুলাই আন্দোলনের সময় লুঠ হওয়া পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর বিপুলমাত্রার অস্ত্রশস্ত্রই ব্যাবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে এ ক্ষেত্রে। আবার পাশাপাশি এই ৪০ হাজার যুবক যে একটা বিশেষ মতাদর্শের হবেন, সেটা না বলে দিলেও চলবে। মূলত জামাত ও কয়েকটি কট্টরপন্থী ইসলামিক সংগঠনের বাছাই করা সদস্যরাই এই বাহিনীতে নিয়োগ হবেন। তাঁরা যে কোনও সময় যে কোনও পরিস্থিতিতে অস্ত্র হাতে ঝাঁপিয়ে পড়তে তৈরি থাকবেন। বলাই বাহুল্য কাদের জন্য এবং কোন উদ্দেশ্যে এদের ব্যবহার করার পরিকল্পনা হচ্ছে। মূল টার্গেট যে ভারতই, সেটা বলে দিতে হবে না।
এই দুটি ঘটনা বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে, মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ কোন পথে চলতে চাইছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, গোটা বিষয়টাই মার্কিন ডিপ স্টেটের খেলা। তাঁরা এই মুহূর্তে বাংলাদেশকে ব্যবহার করেই ভারতে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চাইছে। মার্কিন ডিপ স্টেটের টার্গেট ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সামনে যতই বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চলুক। আসলে ভারতের এই অর্থনৈতিক উত্থান ও সামরিক দিক থেকে আত্মনির্ভর হয়ে ওঠা নিয়ে শঙ্কায় ওয়াশিংটন। আর সেই কারণেই ভারতবর্ষে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে এবং ভারতকে চাপে রাখতে প্রতিবেশী দেশগুলিতে একের পর এক রাজনৈতিক পালাবদল ঘটানো হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পাকিস্তানের দহরম মহরম এই দিকটির ইঙ্গিতই বহন করে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারতের বহু সংবাদমাধ্যম এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ব্যবহার করছে মার্কিন ডিপ স্টেট। মোদি বিরোধী একটা প্রচারণা চালানোর চেষ্টা চলছে। সিনিয়র সাংবাদিকদের একটা অংশকেও ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকার বিরোধী নানা ন্যারেটিভ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু নরেন্দ্র মোদিকে দমানো এত সহজ হচ্ছে না। আর সেই কারণেই ভারতের দুই প্রতিবেশী দেশকে ব্যবহার করে ভারতে একটা ভয়ের পরিবেশ তৈরির চেষ্টায় রয়েছে ডিপ স্টেট।
বাংলাদেশে যে ভাবে সরকারি মদতে ইসলামিক কট্টরপন্থী শক্তিগুলি মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে, তাতে সিঁদুরে মেঘ দেখছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরাই। কারণ বাংলাদেশ অবস্থান কার্যত ভারতের পেটের মধ্যে। আর সেখানে যদি ইসলামিক কট্টরপন্থার বাড়বাড়ন্ত হয় বা জঙ্গি-জিহাদিরা খোলা আকাশের নিচে থাকে তাহলে তা ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকির। আর বাংলাদেশে কট্টরপন্থীদের ক্ষমতা যে দিন দিন বাড়ছে তার প্রমান হল ইসকনের বিরুদ্ধে আন্দোলন। আর ৪০ হাজারের বেশি যুবকদের অস্ত্র প্রশিক্ষণ দিয়ে ইসলামিক আর্মি তৈরির প্রচেষ্টাও ভারতের জন্য হুমকির হবে। ফলে আগামীদিনে ভারতীয় সেনা অপারেশন সিঁদূরের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করলে বাংলাদেশও যদি টার্গেট হয়, তাহলে অবাক হওয়ার কোনও ব্যাপার থাকবে না।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post