কেন এতদিন জনগণ ও সরকারের টাকা খরচ করে একের পর এক চা, কফির মিটিয়ং করে তথাকথিত জুলাই সনদ সকলকে দিয়ে সই করিয়ে সেইটাই আবার বদলে দিল অধ্যাপক আলী রীয়াজের কমিশন ? ইউনুস ক্ষমতায় আসার পর জাতির ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন জাতীয় ঐক্যমত্ত কমিশন।
এই জাতীয় ঐক্যমত্ত কমিশনকে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন এটি নামেই জাতীয় ঐক্যমত্ত কমিশন কিন্তু কার্যত অনৈক্যের কমিশন। এই কমিশনের সভায় তিনি নিজে বহুবার অংশ নিয়েছেন, বক্তব্য রেখেছেন। কিন্তু এখন অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে এই কমিশন জামায়াতের প্রেসকিপশন অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের নামে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫ জাতির ওপর চাপাতে চাইছে তখন হুশ ফিরেছে বিএনপির। বিএনপি এখন বুঝেছে এই সনদ একটি রাজনৈতিক কৌশল। রাষ্ট্রকে স্থায়ীভাবে সামরিক ও আমলাত্রান্তিক নিয়ন্ত্রণের দিকে নিয়ে যাওয়ার পথ নকশা।
অন্তরবর্তী সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনূসের হাতে কমিশন যে নথি দিয়েছে তার নাম জুলাই জাতীয় সনদ সংবিধান সংস্কার ( বাস্তবায়ন আদেশ ২০২৫ )। এই আদেশ অনুযায়ী গণ ভোটের মাধ্যমে সংবিধান সংস্কার হবে। ভোটারদের সামনে থাকবে একটি প্রশ্ন তা হল, আপনি কী জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে ? ৪৮ টি পৃথক প্রস্তাবের মধ্যে কিছুতে মত থাকলে এবং কিছুতে মত না থাকলেও হ্যাঁ অথবা না বলতে হবে এইটাই কমিশনের গণ ভোট। অর্থাৎ, মানুষজন জানবেই না তারা কীসে হ্যাঁ বলছে আর কীসে না।
২৭০ দিনের একটি বিধানে লুকিয়ে আছে আসল সত্য। কমিশনের সহ সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার সম্পন্ন করবে। আর তা সময়ের মধ্যে না করতে পারলে গণ ভোটে অনুমোদিত প্রস্তাব গুলি স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে সংবিধানে। এই কথাতেই বোঝা যাচ্ছে কমিশনের আসল উদেশ্য। ২৭০ দিনের এই ডেড লাইন সংবিধান সংস্কার পরিষদের হাতে বেঁধে দেওয়ার সময় নয়। উল্টে তা একধরণের জোর পূর্বক নির্দেশনা। যদি পরিষদ ব্যর্থ হলে কোনও সংসদীয় অনুমোদন ছাড়াই প্রস্তাব গুলি নিজে থেকে পাশ হয়ে যাবে। যেমন হয়েছিল করোনার সময়। আবার এই সরকার ক্ষমতায় এসে অটো পাশ দিল। এই সরকার যে এই কাজ করবে তাতে ভেবে অবাক হওয়ার কিছুই নেই। কারণ এই সরকার অটো পাশের সরকার। অর্থাৎ, সংবিধান পরিবর্তন হবে ভোট ছাড়া, আলোচনা ছাড়া, বিতর্ক ছাড়াই।
এই প্রেক্ষিতে বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এই প্রস্তাবকে অটো পাশের মত হাস্যকর বিষয় বলেছেন। তিনি বলেছেন, অটো পাশ থাকতে পারে পরীক্ষায় সংবিধানে নয়। সংবিধানের কোনও সংশোধনে আলোচনা, রাষ্ট্রপতির অনুমোদন, স্পিকারের সাক্ষর এই প্রক্রিয়ায় হয়। ২৭০ দিনের মধ্যে কাজ না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত হবে এটা সংবিধান নয় এটাকে বলে প্রহসন। এই ২৭০ দিনের ধারার মাধ্যমে সংসদটি অকার্যকর করে দেওয়া হচ্ছে। কারণ পরিষদের সদস্য হবেন, এই সংসদ সদস্যরাই। যারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন। মানে নির্বাচিত প্রতিনিধি হলেও তাদের ভূমিকা হবে পূর্ব নির্ধারিত। রায় বাস্তবায়িত করার বিতর্ক বা চিন্তা নয়। এইখানেই ঐক্যমত্ত কমিশনের বাটপারি। নাম হত গণতন্ত্র কিন্তু বাস্তবে তা নিয়ন্ত্রিত শাসন ব্যবস্থা। এই চক্রান্তই ধরে ফেলেছেন বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, আলোচনায় যা বলেছি তার কিছুই নেই আদেশে। তার অভিযোগ, কমিশন জুলাই সনদের বাইরে নতুন ধারা গুলিও সংযুক্ত করেছে। এমনকি মুছে ফেলা হয়েছে ভিন্ন মতের নোট গুলিও।
এই যে প্রক্রিয়া তা শুধু বাটপারি আর অসততাই নয় এটি রাজনৈতিক প্রতারণাও। কারণ ঐক্যমত্ত কমিশন বলেছিল, যারা নির্বাচনে মেন্ডেট পাবে তারা তাদের ভিন্ন মত সংবিধানে যুক্ত করতে পারবে। কিন্তু নতুন আদেশে ভিন্ন মতের অস্তিত্বই মুছে ফেলা হয়েছে।












Discussion about this post