গত ২ সেপ্টেম্বর দিল্লিতে সেমিকন সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে শ্রোতৃমণ্ডলী করতালি দিতে শুরু করেন। করতালি প্রায় থামে থামে, এই এই সময় প্রধানমন্ত্রী যা বলেছিলেন, তা শুনে সকলে চমকে ওঠে। হাসতে হাসতে নমো বলেন – ‘আপনারা করতালি দিচ্ছেন কেন? চিনে গিয়েছিলাম বলে নাকি ফিরে এসেছি বলে?’ নমোকে কস্মিনকালেও এইভাবে কখনও বলতে শোনা যায়নি। স্বাভাবিকভাবেই সম্মেলনে উপস্থিত সকলে বিস্ময় প্রকাশ করেন। গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে কেন প্রধানমন্ত্রী এ কথা বললেন। উত্তর পাওয়া গেল প্রায় দেড় মাস বাদে। সেই উত্তর দেওয়ার আগে একটা দৃশ্যের কথা মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
সেটা ৩১ অগাস্ট। চিনে সাংহাই কোঅপারেশ অর্গানাইজেশনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী মোদি এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিন ছিলেন একটি গাড়িতে। গাড়িটি পুতিনের। সেখানে তাঁরা ছিলেন ৪৫ মিনিট। এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য মিডিয়ার নজর এড়ায়নি। কারণ, এতো যাবতীয় প্রোটোকলের বাইরে। এই দুই যখন গাড়িতে বসে নিজেদের মধ্যে কথাবার্তা বলছে, সেই সময় ঢাকা ছিল অন্যধরনের ব্যস্ততা। সেখানকার একটি অভিজাত হোটেলের ঘর থেকে উদ্ধার হয় এক মার্কিন নাগরিকের দেহ। বাংলাদেশের সরকারিভাষ্যে বলা হয়েছে, মৃতের নাম টেরেন্স জ্যাকশন। এসেছিলেন ব্যবসার কাজে। কিন্তু ভারত এবং অন্য গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুসারে, ব্যবসার কাজে টেরেন্স বাংলাদেশ আসেনি। তাঁর অন্য উদ্দেশ্য ছিল। সেটা কী, এই প্রতিবেদন তাঁর ইঙ্গিত দিচ্ছে। যদিও দুটি ঘটনার সঙ্গে আপাত দৃষ্টিতে কোনও মিল নেই। কিন্তু দুঁদে গোয়েন্দা এবং কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এর মধ্যে মিল খুঁজে পাচ্ছেন। সেটা অদৃশ্য হয়েও প্রবলভাবে দৃশ্যমান। বিভিন্ন সূত্র বলছে, রুশ গুপ্তচর সংস্থা ফরেন ইন্টেলিজ্যান্স সার্ভিস এবং ভারতের গুপ্তচর সংস্থা র যৌথভাবে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-য়ের ছক বানচাল করে দেয়।
কে এই জ্যাকসন? জ্যাকসন হলেন মার্কিন সেনার এক দুঁদে কম্যান্ডিং অফিসার। বলা হচ্ছে, দক্ষিণ এশিয়া বিগত ২০ বছর ধরে যত ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে তার নেপথ্য কারিগর তিনি। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই অশান্ত। বাংলাদেশে পালাবদল ঘটেছে। সর্বশেষ নেপাল। মাঝে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। শুরুটা হয়েছিল কিন্তু আফগানিস্তানকে দিয়ে। অনেকে বেশ জোরের সঙ্গে বলছেন, বাংলাদেশকে বলির পাঁঠা করে ভারতের মজবুত ভিতে জোরে একটা ধাক্কা দিতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু দিল্লি-মস্কোর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ওয়াশিংটন ডিসির যাবতীয় ছক বানচাল করে দেয়।
যেদিন এই মার্কিন নাগরিকের দেহ বাংলাদেশের একটি হোটেল থেকে উদ্ধার হয়, সেদিন ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ছিল অন্য ধরনের ব্যস্ততা। দূতাবাস থেকে হন্তদন্ত হয়ে ওই হোটেলে গিয়ে পৌঁছন তিন শীর্ষকর্তা। একেবারে ঝড়ের গতিতে তারা টেরেন্সের দেহ সেখান থেকে তুলে চাদরে মুড়ে বিমানে করে আমেরিকা পাঠিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। এবং সব কিছুই হয়েছে চোখের পলক পড়তে না পড়তে। প্রশ্ন উঠছে, দেহ কেন ময়নাতদন্ত না করে পাঠিয়ে দেওয়া হল ? দূতাবাসের কর্তাদের সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তারা যেন মিডিয়া বা অন্য কোথাও সঙ্গে এই নিয়ে কথা না বলেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট কথা কথায় এক্স হ্যান্ডেলে নানা ইস্যুতে তাঁর অবস্থান তুলে ধরেন। এই ক্ষেত্রে তিনি চুপ। চুপ মার্কিন প্রশাসনও। তাহলে এই মৃত্যু নিয়ে যে ধারণ তৈরি হয়েছে, তাতে সিলমোহর দেওয়া হল?
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post