এই প্রতিবেদন শুরু করা যাক রবীন্দ্রনাথের একটি গান দিয়ে
‘আজি দক্ষিণ দুয়োর খোলা এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো। দিব হৃদয়দোলায় দোলা, এসো হে, এসো হে, এসো হে আমার বসন্ত এসো॥’।
তদারকি সরকার প্রধান মুহম্মদ ইউনূস তাঁর দেশের দক্ষিণ দিকের দরজা পাকিস্তানের জন্য সর্বদা খুলে রেখেছেন। পাক সরকারের কোনও কর্তা-ব্যক্তির মন খারাপ হলেই বাংলাদেশে চেঞ্জে যেতে পারেন। সেখানে গেলে তাদের সব দুঃখ, কষ্ট মুছে যাবে। আবার টাটকা মন নিয়ে দেশে ফিরবেন। মন ‘ভালো’ করতে, মানে খাঁটি অক্সিজেন নিতে এবার সে দেশে গেলেন পাক সেনাপ্রধান শামসাদ মির্জা। জেনারেল আসিম মুনিরের পরেই তাঁর স্থান। সেনাপ্রধান শামসাদ মির্জা নিয়ে গিয়েছেন বেশ কয়েকজন ‘বন্ধুদের’। এমনকী তাঁর স্ত্রী সাজিয়া শাহিরও গিয়েছেন। উঠেছেন ঢাকার একটি বিলাশবহুল হোটেলে।শামসাদ মির্জা তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস এবং সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।
মনে হতে পারে, বিষয়টি খুব হালকা। এক দেশের সেনাপ্রধান বাহিনী অন্য সদস্যদের নিয়ে অন্য একটি দেশে যেতেই পারেন। ব্যাপারটা একেবারেই জলবত তরলং নয়। তাঁরা বৈঠক করবেন বাংলাদেশ সেনার প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল কামরুল হাসান, কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ ফায়জুর রহমান এবং জিওসি আর্মি ট্রেনিং অ্যান্ড ডকট্রিন কম্যান্ড লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ মইনুর রহমানের সঙ্গে। বৈঠকে বাংলাদেশ সেনার প্রশিক্ষণের বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হবে। সফররত পাক সেনাকর্তারা রাজশাহী, চাঁপাই নবাবগঞ্জ সহ বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করবেন। ওই সব এলাকায় পাক মদতপুষ্ট জঙ্গি শিবির হিযবুত তাহরী এবং আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের ছাউনি রয়েছে। পাক সেনা প্রতিনিধিদল লালমনির হাট যাবেন। সেটাই ভারতের কাছে উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই লালমনির হাট চিকেন নেক থেকে মাত্র ২০ কিলোমিটার দূরে। ঢাকায় পৌঁছে সেনাপ্রধান প্রশ্ন উঠছে, সেনাপ্রধান শামসাদ মির্জা কেন গিয়েছেন বাংলাদেশে? আসলে জেনারেল আসিম মুনির একটি বিষয়ে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে থাকেন। তা হল মুসলিম দেশগুলোর আলাদা একটা নিরাপত্তা বলয় থাকা দরকার। তাদের একটা প্রতিরক্ষা নীতি থাকা দরকার। দরকার একটি সামরিক জোট। এই সব কিছু সেনাপ্রধান শামসাদ মস্তিষ্কপ্রসূত। গত এক বছরের মধ্যে তিনি জর্ডন, কুয়েত, আজারবাইজান, সৌদি আরব সহ বিভিন্ন মুসলিম দেশ সফর করেন। গত ডিসেম্বর থেকেই তিনি বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেন। হাসিনা আমলে পাকিস্তান সেনার সঙ্গে সে দেশের একেবারেই কোনও সখ্যতা ছিল না। কিন্তু পালাবদল হতেই সব সমীকরণ বদলে গিয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে ইউনূসের একাধিকবার বৈঠক হয়েছে। দুই দেশের সেনার সঙ্গে একটা কার্যকর সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। সেটা ভারতকে অস্বস্তিতে রেখেছে।
তদারকি সরকার প্রধান ইউনূস ক্ষমতায় এসে নিয়োগ করেন খলিলুর রহমান। তিনি বাহিনীর মধ্যে একটা সমান্তরাল নেতৃত্ব তৈরি করেন। নিয়োগ করেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপ্যাল স্টাফ অফিসার কামরুল হাসানকে। সেই নিয়োগের মধ্য দিয়ে ঢাকার প্রতিরক্ষা কৌশল হয়ে উঠল চিন-পাকিস্তান-আমেরিকা মুখী। সূত্রের খবর, এই থ্রি মাস্কেটিয়ার্স ওয়াকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার একটা ছক তৈরি করে। জানুয়ারি মাসের গোড়ায় পাক সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন। ওই বৈঠক নিয়ে ভারত রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। নতুন করে উদ্বেগ বাড়াল পাক সেনাকর্তা শামসাদ মির্জার বাংলাদেশ সফর।












Discussion about this post