ঢাকা থেকে হেগে গেলেন ইউনূস।
শুনতে কেমন লাগছে। তা লাগতেই পারে। তবে ইউনূস হেগে গিয়েছেন সশরীরে নয়, অশরীরে গিয়েছেন। সেই বিষয়ে যাওয়ার আগে ছোট্ট একটি ঘটনার উল্লেখ করতে হয়।
গত বছর জানুয়ারির কথা। বাংলাদেশের একটি আদালত নোবেল ম্যানকে ছ মাসের কারাবাসের সাজা দেয়। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে শ্রম আইন লঙ্ঘনের। ওই মামলায় আরও তিনজনের কারাবাস হয়েছিল। ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটতে চলেছে। তবে এবার একটু অন্যভাবে।
ইউনূসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে খুন, নৃশংসতা, নির্যাতন, কারাবন্দীকরণ সহ নানা ধরনের মানবতাবিরোধী কাজে লিপ্ত থাকার। আওয়ামী লীগের হয়ে নোবেল ম্যানের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন লন্ডন ডাউটি স্ট্রিট চেম্বার্সের বিশিষ্ট আইনজীবী স্টিভেন পাওলেস কেসি। তিনি তাঁর মামলায় বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারের সঙ্গে যুক্ত নেতা কর্মীদের টার্গেট করে যে ব্যাপক প্রতিশোধমূলক সহিংসতা চালানো হয়েছে,যেমন খুন, কারাবন্দিকরণ, নিপী়ড়ন মানবতাবিরোধী অপরাধের সমতুল্য। এর তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কিন্তু বাংলাদেশে তদারকি সরকাররের অধীনে এই বিচারপ্রক্রিয়ায় ন্যায় বিচার কোনওভাবেই সম্ভব নয়। ফলে, এই অপরাধের সঙ্গে যারা জড়িত তারা দায়মুক্তি লাভ করছে।’
চার্জশিটে এও বলা হয়েছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে আওয়ামী লীগ এবং দলের অঙ্গসংগঠনের ৪০০ নেতা-কর্মীকে খুন করা হয়েছে। এরা হাসিনা-বিরোধী দল বা জনরোষের শিকার। অভিযোগের স্বপক্ষে স্টিভেন পাওলেস কেসি তুলে দেন ভিডিও ফুটেজ এবং ওই সব ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান। চার্জশিটে এও বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের সমর্থক, নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করে দিনের পর দিন জেলে আটকে রাখা হয়েছে। তাদের জামিনের কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। গ্রেফতারের হাত থেকে রেয়াত পাচ্ছে না সাংবাদিক, বিচারপতি, আইনজীবীরাও। চার্জশিটে এও বলা হয়েছে, জুলাই অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগের ২৫ জন সমর্থককে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাদের রেখে দেওয়া হয় জেল অথবা থানায়। এই ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। শরীরে পাওয়া গিয়েছে আঘাতের চিহ্ন। যা থেকে স্পষ্ট জেলে বা থানায় রেখে এদের শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়। অথচ মৃত্যুর শংসাপত্রে কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে হৃদরোগে আক্রান্ত।
চার্জশিটে আরও একটি ভয়ংকর তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। যা এতোদিন পর্যন্ত সকলের অজানা ছিল। আইনজীবী স্টিভেন পাওলেস কেসির দায়ের করা চার্জশিটে বলা হয়েছে, চলতি বছর ফেব্রুয়ারিতে ইউনূসের সরকার গোপনে একটি অভিযান চালায়, যে অভিযানের নাম ছিল অপারেশন ডেভিল হান্ট। উদ্দেশ্য আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়া। যৌথ অভিযান চালায় সেনা এবং বাংলাদেশ পুলিশ। অভিযান চলে ১২ দিন। এই ১২ দিনে সেনা ও পুলিশ গ্রেফতার করে ১৮ হাজার মানুষকে। যারা কোনও না কোনওভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে জড়িত। চার্জশিট আরও বলা হয়েছে, গত ১৪ অক্টোবর ইউনূস সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি ‘রক্ষাকবচ অধ্যাদেশ’ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, গত জুলাই অভ্যুত্থানে যে সব ছাত্র এবং নাগরিক সমাজের তরফে যাঁরা অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে যেন কোনও পদক্ষেপ না করা হয়। এই অধ্যাদেশের অর্থ অপরাধীদের ছাড় দেওয়া। এর থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে এই সব অপরাধীদের পাশে রয়েছে তদারকি সরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post