বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন শেখ হাসিনা। ভারত যেমন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে প্রধানমন্ত্রী পদে দেখতে চাইছে, একই ইচ্ছা আমেরিকারও। তার কয়েকটি কারণ রয়েছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে, ডিপ স্টেটের সক্রিয়তা কিন্তু আর আগের মতো নেই। এর কারণ অবশ্য অন্য। আমরা ইতিমধ্যে জেনে গিয়েছি, যে গত জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পিছনে সে দেশের ছাত্র-জনতা থাকলেও পিছন থেকে কলকাঠি নেড়েছে ডিপ স্টেট। তারা বাংলাদেশে একটি পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিল। তারা বসাতে চেয়েছিল এমন একজনকে যে তাদের হয়ে কাজ করবে। তারা যেমন যেমন নির্দেশ দেবে, ক্ষমতার মসনদে আসীন ব্যক্তি সেই নির্দেশ কার্যকর করবে। এই পর্যন্ত সবই ঠিক ছিল। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে দেখা গেল ইউনূস তাদের আশা পূরণে চূড়ান্ত ব্যর্থ হয়েছে। বাংলাদেশের আর্থিক অবস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ অর্থ কমিয়ে দেয়। এখন পুরোপুরি বন্ধ। তাদের তরফ থেকে বলা হয়েছে, নতুন যে সরকার ক্ষমতায় আসীন হবে, সেই সরকারের সঙ্গে তারা ঋণনীতি নিয়ে আলোচনা করবে। এই বার্তা থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট যে তারাও আর ইউনূসকে ক্ষমতায় দেখতে চাইছে না।
সম্প্রতি জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার সংগঠনের তরফ থেকে ইউনূস সরকারকে একটি চিঠি পাঠানো হয়। সেই চিঠিতে খুব স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, তিনটি বিষয়ের কথা বলা হয়েছে। প্রথম বিষয়, ইচ্ছা করলেই সরকার যাকে তাকে ধরে জেলে ঢুকিয়ে দিতে পারবে না। যে অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, সেই অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণ পেশ করতে হবে। প্রমাণ পেশ করতে ব্যর্থ হলে তাদের ছেড়ে দিতে হবে।
আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসদমন আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণার নির্দেশিকা প্রত্যাহার করে নিতে হবে। তদারকি সরকার রাজনৈতিক দলগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা প্রক্রিয়া থেকে বিরত থাকুক। দরকার একটি বহুত্ববাদী গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠা। চিঠিতে অবাধ ও নিরপক্ষে নির্বাচনের কথাও বলা হয়েছে। ড. ইউনূসকে পাঠানো চিঠিতে জাতিসঙ্ঘ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, সবাই যাতে সংবিধান প্রদত্ত নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সেটা অন্তর্বর্তী সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে।
বাংলাদেশের সুশীল সমাজ বলছে, আওয়ামী লীগ এবং হাসিনাকে বাদ দিয়ে কোনও নির্বাচন হলে ভারত-সহ আন্তর্জাতিকমহল তাকে স্বীকৃতি দেবে না। ফলে, ইউনূস এবং তাঁর সরকার বেশ চাপে রয়েছে। হাসিনার দলকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে তিনি যে মারাত্মক ভূল করেছেন সেটা এখন বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন। সম্প্রতি তাঁকে একটি সাক্ষাৎকারে বলতে শোনা যায় যে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করেছে কমিশন। এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কমিশনকেই নিতে হবে। সঙ্গে তিনি এটাও বলেন, কমিশন হয়তো আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেবে।
অনেকে বলছেন, আওয়ামী লীগের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের জন্য ইউনূস সরকারকেই বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। কারণ, এর সঙ্গে তাঁর সেফ এগজিটের বিষয়টি জড়িয়ে রয়েছে। তদারকি সরকার প্রধান বেশ ভালোই বুঝতে পারছেন, তার দেশে থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে। নিরাপদে বাকি জীবন কাটাতে হবে ভিন্ন কোনও দেশে। সম্প্রতি তিনি প্যারিস ঘুরে আসেন। সেখানে তিনি একটি জমিও দেখে এসেছেন। অনেকে এখন খোঁচা দিয়ে বলছেন, প্যারিস থেকে এসেছিলেন, এবার সেই প্যারিসেই তাকে ফিরে যেতে হবে। মানে পুনর্মুশিক ভবঃ।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post