ঢাকায় বসে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার ছক তৈরি হয়েছিল? একেবারে সরাসরি বলা যাচ্ছে না। তবে ভারতের একটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদন সেই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সেই প্রতিবেদন উল্লেখ করেছে বাংলাদেশের একটি ঘটনার কথা। সেই বিষয়ে আলোকপাত করার আগে অন্য একটি ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করতে হয়। ডিপ স্টেট চেয়েছিল বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার মতো ভারতেও অস্থিরতা তৈরি করতে। কিন্তু ভারতীয় গোয়েন্দাদের পেশাদারিত্ব এবং দক্ষতার কাছে তাদের হার মানতে হয়েছে। কিছুদিন আগে ভারতের গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল গিয়েছিল ঢাকায়। তারা সে দেশের সেনাবাহিনীর পদস্থ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। ঘুরে দেখে লালমনির হাট এবং ঠাকুরগাঁও। অপরদিকে বাংলাদেশ সেনার পদস্থকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তারা তুলে দেয় বেশ কিছু স্যাটেলাইট ইমেজ, যে ইমেজে ধরা পড়ে মার্কিন সেনা সে দেশ থেক নজরদারির জন্য বসিয়েছে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি। ভারতীয় সেনা গোয়েন্দাদের থেকে পাওয়া ওই স্যাটেলাইট ইমেজ দেখে বাংলাদেশ সেনার পদস্থকর্তাদের চোখ চড়কগাছে ওঠার জোগাড়। হাতে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে বাংলাদেশ সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ –জামান সেদিন ওই দুই এলাকা পরিদর্শন করেন যেদিন ভারতীয় সেনা গোয়েন্দারা দিল্লি ফিরে আসে।
এবার মূল বিষয়ে ঢুকে পড়া যাক। গত সেপ্টেম্বরে ঢাকার একটি হোটেল থেকে এক মার্কিন সেনার দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম টেরেন্স জ্যাকশন। বয়স প্রায় ৫২ বছর। তাঁকে উদ্ধার করা হয় নগ্ন অবস্থায়। এই প্রসঙ্গে বাংলাদেশে পুলিশের তরফ থেকে যে বয়ান দেওয়া হয়েছে তা খানিকটা এরকম এক মার্কিন নাগরিকের দেহ একটি হোটেল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি ব্যবসায়ীক কাজে বাংলাদেশে এসেছিলেন। একই বিষয়ে ভারতের একটি গণমাধ্যমও খবর প্রকাশ করেছে, যে খবর আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে, টেরেন্স ব্যবসার কাজের জন্য আসেননি। এসেছিলেন অন্য উদ্দেশ্য নিয়ে আর সেটা হল প্রধানমন্ত্রী মোদিকে খতম করার।
প্রশ্ন উঠতে পারে, কীসের ভিত্তিতে এই দাবি করা হচ্ছে? বা কী সেই যুক্তি তা তুলে ধরলে তা প্রমাণ হয়ে যাবে। এবার ভারতের একটি পত্রিকার প্রতিবেদন উল্লেখ করতে হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই মার্কিন নাগরিক চার মাস ধরে ঢাকায় ছিলেন। ব্যবসার কাজ আসলে একটি ছুতো মাত্র। তিনি বাংলাদেশের সরকারি কাজকর্ম খতিয়ে দেখছিলেন। বাংলাদেশ সেনাকে দিচ্ছিলেন প্রশিক্ষণ। ঢাকা পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, যে হোটেল থেকে ওই মার্কিন নাগরিকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই হোটেল বুক করেছিল ঢাকাস্থিত মার্কিন দূতাবাস। তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়া যায় যে টেরেন্স নিছক ব্যবসার কাজে ঢাকায় এসেছিল, তাহলে মার্কিন দূতাবাস তাঁর জন্য ঘর বুক করবে কেন? যিনি এসেছেন তিনিই তো নিজে হোটেল বুক করতে পারতেন?
দ্বিতীয় কারণ, মৃত্যুর খবর পাওয়া মাত্র ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের কর্তারা দ্রত সেখানে চলে যায়। সাততাড়াতাড়ি দেহ সেখান থেকে সরিয়ে ফেলে। কোনও ময়নাতদন্ত ছাড়াই দেহ বিমানে করে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। একথা আমরা সকলেই জানি যে অস্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত বাধ্যতামূলক। কিন্তু টেরেন্স জ্যাকশনের দেহ ময়নাতদন্ত না করেই কে আমেরিকায় পাঠিয়ে দেওয়া হল। যেদিন দেহ উদ্ধার হয় সেদিন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস থেকে এক মহিলা সহ তিন কর্তা সেখানে পৌঁছে যান। কী এমন হল, যার জন্য তাদের হন্তদন্ত হয়ে হোটেলে যেতে হল? কেনই বা তারা নির্দেশ দিলেন দূতাবাসের কর্মী থেকে শুরু করে কর্তাদের নির্দেশ দিলেন, এই ঘটনা নিয়ে তারা যেন কারও সঙ্গে কথা না বলে। মিডিয়ার সঙ্গে তো একেবারেই নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post