হাসিনার আমলে যা হয়নি, ইউনূসের আমলে সেটা হল। হাসিনার নীতি ছিল, ঢাকা আর ইসলামবাদ এক সারিতে বসে খেতে পারে না। এমনকী ঢাকার উত্তরপাড়ার সঙ্গে রাওয়ালপিন্ডির মাখামাখি তিনি পছন্দ করতে না। আর ইউনূস এসেই কুঁজো উলটে দিলেন। পাকিস্তান সফরে যান সে দেশের জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান শাহির সামসাদ মির্জা। তাঁর সঙ্গে গিয়েছেন আট সদস্যের এক প্রতিনিধিদল। ইউনূসের সঙ্গে তাঁরা বৈঠক করেন। বৈঠক হয়েছে রাষ্ট্রীয় অতিথিশালা যমুনায়। বাংলাদেশের সরকারি ভাষ্যে এই বৈঠককে সৌজন্য সাক্ষাৎ বলা হয়েছে। তদারকি সরকার প্রধানের প্রেস উইং থেকে এই বৈঠক প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘বৈঠকে উভয়ে বিভিন্ন বিষয়ে মত বিনিময় করেন। বিষয়ের মধ্যে ছিল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, দুই দেশের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ এবং দ্বিপাক্ষিক স্তরের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা। ’ এই সরকারি বিবৃতি পাগলেও বিশ্বাস করবে না। আর সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি তো ভাইরাল হয়ে গিয়েছে, সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে পাক জেনারেলকে বাংলাদেশের মানচিত্রে সাত সিস্টার্স দিলেন ইউনূস।
রবিবার ইউনূস এক্স হ্যান্ডেলে শাহির সামসাদ মির্জার সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি পোস্ট করেন। সেই ছবিতে দেখা গিয়েছে, ইউনূস পাক জেনারেলের হাতে একটি বই তুলে দিচ্ছে। বইয়ের শিরোনাম দ্য আর্ট অফ ট্রায়াম্প। এই বইয়ের প্রচ্ছদে একটি মানচিত্র রয়েছে যেটি বিকৃত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ওই ছবিতে দেখানো হয়েছে, ভারতের সাতটি উত্তরপূর্বের রাজ্য বাংলাদেশের সম্পত্তি। ঢাকার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলা হচ্ছে, ভারতের সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ছিনিমিনি খেলছে। এই খবর লেখা পর্যন্ত সাউথ ব্লক থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন উঠছে, কেন পাকিস্তান সেনার এক শীর্ষকর্তা বাংলাদেশ গেলেন? শুধুই কি বানিজ্যে বসতি লক্ষ্মীর জন্য? একাবারেই নয়। সম্প্রতি ভারতের গোয়েন্দা শাখার এক প্রতিনিধিদল বাংলাদেশ গিয়েছিল। তাদের হাতে ছিল বেশ কিছু পাকা-পোক্ত প্রমাণ। মানে স্যাটেলাইট ইমেজ। তারা সেনাপ্রধান ওয়াকারের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে ওই সব নথিপত্র তুলে দেন। দলটি থাকার কথা ছিল তিনদিন। সফরের মেয়াদ আরও একদিন বাড়িয়ে চারদিন করা হয়। তাদের দেশে ফিরে আসার পরে পরেই বাংলাদেশ গেলেন পাকিস্তান সেনার জয়েন্ট চিফ অব স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর ঢাকা যাওয়ার অলিখিত উদ্দেশ্য হল, সে দেশের মাটি থেকে কীভাবে ভারত-বিরোধী কার্যকলাপ সংঘঠিত করা যায় তা নিয়ে যমুনার বাসিন্দার সঙ্গে একটু আলাপ করা। মানে, তিনি তাঁর সুরে সুর মেলান কি না, সেটা যাচাই করতেই শাহির সামসাদ মির্জা ঢাকা গিয়েছিলেন।
আর এটা তো জলের মতো পরিষ্কার যে বাংলাদেশে হাসিনা সরকার পড়ে যাওয়ার পর থেকে পাকিস্তান আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে। কীভাবে ভারতকে অশান্ত করা যায় তার জন্য লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে একাধিক জঙ্গি সংগঠন গড়ে তোলাই হয়েছে সেই উদ্দেশ্যে। পাকিস্তানের চরমপন্থী দলগুলিও কিন্তু হাতে হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারাও তলে তলে ভারতকে অস্থির করে তোলার চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে। অপর দিকে ইউনূস তাঁর সাম্প্রতিক অতীতে যে সব দেশে গিয়েছিলেন, সেই সব দেশে ওই সেভেন সিস্টার্সের বিষয় উল্লেখ করেন। চিন সফরের সময় ইউনূসের সেই অমোঘ ঘোষণা মনে আছে নিশ্চই – ‘ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি স্থলবেষ্টিত। আমরা এই অঞ্চলের সমুদ্রের শাসন করি।’ অনুমান করা যেতে পারে, তাঁকে কে এই সাহস দিল?












Discussion about this post