চলতি বছরের জুন মাসে বাংলাদেশজুড়ে হইচই পড়ে গিয়েছিল একটি ঘটনায়। বাংলাদেশের অন্যতম ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মরোক্কোতে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার পথে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর ব্যাগে বন্দুকের গুলির ম্যাগাজিন পাওয়া গিয়েছিল। যুব ও ক্রীড়া এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়ার ব্যাগ থেকে গুলির ম্যাগাজিন উদ্ধার ঘিরে সেবার খুব হইচই হয়েছিল। পরে ওই উপদেষ্টা নিজের ফেসবুকে জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে আমার লাইসেন্স করা বৈধ অস্ত্র আছে। গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বের ওপরে কয়েক দফায় যেভাবে হত্যাচেষ্টা চালানো হয়েছে, তাতে অস্ত্র রাখাটাই স্বাভাবিক। যখন সরকারি প্রোটোকল বা সিকিউরিটি থাকে না, তখন নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের উদ্দেশ্যে লাইসেন্সড অস্ত্র রাখা। অর্থাৎ, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার সঙ্গে অস্ত্রের যোগ একটা ছিলই। এবার তিনি বাংলাদেশের তরুণ সমাজের একটা বড় অংশকে অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দিতে উদ্যোগী হয়েছেন। আর তা করা হচ্ছে সরকারি মোড়কেই। বিষয়টা নিয়ে বেশ হইচই হচ্ছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে। এমনকি ভারত-সহ আরও বেশ কয়েকটি দেশ এই ব্যাপারে কড়া নজর রাখছে।
অনেকেই মনে করছেন সেই একাত্তর পূর্ববর্তী দুঃস্বপ্ন ফিরতে চলেছে বাংলাদেশে। পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর সাহায্য নিয়ে বাংলাদেশে ‘ইসলামিক রিভোলিউশনারি আর্মি’ তৈরির পথে অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। ইউনুস সরকারের অন্যতম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া কয়েকদিন আগেই নিজের ফেসবুক পেজে একটা পোস্ট করেছিলেন। তাতে তিনি লেখেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৪০ হাজারেরও বেশি যুবকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে অস্ত্র চালানোর। এখন প্রশ্ন হল, আচমকা দেশের তরুণদের কেন অস্ত্রশস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে? বাংলাদেশে কি সেনাবাহিনী কম পরিয়াছে? ইউনূস সরকার যুক্তি দিয়েছে, এটা দেশের রিজার্ভ ফোর্সকে আরও শক্তিশালী করার জন্য উদ্যোগ। কিন্তু রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং কূটনৈতিক মহল এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁদের বক্তব্য, ইউনূস সরকার ঘুরিয়ে বাংলাদেশে ‘ইসলামিক রিভোলিউশনারি আর্মি’ তৈরি করতে চাইছে। যা জামাতের মতো কট্টরপন্থী সংগঠনের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন।
বর্তমানে ভারতের পূর্ব প্রান্তের এই প্রতিবেশী দেশে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের সক্রিয়তা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ঘনঘন পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও আইএসআইয়ের শীর্ষ আধিকারিকরা বাংলাদেশে আসছেন। আবার বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর আধিকারিকরাও সে দেশে যাচ্ছেন। বিগত কয়েকমাসে এই যাতায়াত উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এই আবহেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা শুক্রবার রাতেই ঢাকায় অবতরণ করেছেন। তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পদমর্যাদার সেনা কর্মকর্তা। ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের তিন সদস্যের একটি দল কয়েকটি সীমান্ত এলাকা পরিদর্শন করে বাংলাদেশের রাজধানী ছেড়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরই তাঁর ঢাকায় আগমণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নয়াদিল্লির আরও চিন্তার কারণ রয়েছে। পাকিস্তানের ফেডারেল অর্থনৈতিক বিষয়ক মন্ত্রী আহাদ খান চিমার নেতৃত্বে নয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসছেন ২৬ অক্টোবর। অর্থাৎ, একদিকে সামরিক প্রতিনিধি দল, অন্যদিকে পাকিস্তানের সরকারি প্রতিনিধি দল এক সাথে ঢাকায় অবস্থান করবে। এর ঠিক আগেই বাংলাদেশের তরুণদের জুডো, ক্যারাটে, তায়কোণ্ডার পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র প্রশিক্ষণের খবরটি সামনে আসায় এর গুরুত্ব অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর, পাক আইএসআইয়ের উদ্যোগেই বাংলাদেশের বাছাই করা তরুণদের বিশেষ ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ট্রেনিংও দিচ্ছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পাকপন্থী অফিসাররা। বাংলাদেশের এই বাহিনীতে নিয়োগের জন্য দেশের ৭টি ক্যাম্পে আপাতত ৮৮৫০ জন যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আর গোটা প্রক্রিয়া চলবে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post