বাংলাদেশ কি যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে? বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড অন্তত এটাই প্রমান করছে, বাংলাদেশ আসলে ভারতকে যুদ্ধের উস্কানি দিচ্ছে। বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, তৃতীয় কোনও পক্ষ বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎসাহীত করছে ভারতের পায়ে পা লাগিয়ে একটা যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে। আসল ঘটনাটি ঠিক কি?
১৯৭১ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের মানুষদের স্বাধীনতা আন্দোলনের পাশে দাঁড়িয়ে ভারত যুদ্ধ করেছিল পাকিস্তানের বিপক্ষে। জন্ম হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশের। ৫৪ বছর পর খেলা ঘুরে গেল। এবার বাংলদেশই নাকি পাকিস্তানের পাশে দাঁড়িয়ে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে জড়াতে চাইছে। গত বছর আগস্ট মাসে বাংলাদেশের ক্ষমতায় বসেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস। তখন সকলেই ভেবেছিলেন উদারপন্থী ও পশ্চিমী ভাবধারায় বিশ্বাসী ইউনূস বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন করবেন। শেথ হাসিনা যেখানে বাংলাদেশকে রেখে গিয়েছেন, ইউনূস সেটা আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবেন। কিন্তু কয়েকমাসেই বাংলাদেশের মানুষ বুঝতে পারলেন, তাঁদের স্বপ্ন শেষ হতে চলেছে অচিরেই। বাংলাদেশের উন্নতি তো হচ্ছেই না, বরং দিন দিন অবনতি হচ্ছে। বাংলাদেশে বর্তমানে যা হচ্ছে তা সবই ইউনূস সরকারের মনগড়া তথ্যের ভিত্তিতে। কিন্তু কার্যক্ষেত্রে বাংলাদেশের আর্থিক উন্নয়ন কার্যত তলানিতে। জিডিপি থেকে বিদেশী রিজার্ভ, কর্মসংস্থান থেকে শুরু করে শিল্পচিত্র। সবেতেই পিছিয়ে পড়ছে বাংলাদেশ। ভয়ানক মুদ্রাস্ফিতির মুখে বাংলাদেশ। আর এই তথ্য দিতে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফ কিনবা বিশ্বব্যাঙ্কের মতো সংস্থাগুলি। ফলে দিন দিন ইউনূসের ভাওতাবাজি ধরা পড়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সবের থেকে বাংলাদেশের জনগণের ধ্যান অন্যদিকে ঘোরানোর জন্যই একটা যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা জরুরি। আর সেটাই করতে চাইছেন মুহাম্মদ ইউনূস ও তাঁর দোসররা। যদিও আরেকটা অংশের দাবি, পাকিস্তানপন্থী জামায়তে ইসলামীর চাপে মুহাম্মদ ইউনূস এখন পুরোপুরি পাকিস্তানের কাছে বাংলাদেশকে সঁপে দিয়েছেন। আর পাকিস্তান চাইছে ভারতকে দুই দিক থেকে ঘিরে ধরতে। ভারতের পশ্চিমপ্রান্তে এই মুহূর্তে ফের যুদ্ধের দামামা। স্যার ক্রিক এলাকায় চলছে ভারতের বড়সড় যুদ্ধের মহড়া। পিছিয়ে নেই পাকিস্তানও। তাঁরাও সৈন্য সমাহার করছে বলে জানা যাচ্ছে। এর আগে অপারেশন সিঁদূরের সময় ভারতীয় বাহিনীর কাছে পর্যদুস্ত হয়েছিল পাকিস্তান সেনা। যদিও পাকিস্তানের দাবি ছিল তাঁরাই নাকি যুদ্ধে জিতেছে। কিন্তু আন্তর্জাতিক মহলে তাঁদের হাটে হাড়ি ভেঙেছিল ভারত। তাই এবার পাকিস্তান চাইছে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে দুই প্রান্ত থেকেই যুদ্ধে জড়িয়ে দিতে। এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সফরে রয়েছেন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনাকর্তা জেনারেল জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। তাঁর সঙ্গেই বাংলাদেশে এসেছেন পাক সেনাবাহিনীর ইনফ্র্যান্টি ডিভিশনের এক শীর্ষ কর্তা। ফলে মনে করা হচ্ছে, যুদ্ধের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই পাক জেনারেলের এই সফর।
ঢাল নেই তরোয়াল নেই, নিধিরাম সর্দার। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অবস্থা এখন ঠিক তাই। তবুও তাঁরা পায়ে পা বাধিয়ে যুদ্ধের জন্য ভারতকে উস্কানি দিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস একবারও ভাবছেন না, ভারতের মতো শক্তিশালী বাহিনীর বিরুদ্ধে তাঁরা কিভাবে পেরে উঠবেন। যদি কোনও ভাবে যুদ্ধ লেগে যায়, তাহলে ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি হবে বাংলাদেশের। আসলে তিনি পরিত্রাণ চাইছেন, পালানোর পথ খুঁজছেন। সেটাই তাঁর উস্কানির অন্যতম কারণ।












Discussion about this post