সোনার কেল্লার সেই ‘দুষ্টু’ লোকটার কথা মনে আছে, যাকে ভ্যানিস করে দিয়েছিল ড. বাগচি এবং তাঁর সফরসঙ্গী ভূপর্যটক। এবার তদারকি সরকারের প্রধান দুই উপদেষ্টাকে তাঁদের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিল দুই ‘দুষ্টু’ দল বিএনপি এবং জামায়াত। ইস্তফার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে তথ্য এবং সম্প্রচার পরামর্শদাতা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে। অথচ গত অগাস্ট অভ্যুত্থানের নেপথ্যে রয়েছেন এই দুইজনই কারিগর। বলা ভালো, তাদের নেতৃত্বের ফলেই দেশজুড়ে হাসিনা বিদায়ের হাওয়া বইতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যা দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন।
সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের একটি সংবামাধ্য জানিয়েছে, এই দুইকে তাঁদের পদ থেকে সরে দাঁড়াতে বলা হয়েছিল গত সেপ্টেম্বরেই। কিন্তু তাঁরা ইস্তফার জন্য আরও সময় চেয়ে নেন। অপরদিকে বিএনপি এবং জামায়াত তদারকি সরকারের ওপর ক্রমাগত চাপ দিতে শুরু করে। বাধ্য হয়ে ইউনূস তাঁদের জোরজবরদোস্তি পদত্যাগে বাধ্য করান। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এই খবর দিয়েছে। বিএনপি এবং জামায়াতের দাবি, এই দুই উপদেষ্টার দৃষ্টিভঙ্গি রীতিমতো পক্ষপাতপূর্ণ। তাছাড়া বাংলাদেশের বিভিন্ন মৌলবাদী শক্তির সঙ্গে এদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। এরা সরকারে থাকলে সরকারের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়ে যাবে। রটে যাবে সরকারের নীতি নির্ধারন করছে এই দুইয়ের পরামর্শ মেনে।
এদের ইস্তফা দেওয়ার অনেক আগেই নাহিদ ইসলাম তদারকি সরকারের পরামর্শদাতার পদ থেকে সরে দাঁড়ান। তিনি এখন এনসিপির হোলটাইমার। দলের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব শীর্ষ নেতৃত্ব তাঁর ওপর দিয়েছে। তবে মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদের কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও আসিফ গত ১৪ অগাস্ট সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের দিন তারিখ ঘোষণা আগেই তিনি পদত্যাগ করবেন। অন্যদিকে, মাহফুজ আলম এক অনুষ্ঠানে বলেন, দুই মাস ধরে সে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। একটা আশঙ্কা তাঁর মনে সর্বদা তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে যে কোনও সময় তাঁর পদস্খলন হতে পারে।
একট সূত্রে পাওয়া খবর উদ্ধৃত করে বাংলাদেশের প্রথম সারির একটি দৈনিক এই ইস্যুতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ছাত্র প্রতিনিধিদের কেউ না কেউ উপদেষ্টা পরিষদে থেকে যাক, এটাই চাইছেন উপদেষ্টারা। তাদের মতে, এরা না থাকলে উপদেষ্টা পরিষদে কেউ কেউ তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে পারে। ২০২৪-য়ের ৫ অগাস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়মী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ অগাস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। বর্তমানে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রধান উপদেষ্টা সহ ২৩ জন। তাদের মধ্যে দুইজন ছাত্র প্রতিনিধি।
অন্তর্বর্তী সরকারের তরফ থেকে বলা হচ্ছে, সংস্কার প্রক্রিয়ার অঙ্গ হিসবে তাদের ইস্তফা দিতে বলা হয়েছে। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, গত অভ্যুত্থানে যে ছাত্রদল একসময় তাঁর পাশে ছিল এখন আর তারা তাঁর পাশে নেই। সরকারের সঙ্গে তাদের দূরত্ব ক্রমশ বাড়ছে। যে আশা নিয়ে ইউনূসকে ক্ষমতায় বসানো হয়েছিল, সেই আসা পূরণ হয়নি। না তাদের আশা, না দেশবাসীর আশা। উলটে বাংলাদেশে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। দেশ ডুবে গিয়েছে ঘন অন্ধকারে। তাই, ইউনূস জমানার দ্রুত অবসান প্রয়োজন।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post