আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ বা ইসকন-কে বাংলাদেশে নিষিদ্ধের দাবিতে রাজধানী ঢাকা-সহ সারা দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করল জামায়তে ইসলামী বাংলাদেশ। গত শুক্রবার জুম্মার নমাজের পর কেন্দ্রীয় মিছিলটি হয় ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ থেকে। তবে জামায়তের ডাকে এই মিছিল হলেও ব্যানার ছিল ‘তৌহিদী জনতা’ নামে এক অরাজনৈতিক সংগঠনের। কি ভাবছেন, এই সেই তৌহিদী জনতা, যারা কথায় কথায় মব সৃষ্টি করে যাকে ইচ্ছা তাঁকেই গণপিটুনি দেওয়ার ছাড়পত্র পেয়েছিল। এবার সেই মিছিলেই দেখা মিলল আন্তর্জাতিক ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে পরিচিতি আইএসআইএস বা ইসলামিক স্টেটের পতাকা। যদিও এটা প্রথমবার নয়। এর আগেও একাধিকবার ঢাকার রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ ইসলামিক স্টেটের পতাকা নিয়ে মিছিল রয়েছে। এমনকি ঢাকায় আল কায়দার পতাকা নিয়েও মিছিল করতে দেখা গিয়েছে। আর এ সব দেখেও আশ্চর্যজনকভাবে চুপ থাকে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। চুপ থাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবিতেই যদি মিছিল হয়, তাহলে সেখানে ইসলামিক স্টেটের পতাকা কেন আসবে? কিসের উদ্দেশ্যে এই পতাকা রাখা হল, কারা বহন করল এই বিশ্বব্যাপী নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের পতাকা?
আসলে বাংলাদেশে এখন বিভিন্ন আন্দোলন ও মিছিলে আন্তর্জাতিক ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে পরিচিতি আইএস বা ইসলামিক স্টেট ও আল কায়েদার পতাকা নিয়ে মিছিল করা একটা রেওয়াজে পরিণত হয়েছে। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার যখন কিছু বলছে না, বাঁধা দেওয়ার চেষ্টা বা গ্রেফতার করছে না, তাহলে তাঁদের পতাকা রাখতে অসুবিধা কোথায়! গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই নতুন করে বাংলাদেশে উগ্রপন্থা মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। মূলত তাঁরাই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর পতাকা বহন করছে, এবং তাঁদের নেতাদের ‘বীর’ হিসেবে তুলে ধরছে। ফিলিস্তিনের গাজায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদেও গত এপ্রিল মাসে ঢাকায় এক মিছিল করেছিল কয়েকটি সংগঠন। সেখানেও আল কায়দার পতাকা হাতে মিছিল হয়। আবার গত জুন মাসেই কিশোরগঞ্জে অনুষ্ঠিত মুসল্লিদের বিক্ষোভ মিছিলে জঙ্গি সংগঠন ‘ইসলামিক স্টেট ইন ইরাক অ্যান্ড সিরিয়ার আইএস পতাকা’ বহন করা হয়েছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই সমস্ত মিছিলের ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল। এবারও জামাতের মিছিলে আইএসের পতাকার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে।
যদিও এবারের মিছিল ছিল ইসকনের বিরুদ্ধে। জামাতের দাবি, ইসকন বাংলাদেশজুড়ে হিংসা, হত্যা, হুমকি, অপহরণ এবং বিভিন্ন দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত। ওই মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘ইসকন তুই জঙ্গি, স্বৈরাচারের সঙ্গী’, ‘একটা একটা ইসকন ধর, ধরে ধরে জেলে ভর’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’, ‘ইসকন আর স্বৈরাচার, মিলেমিশে একাকার’ ইত্যাদি স্লোগান দিয়েছিলেন। বিশ্লেষকদের দাবি, ইউনূসের বাংলাদেশে যেখানে সংখ্যালঘু হিন্দুরাই কোনঠাসা। তাঁরা ভয়ে কাঁটা হয়ে রয়েছেন ইসলামী জিহাদিদের দৌঁড়াত্মে। বহু হিন্দু পরিবার এখনও ঘরছাড়া। অন্যদিকে ইসকনের সন্নাসী চিন্ময়কৃষ্ণ প্রভু এখনও জেলে বন্দি। তাঁর হয়ে কোনও আইনজীবীকেই দাঁড়াতে দেওয়া হচ্ছে না। সেখানে ইসকন নাকি বাংলাদেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিংসা ছড়াচ্ছে। খুন ও হুমকি দিচ্ছে। এটা আসলে অন্য উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post