বর্তমান ইউনুস সরকার কী সম্পুর্ণ জামায়তে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে? নাকি এই সরকারের রাশ এখনও কিছুটা বিএনপির হাতে রয়েছে? গত বছরের ৫ অগাষ্টের পরে থেকে নানান সরকারি কার্যকলাপ ও নির্দেশিকা দেখলে স্পষ্টই বোঝা যায় ইউনূস সরকারে জামাতের নির্দেশনা ও ইন্ধন যথেষ্টই রয়েছে। বিশেষ করে যখন দীর্ঘসময় ধরে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ৩২ নম্বর ধানমণ্ডি ভাঙা হচ্ছিল তখন একেবারেই নিরব ছিলেন মুহাম্মদ ইউনূস। এমনকি ওই ঐতিহাসিক বাড়িটি ভাঙার পর সরকারিভাবে কোনও দুঃখপ্রকাশ করেননি ইউনূস সাহেব। তারপর থেকে আমরা দেখেছি বাংলাদেশে ইসলামিক কট্টরপন্থী শক্তিগুলির দ্রুত উত্থান। গত এক বছরে বহু মুক্তিযুদ্ধবিরোধী রাজাকারদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া। ক্ষমতায় এসেই প্রথম যে কাজটা ইউনূস সরকার করেছিল, তা হল জামায়তে ইসলামী এবং ছাত্র শিবিরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া। পাশাপাশি জামাতের যে সমস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী এবং মানবতাবিরোধী অভিযোগ ছিল, তাঁদের নামে থাকা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া ও জেলমুক্তি দেওয়া। শতাধিক জঙ্গিনেতাদের জেল থেকে ছেড়ে দেওয়া এবং কয়েকটি নিষিদ্ধ সংগঠনের থেকে নিশেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া। সবই যে জামায়তে ইসলামীর অঙ্গুলীহেলনে হয়েছে তা আর বলে দিতে হবে না।
বাংলাদেশে যে কট্টরপন্থার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে তার পিছনে মদত কার? মুহাম্মদ ইউনূস কার্যত চোখ বন্ধ করে বসে রয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জামায়াত, শিবির এবং তাঁদের অঙ্গ সংগঠনগুলিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল শেখ হাসিনার সরকার। মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসেই জামায়াতে ইসলামী এবং এর ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে রীতিমতো বিজ্ঞপ্তি জারি করে। আপনারা একটু মনে করে দেখুন, গত বছর ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পরই বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে কি বলেছিলেন। তিনি দাবি করেছিলেন, কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে পরবর্তী পদক্ষেপ কি হবে তা নিয়ে, আর ওই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রথমেই নিয়েছিলেন জামায়তে ইসলামীর নাম। মজার বিষয় হল, তখনও কিন্তু জামাত বাংলাদেশে নিষিদ্ধ সংগঠন ছিল। অর্থাৎ, হাসিনাকে হঠানোর জন্য যে সংগঠন সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছিল, তাঁরা হল জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ। ফলে সরকার গঠন ও সেই সরকারের চালিকা শক্তি যে জামাত শিবির হবে, সেটা বলাই বাহুল্য।
বাংলাদেশে এখন ইসলামিক কট্টরপন্থার রমরমা। বিভিন্ন সংগঠন এখন যেখানে সেখানে নানান ফতোয়া জারি করছে। বিশেষ করে সে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে নানা ফতোয়া জারি করা হচ্ছে। আবার হিন্দুদের উপর অত্যাচার, তাঁদের ধর্মীয় উপসনালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা বেড়েছে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সঙ্ঘ বা ইসকন-কে নিষিদ্ধ করার দাবিতে আচমকা উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমে জামাতের পক্ষ থেকেই এই দাবি উঠেছিল। কিন্তু রাজধানী ঢাকা-সহ গোটা দেশে ব্যাপক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করল ‘তৌহিদী জনতা’র ব্যানারে বিভিন্ন সংগঠন। যা জামাতের ছায়া সংগঠন বলেই মনে করেন বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে পাকিস্তানের মারকাজি জমিয়াত আহলে হাদিসের ‘সিনিয়র আলেম’ ইবতিসাম এলাহি জহির বাংলাদেশে সফর করছেন। যিনি পাকিস্তানের জামাত উদ দাওয়া প্রধান হাফিজ সাঈদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। পাকিস্তানের এই ধর্মীয় নেতার এই আকস্মিক সফর বাংলাদেশের গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকেই অবাক করে দিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কাছে এই খবরটাও ছিল না। কিন্তু ‘সিনিয়র আলেম’ ইবতিসাম এলাহি জহির রাজশাহী বিমানবন্দরে নেমে একাধিক বৈঠক করেন। এরপর ভারত বাংলাদেশ সীমান্তের নওদাপাড়া থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছেন। এও জানা গিয়েছে, ওই শীর্ষ ধর্মীয় নেতা ২৯ থেকে ৩১ নভেম্বরের মধ্যে, জহির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের রংপুর, লালমনিরহাট এবং নীলফামারীর বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করবেন। সবমিলিয়ে এ কথা বলাই যায়, জামাত ধীরে ধীরে বিএনপি ও এনসিপিকে যেমন শেষ করতে উদ্যোগী হয়েছে, তেমনই ইউনূসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গোটা বাংলাদেশকেই গিলে খেতে উদ্যোগী হয়েছে। যা ভারতের জন্য বিপদসংকেত ছাড়া আর কিছু নয়।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post