বাংলাদেশের সরকারের অপদার্থতায় বাংলাদেশকে নিয়ে এখন শুধু ব্যবহার করার খেলা করা হচ্ছে। কখনও পাকিস্তান, কখনও আমেরিকা আবার কখনও চীন ব্যবহার করছে। হাসিনার সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর দক্ষিণ এশিয়ার মানচিত্রে নতুন করে আঁকা হচ্ছে রেখা গুলো। চীনের সাথে বাড়ছে বাংলাদেশের মিত্রতা। বাংলাদেশে একে একে গড়ে উঠেছে চীন অর্থনৈতিক অঞ্চল, সড়ক, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এমনকি বন্দরেও লাগে চীনের ছোয়া।
উত্তরবঙ্গের দুটি বিমানঘাঁটি ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময় সক্রিয় অবস্থায় ছিল। সেই ঘাঁটি গুলোই স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে অচল। বিমানঘাঁটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উপদেষ্টা সহ শীর্ষ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গদের মুখে শোনা গেছিল, ভারতের চিকেন নেক অর্থাৎ ভারতের উত্তর – পূর্বাঞ্চলীয় সাত রাজ্যকে এর মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করে মুরগির গলার মতো অংশ চিকেন নেক। এই অংশটির কাছেই অবস্থিত এই ঠাকুরগাঁও ও লালমনির হাটের দুটি পরিত্যক্ত বিমানঘাঁটি। চলতি বছর মে মাসে বাংলাদেশ সেনা বাহিনীর উর্ধতন কর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাজিমুদ্দৌলা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, বাংলাদেশ সেনা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে ভাবছে ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট এই দুটি বিমানঘাঁটি সচল করা প্রয়োজন। এরপরই ভারত নড়েচড়ে বসে। এর পরেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম মনে করে চিনের সহায়তায় বাংলাদেশ ঠাকুরগাঁও ও লালমনির হাট বিমানঘাঁটি আবার সচল করতে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ এই লালমনিরহাট এয়ারবেসটি চীনের হাতে তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু সেই পরিকল্পনা ভারত ভেস্তে দেয়। কারণ চীনের ইচ্ছা পূরণ হয়ে যেত। তার কারণ
চীন এতদিন ধরে চাইছিলো চিকেন নেকসের ওপর কড়া নজরদারি চালাতে ফলে চীনা মিলিটারি এই স্থানে পৌঁছালে তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়ে যেত। পরবর্তীকালে শোনা গেছিল, বাংলাদেশ যে ডেভলাপমেন্টের কাজটা করছে তাতে তারা প্রচুর সংখ্যক চীনা শ্রমিককে কাজে লাগিয়েছিল। অর্থাৎ ভারতের বিপক্ষে ষড়যন্ত্র করতে গিয়ে তারা চীনের হাতে এই মিলিটারি ইনফাস্ট্রাকচারটি তুলে দিচ্ছে। যাতে চীন ও পাকিস্তান ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর ও চিকেনস নেকের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
১০ বছর আগে হওয়া চুক্তি বাংলাদেশের সাথে বাতিল করল ভারত। কিন্তু কেন এই সিদ্ধান্ত নিল ভারত ? বাংলাদেশ তাদের ইতিহাসে লালমনিরহাট এয়ারবেসে সবচেয়ে বড় একটি লার্জ হ্যাঙ্গার তৈরী করছে। এই লার্জ হ্যাঙ্গার হল পার্কিং লট অর্থাৎ ফাইটার জেট পার্কিং করার জায়গা। এধরণের পার্কিং লট লালমনিরহাট এয়ারবেসে আগে ছিল না। অর্থাৎ শিলিগুড়ির করিডরের কাছে তারা ফাইটার জেট পার্ক করতে চাইছে। একটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো তা হল, লালমনিরহাট এয়ারবেস থেকে ভারত – বাংলাদেশের দূরত্ব মাত্র ২০ কিলোমিটার। আর এইখানেই বাংলাদেশ তাদের দেশের সবচেয়ে বড় এয়ারবেস পার্কিং লটটি তৈরী করার প্রয়োনীয়তা মনে করল। এ থেকে স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে, তারা নতুন করে মিলিটারি ইনফাস্ট্রাকচার তৈরী করতে চাইছে। বাংলাদেশ সরকার এই মুহূর্তে পুরোনো আমলের জে ৭ প্লেন ব্যবহার করেন। যা কিছুদিন আগে একটি ক্র্যাশ হয়েছে। প্রকাশ্যে এসেছে আরও একটি বিষয় তা হল তারা চীনের থেকে দু ধরণের ফাইটার জেট কিনতে চলেছে। তারা ২ . ২ বিলিয়ন ডলারে ২০ টি জে ১০ সি ফাইটার জেট এবং ১৬ টি জে ১৭ ফাইটার জেট চীনের থেকে কেনার কথা ভেবেছে। মনে করা হচ্ছে এগুলি লালমনিরহাট এয়ারবেসে পার্ক না করে অন্য কোথাও পার্ক করার বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ এই প্রাগৈতিহাসিক লালমনিরহাট এয়ারবেসটি ব্যবহারই করত না। কিন্তু নতুন করে চীনের মদতে বাংলাদেশ তার মিত্র দেশ ভারতের সাথে শত্রুতা করতে চাইছে। কিন্তু এত কিছুর পরেও ভারত নিজের সিদ্ধান্তে অনড়।
খেয়াল করলে দেখা যাবে, বাংলাদেশের এই সরকার প্রথম থেকেই একটি ভারত বিরোধী মনোভাব নিয়ে চলেছে। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনুস ক্ষমতায় আসার আগেই ভারতের বিরুদ্ধে নানান মন্তব্য করেছিলেন। ভারতের তরফে যে সকল চুক্তি বাতিল করা হয়েছে তার কারণ, ভারতের অর্থায়নে বাংলাদেশের সড়ক, রেল এই সকল প্রকল্পগুলি হাসিনার সরকার পতনের পর এই প্রকল্পে কর্মরত ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে সকল কর্মীরা চলে গেছেন যার ফল স্বরূপ প্রজেক্ট গুলি বন্ধ হয়ে গেছে। সাথে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ভারতীয় অর্থায়নও। বাকি যে সকল প্রজেক্ট এখনো শুরু হয়নি সেগুলো ভারত আর ভারত বিরোধী সরকারের সাথে কাজ করতে আগ্রহী নয়।
অপরেশন সিঁদুরে ভারত পাকিস্তানের ঘরে ঢুকে মেরে আসার পর কিছুদিন আগেই পাকিস্তানকে ভারত সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে ভারত এরপর আর একফোঁটাও কোনও ছাড় দেবে না পাকিস্তানকে। যেই ভারত বাংলাদেশের পক্ষে দেওয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে সেই বাংলাদেশই এখন চীনা মদতে চলছে। ফলে বাংলাদেশ যদি শক্তিশালী দেশ ভারতের সাথে যুদ্ধ বা শত্রুতা করার কথা ভাবে তাহলে ভারতের তরফে তাদের আগামী দিনে কী হবে তা স্পষ্ট বোঝাই যাচ্ছে। কথাতেই আছে ওস্তাদের মার শেষ রাতে।












Discussion about this post