সম্প্রতি মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে ৬টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন একযোগে চিঠি দিয়েছে। তাতে ওই সংগঠনগুলি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগের উপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার আর্জি জানিয়েছে। ওয়াকিবহাল মহলের মতে এটা হল আন্তর্জাতিক মহলে মুহাম্মদ ইউনূসের প্রথম পরাজয়ের ইঙ্গিত। যা বিতাড়িত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফল কূটনৈতিক দৌতের একটা উদাহরণ মাত্র। আমরা দেখেছি, বিগত কয়েকমাসে বাংলাদেশের মাটিতে নিষিদ্ধ থাকা সত্বেও আওয়ামী লীগের মিছিল দিনে দিনে ধারে-ভারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। যা সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে ইউনূসের পুলিশ প্রশাসন। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটা একটা ট্রেলার মাত্র, এখনও অনেক কিছুই দেখার বাকি। শেখ হাসিনা আরও কয়েকটি চমক দেবেন বলেই বিশ্বাস একটা অংশের। গত বছর ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ছাড়ার পরবর্তী কয়েকমাস শেখ হাসিনা একেবারেই চুপ ছিলেন। তিনি নয়া দিল্লির অজ্ঞাতবাসে বসে ফেরার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের গতিপ্রকৃতিতে নজর রাখছিলেন। লক্ষ্য করলেই বোঝা যাবে, শেখ হাসিনা তাঁর সরকার পতনের ছয়-সাত মাস পর থেকে নিজের তৎপরতা বাড়িয়েছেন। দিল্লিতে বসেই তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন প্রচার শুরু করেন, তাতেই কার্যত টলে যায় ইউনূসের সরকার। কেউ কেউ বলছেন, এই মুহূর্তে শেখ হাসিনা সারাদিনে যতটা ব্যস্ত, ততটা হয়তো প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও থাকতেন না। তাহলে সারাদিন কি করেন শেখ হাসিনা?
বিভিন্ন সূত্র মারফত জানা যায়, সকাল থেকেই শেখ হাসিনা তাঁর ওয়াররুমে বসে বাংলাদেশ এবং দেশের বাইরে থাকা আওয়ামী লীগের কর্মী, নেতা-নেত্রীদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করেন। নানা বিষয়ে আলোচনা করেন। কোনও কোনও দিন, মুজিবকন্যা গভীর রাত পর্যন্ত আলোচনায় মগ্ন থাকেন। তাঁর জীবনে এখন একটাই লক্ষ্যে, যে ভাবে হোক এই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তির হাত থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এ ভাবেই তিনি বাংলাদেশে একটা শক্তিশালী নেটওয়ার্ক তৈরি করে ফেলেছেন ইতিমধ্যেই। একটু লক্ষ্য করলেই আপনারা দেখবেন, বিগত কয়েকমাসে আওয়ামী লীগ তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলিতে যে প্রচার চালাচ্ছে, তাতে মূলত প্রাধান্য পাচ্ছে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ। সে সময়কার মুক্তিযোদ্ধাদের লড়াই, বঙ্গবন্ধু শেথ মুজিবর রহমানের বিভিন্ন বক্তৃতার টুকরো টুকরো ভিডিও নানা ক্যাপসনে প্রচার করছে আওয়ামী লীগ। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, এটাই শেখ হাসিনার অন্যতম মাস্টারস্ট্রোক। তিনি জানেন, বাংলাদেশের একটা বড় অংশের মানুষ আজও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভোলেননি। তাঁদের কাছে মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু একটা আবেগ। কিন্তু ইউনূসের যোদ্ধারা যেদিন ৩২ নম্বর ধানমণ্ডির ঐতিহাসিক বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দিল, সেদিন হয়তো ভয়ে কেউ মুখ খোলেননি। কিন্তু ভিতরে ভিতরে একটা চাপা কষ্ট ও রাগ নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন। আর সেটাকেই কাজে লাগাতে চেয়েছিলেন দীর্ঘদিনের পোড়খাওয়া রাজনৈতিক শেখ হাসিনা।
আরও একটি বিষয় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, শেখ হাসিনা দেশের বাইরে থেকেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটা শক্তিশালী সংগঠন তৈরি করে ফেলেছেন। গত মঙ্গলবারই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মোট ১১টি জায়গায় পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন সময়ে ঝটিকা মিছিল করল শেখ হাসিনার দল। আর প্রতিটি মিছিলেই হাজারের বেশি লোক সামিল হয়েছিলেন। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিওতে দেখা গিয়েছে পথ চলতি মানুষজনদেরও ওই মিছিলে সানন্দে যোগ দিতে। আবার চলতি বাসের জানলা, দরজা থেকে মুখ বার করেও অনেকে স্লোগান দিয়েছেন। এমনকি মিছিলের পর জনগণই আওয়ামী সমর্থকদের লুকানোর জায়গা করে দিয়েছেন। কিন্তু যে খবরটা বাংলাদেশের কোনও প্রথমসারির সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করেনি সেটা হল, পুলিশ ও জামাত-বিএনপির গুণ্ডাবাহিনীর হাত থেকে আওয়ামী সমর্থকদের ছিনিয়ে নিয়ে আসার একাধিক ঘটনা। জানা যাচ্ছে, অন্তত দুটি জায়গায় সাধারণ মানুষ ও আওয়ামী সমর্থকরা মিলে প্রতিরোধ গড়ে তুলে পুলিশকে প্রতিহত করে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল তাঁদের ছিনিয়ে আনা হয়েছে। আবার বেশ কয়েকটি জায়গায় আওয়ামী মিছিলে বাঁধা দিতে আসা বিএনপি ও জামাত সমর্থকদের এমন মার দিয়েছে জনতা যে বেশ কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। শেখ হাসিনা সুকৌশলে মিছিল গুলির পিছনে একটা ব্যাকআপ টিম রাখছেন। যেখানে কোনও বাঁধা বা আক্রমণ হলেই সেখানে এই ব্যাকআপ টিম গিয়ে পরিস্থিতি সামলে দিচ্ছে। অর্থাৎ, শেখ হাসিনার কৌশলে অতি গোপনে একটি গেরিলা বাহিনীও তৈরি করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। যাদের বলা হচ্ছে “হাসিনা সেনা”। ওয়াকিবহাল মহল বলছে, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এই হাসিনা সেনাই ধীরে ধীরে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের সংগঠন আরও মজবুত করে দেবে। তখন আরও চাপ বাড়বে মুহাম্মদ ইউনূসের।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post