প্রতিবেদনের বিষয়ে যাওয়ার আগে সত্যজিৎ রায়ের ‘হীরক রাজার দেশে’ ছবির এই গানটির কথা স্মরণ করতে হয়।
‘আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে। শাখে শাখে পাখি ডাকে, কত শোভা চারি পাশে।’
ওই গানেই আছে আরও একটি লাইন ‘আজকে বড়োই সুখের দিন। আজ ঘরের বাঁধন ছেড়ে মোরা হয়েছিল স্বাধীন। আজ আবার মোরা ভবঘুরে। মুলুক ছেড়ে যাব দূরে।’
মুলুক ছেড়ে একাধিকবার ভিন দেশে গিয়েছিলেন ইউনূস। গত ১৪ মাসে তিনি স্বাধীনভাবে ঘুরে বেরিয়েছিলেন। অগাস্টে ক্ষমতা হাতে নেওয়ার পর গিয়েছিলেন ইতালি, জাপান, থাইল্যান্ড, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ব্রিটেন, আমেরিকা, আজারবাইজান, মিশর, সুইৎজারল্যান্ড। গিয়েছিলেন রোম এবং মালয়েশিয়া। তার এই ঘন ঘন বিদেশ সফর দেখে বাংলাদেশের একটি গণমাধ্যম একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে, যার শিরোনাম ছিল ‘মুহম্মদ ইউনূস: দ্য হ্যাপি ফ্লায়ার।’ বাংলা তর্জমা করলে অনেকটা এরকম যিনি ঘুরতে ভালোবাসেন। যাওয়ার কথা ছিল সৌদি আরব এবং ফ্রান্স। সৌদি রাজ তথা প্রধানমন্ত্রী মোহম্মদ বিন সালমানের আমন্ত্রণে তাঁর সে দেশে যাওয়ার কথা থাকলেই শেষ মুহূর্তে সফর তাঁকে বাতিল করতে হয়েছে। ফ্রান্স সফরও তাকে বাতিল করতে হয়েছে। কারণ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে তাঁর দেখা করার খুব ইচ্ছে ছিল। কিন্তু প্রেসিডেন্টের দফতর থেকে জানিয়ে দেওয়া হয় তিনি ইউনূসের জন্য তিনি সময় দিতে পারছেন না। একই অবস্থা হয়েছে জাতিসঙ্ঘ সফরের সময়। ইউনূস চেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করার। ইউনূসকে পাত্তাই দেয়নি ওয়াশিংটন ডিসি। ঠিক ছিল তিন স্পেন যাবেন। সব ঠিক। একেবারে শেষ মুহূর্তে সফর বাতিল করতে হয়। যিনি বাই উঠলেই কটক যান, সেই মানুষটা এতগুলি সফর বাতিল করলেন কেন?
নোবেলে শান্তি পেলেও যমুনায় তুমুল অশান্তি। সেই অশান্তির জেরে ইউনূস রীতিমতো অশান্ত, অস্থির হয়ে পড়েছেন। তাঁর মনে অশান্তি, প্রাণে অশান্তি। আর কদিন বাদেই তাকে হয়তো চলে যেতে হবে। শেষ সময়ে এসে কার ভালো লাগে এভাবে একের পর এক অশান্তির মুখোমুখি হতে। অশান্তি শুরু করেছে জামায়াত, এনসিপি এবং বিএনপি। উপদেষ্টা পরিষদের সাত সদস্য, যাদের মধ্যে ছয়জন পূর্ণ সময়ের সদস্য। আর এদের নিয়ে ইউনূসের ঘরে গৃহযুদ্ধ লেগেছে। তিন দলের তরফ থেকে আলাদা আলাদা ভাবে স্যর ইউনূসের কাছে নালিশ জমা করা হয়েছে। এরা একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ করেছেন। প্রথম তাঁর সঙ্গে দেখা করে বিএনপির এক প্রতিনিধিদল। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল আলমগীর। ঠিক তার পরের দিন নোবেল ম্যানের সঙ্গে দেখা করেন জামায়াতে ইসলামীর প্রধান উপদেষ্টা। জাতীয় নাগরিক পার্টির তরফ থেকে তাদের এক প্রতিনিধিদল হেড স্যরের সঙ্গে দেখা করেন। বিএনপি হেড স্যারের হাতে একটি লিস্ট তুলে দিয়েছে। তাদের লিস্টে নাম রয়েছে জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব শেখ আব্দুর রসিদের। জামায়াতও হেড স্যরের হাতে একটি লিস্ট তুলে দিয়েছে। তবে সে লিস্টে কাদের নাম রয়েছে, সেটা তারা জানায়নি। একটি সূত্র বলছে, তাদের তালিকায় তদারকি সরকারের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের নাম থাকার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন দলের অভিযোগ আলাদা হলেও মূল সুর একটাই। এই উপদেষ্টারা নিরপেক্ষ নন। এদের অবিলম্বে সরিয়ে দেওয়া দরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post