শনিবার রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। এই সাক্ষাৎপর্ব ঘিরে একাধিক বিতর্ক। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে প্রকাশিত ওই সাক্ষাতের ছবিতে দেখা যায়, পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনা জেনারেল মির্জার বগলে একটি ব্যাটন রয়েছে। এই ধরণের ব্যাটন সাধারণত সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্তারা আনুষ্ঠানিক প্রথা অনুযায়ী বহন করেন। এই লাঠিকে সামরিক পরিভাষায় “সোয়াগার স্টিক” বলা হয়। তবে কোনও শীর্ষ সেনাকর্তা যদি অন্য কোনও দেশের সরকারপ্রধান বা রাষ্ট্রনেতার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাত করেন, সে সময় এই বিশেষ ব্যাটন বহন করেন না। কারণ এটা সম্পূর্ণ কূটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। অথচ পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনাকর্তা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দিব্বি ওই ব্যাটন বগলদাবা করে দাঁড়ালেন। এমনকি তিনি ইউনূসের মুখোমুখি বসার সময়ও ওই ব্যাটন হাতে নিয়ে বসলেন। এটা ব্য়াপক ব্যাপক সমালোচনা চলছে বাংলাদেশে। আর বিদেশি গণমাধ্যমে এটা নিয়ে হাসিঠাট্টা চলছে। বলা হচ্ছে, পাক সেনাকর্তা মুহাম্মদ ইউনূসকে পাত্তা দিতেই নারাজ।
অন্যদিকে, পাকিস্তানি সশস্ত্র বাহিনীর জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জাকে ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ নামে একটি শিল্পকর্মের সংকলন উপহার দিয়েছেন। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া ওই উপহার হিসেবে গত বছরের জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত এই বইয়ের প্রচ্ছদে বাংলাদেশের একটি মানচিত্র আঁকা রয়েছে। ওই মানচিত্রের সঙ্গে বাংলাদেশের মানচিত্রের অনেকটা মিল রয়েছে। নকশার ভিতরে সবুজ এবং লাল রঙের কারুকার্য করা রয়েছে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাকে বোঝানো হয়েছে। ওই নকশাকে বাংলাদেশের মানচিত্র বলে ধরে নিলে, আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে উত্তরপূর্ব ভারতের কিছু অংশকেও বাংলাদেশের ভিতরে টেনে দেখানো হচ্ছে। অর্থাৎ ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে বাংলাদেশের অংশ দেখানো হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
গত বছর বাংলাদেশের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও এই ধরণের এক মানচিত্রে ভারতীয় ভূখণ্ডকে বাংলাদেশের অংশ হিসাবে দেখিয়ে সমাজমাধ্যমে পোস্ট করেছিলেন। যা নিয়ে বিতর্ক হতেই তিনি সেটা ডিলিট করে দেন। এবার সেই মানচিত্রই পাক জেনারেলকে মুহাম্মদ ইউনূসের দেওয়া পুস্তিকায় তুলে ধরা হয়েছে। যদিও বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এই বিষয়ে নিজেদের মতো করে বিষয়টি দেখানোর চেষ্টা করছে। তাঁরা ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরকে ভুঁয়ো বলতে নানা ব্যাখ্যা করছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের ফ্যাক্ট চেকিংয়ের নামে এক হাস্যকর দাবি করা হয়েছে। তাঁদের দাবি, এটি সম্পূর্ণ অসত্য এবং কল্পনাপ্রসূত। বলা হচ্ছে, মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন দেয়ালে শিক্ষার্থীদের আঁকা বর্ণিল ও বৈচিত্র্যময় গ্রাফিতি চিত্রের একটি সংকলন ‘দ্য আর্ট অব ট্রায়াম্ফ’ পাকিস্তানের জেনারেলকে উপহার দিয়েছেন। অর্থাৎ, এটা একটা গ্রাফিতি চিত্র। কিন্তু কূটনৈতিক মহলের প্রশ্ন, যখন দুটি বা তিনটি দেশের মধ্যে সম্পর্কের বিষয় থাকে, তখন এতটা দায়িত্বজ্ঞানহীন হওয়া যায় কি ভাবে? ওটা যে মানচিত্র সেটা স্পষ্ট, আর সেই মানচিত্রও বিকৃত করা হয়েছে সেটাও স্পষ্ট। তাহলে কি মুহাম্মদ ইউনূস ইচ্ছাকৃতই গ্রাফিতির নামে বিকৃত মানচিত্র প্রকাশ করলেন। তাও আবার ভারতের ঘোষিত শত্রু পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তার হাতেই ওই বিকৃত মানচিত্র তুলে দিলেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা।
কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে, ভারতীয় ভূখণ্ডের একটি অংশকে কি নিজেদের দিকে টেনে দেখানোর চেষ্টা করল বাংলাদেশ? যদিও নয়াদিল্লির তরফে এখনও পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারি স্তরে কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে কূটনৈতিক মহলের একটা অংশ বলছেন, এই প্রতীকী উপহারের মাধ্যমে নয়াদিল্লিকে বোঝাতে চাওয়া হয়েছে, পাকিস্তানের ভারত-বিরোধী আখ্যানের প্রতি ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীরব সমর্থন রয়েছে। অন্যদিকে একটি সূত্রের দাবি, ‘আর্ট অফ ট্রায়াম্ফ’ উপহারের এই নাটকের চিত্রনাট্যও সম্ভবত লেখা হয়েছে ওয়াশিংটন ডিসিতে। ঢাকার উস্কানিমূলক পদক্ষেপে ভারতের কী প্রতিক্রিয়া হয় তা পরীক্ষা করা হচ্ছে। ভারতের উপরে একটা মানসিক চাপ তৈরির চেষ্টা বলে মনে করছেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post