মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে বাংলাদেশের রাজনীতিকে আওয়ামী লীগ একেবারে আন্তর্জাতিক ময়দানে নিয়ে এসে ফেলেছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাকে বার বার চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আসছিলো ইউনূস ও তার সন্ত্রাসের সঙ্গীরা। কিন্তু আওয়ামী লীগও জানে কী করে আন্তর্জাতিক মাঠে খেলতে হয়। ইউনূস একাই কেবল আন্তর্জাতিক মাঠের খেলোয়াড় নন, তার বয়সের সমান বয়সী আওয়ামী লীগ যে বহু আগে থেকেই আন্তর্জাতিক মাঠের খেলোয়াড় সেটা প্রমাণ করতে আওয়ামী লীগ সময় নিয়েছে, কিন্তু ঘুরেও দাঁড়িয়েছে।প্রথমে জাতিসংঘের মহাসচিবকে চিঠি দিয়ে তাদের অঙ্গ সংগঠনের দেওয়া রিপোর্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে, যা ইউনূস শেখ হাসিনাকে ফাঁসি দেওয়ার কাজে ব্যবহার করতে চাইছিলো। এরপর, নেদারল্যান্ডের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে সরাসরি ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘণের অভিযোগ তুলেছে আওয়ামী লীগ। আর এই সব মামলার অকাট্য প্রমান থাকার কারণে ইউনূসের সঙ্গে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার দেখা করতে চাননি, এবং কেন দেখা করবেন না, তার কোন কারণও বলেননি।যুক্তরাজ্যের শীর্ষস্থানীয় চেম্বার গুলির একটি হল ডাউটিস্ট্রিট চেম্বার। যার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। তারা আন্তর্জাতিক আদালতে এমন অভিযোগ এনেছে যে ইউনূসের এই এক বছরের শাসন আমলে আওয়ামীলীগের প্রায় চারশোর বেশী নেতা কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয় ঢালাও গ্রেফতারির মাধ্যেমে প্রায় লক্ষ্যাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার এবং বিনা বিচারে আটকে রাখা হয়েছে। বাংলাদেশে গত বছর জুলাই মাস থেকে লাগাতার হিংসাত্মক ঘটনা ঘটছে। এরই মাঝে গত বছর পাঁচ অগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে বিক্ষোভের মুখে। তারপরও বাংলাদেশ হিংসা চলমান। মামলায় বলা হয়েছে মূলত আওয়ামী লিগের নেতা কর্মী সমর্থকদের উপর নিপীড়ন নির্যাতন চলছে। শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের লোকজনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করে অপদস্থ করা হচ্ছে। লাগাতার সন্ত্রাসে গত দেড় বছরে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের প্রায় ৪০০ নেতাকর্মী খুন হয়েছেন বলে দলের তরফে মামলায় দাবি করা হয়েছে।প্রসঙ্গত বাংলাদেশ শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে আইসিসির লোম সংবিধানে স্বাক্ষর করেছিল। ২০১০-এর ২৩ আইসিসির রোম সংবিধান অনুমোদন করে এবং এবছর ১ জুন বাংলাদেশে তা কার্যকর করা হয়। তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হাসিনা। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে বাংলাদেশে নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড, কারাবন্দি করা এবং নিপীড়নের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে। ফলে এইসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা উচিত আইসিসির প্রসিকিউটরের। আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রকৃতপক্ষে তদন্ত বা বিচার হওয়ার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা নেই এবং অপরাধীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে।মামলায় আওয়ামী লিগ আরও বলেছে, বাংলাদেশ এইসব নিপীড়নের ঘটনার সুবিচার পাওয়ার কোন সুযোগ নেই। গত বছর ১৪ অক্টোবর অন্তর্বর্তী প্রশাসন একটি ‘ইমডেমনিটি অর্ডার’ জারি করে। সে সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন: “যেসব ছাত্র ও নাগরিকরা এই আন্দোলন সফল করতে সর্বোচ্চ ভূমিকা রেখেছেন, তারা ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৮ অগস্ট পর্যন্ত তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য কোনো মামলা, গ্রেফতার বা হয়রানির মুখোমুখি হবেন না।।
আওয়ামী লিগ বলেছে এই ধরনের একতরফা দায়মুক্তি শুধু অপরাধীদের দায়মুক্তি নয়, এটি রাষ্ট্রের নীরব সমর্থনের ইঙ্গিতও দেয়। বাংলাদেশে যখন তদন্ত ও বিচার হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই, তখন ন্যায়বিচার পাওয়ার সর্বোত্তম পথ হলো আইসিসি প্রসিকিউটরের একটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করা।












Discussion about this post