বাংলাদেশে রাজনৈতিক দলগুলির একাংশ যখন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য তোড়জোড় করছে, তখনই একদল সেই নির্বাচন ভেস্তে দেওয়ার কাজে মগ্ন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশের রাজনীতি নির্বাচন, গণভোট, জুলাই সনদের মতো বিষয় নিয়ে সরগরম। তখন বাংলাদেশের কট্টরপন্থী ও মৌলবাদী শক্তিগুলি একজোট হয়ে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলির উপরে ভয়ঙ্কর আক্রমণের পরিকল্পনা তৈরি করছে। এমনটাই জানতে পেরেছে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। আর তা জানার পর নয়া দিল্লিতে শুরু হয়েছে তৎপরতা। সূত্রের দাবি, বিভিন্ন তথ্য ও খবর বিশ্লেষণ করে ভারতের গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি প্রাথমিক ভাবে নিশ্চিত, বাংলাদেশে ইসকনের মতো হিন্দু সংগঠনকে নিশানা করে একটা ধর্মীয় জিগির তোলার চেষ্টা চলছে। আর এতে মদত দিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের একটা প্রভাবশালী অংশ। কট্টরপন্থীদের আসল লক্ষ্য, ১৯৪৬ সালের নোয়াখালি দাঙ্গার ধাঁচে বাংলাদেশ জুড়ে হিন্দু ও বৌদ্ধদের উপর সংঘবদ্ধ হামলা চালানো। এতে বাংলাদেশ জুড়ে তৈরি হবে রাজনৈতিক ও সামাজিক অস্থিরতা, আর তাতেই ভেস্তে যাবে বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন। এর প্রভাব যাতে পড়শি দেশ ভারতেও পড়ে সেই পরিকল্পনাও রয়েছে বাংলাদেশের কট্টরপন্থী সংগঠনগুলির। ইতিমধ্যেই দিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কাছে এই মর্মে একটি রিপোর্টও পাঠিয়েছেন গোয়েন্দা এজেন্সিগুলি।
প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস নিজেই সে দেশের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে উগ্র ইসলামিক জিহাদি সংগঠন গুলিকে মদদ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন বাংলাদেশের কয়েকটি হিন্দু সংগঠন। একই অভিযোগ তুলেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ বা আরআরএজি। এ বিষয়ে মুহাম্মদ ইউনুসের কঠোর নিন্দা করে আরআরএজি’র পরিচালক সুহাস চাকমা দাবি করেছেন, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহ বাংলা টিম, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগকে লাগামহীনভাবে ব্যবহার করার সুযোগ দিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। প্রসঙ্গত, গত ২৩ অক্টোবর, মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমর্থনে কয়েকটি ইসলামপন্থী সংগঠন যৌথভাবে ঢাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ইসকনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়ে। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা নানান উসকানিমূলক স্লোগানের পাশাপাশি নিষিদ্ধ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএসআইএসের পতাকাও উড়িয়েছে। যা সোশ্যাল মিডিয়ায় এখন ভাইরাল। তবুও ইউনূস সরকার কাউকে গ্রেফতার করা তো দূর, কোনও ব্যবস্থাও গ্রহণ করেনি। এটাই প্রমান, এই সরকার উগ্রবাদকে মদত দিচ্ছে।
অন্যদিকে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলি যে তথ্য হাতে পেয়েছে, সেটাও মারাত্মক। জানা গিয়েছে, টঙ্গীর একটি মসজিদের খতিব মোহম্মদ মুহিবুল্লার ছেলে সম্প্রতি গাজীপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগে দাবি করেন। তাতে তিনি দাবি করেন, তাঁর বাবাকে ইসকনের সদস্যরা অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছে। এমনকী পোশাক খুলে যৌন নির্যাতনও করা হয়েছে। এরপর পায়ে শিকল বেঁধে ফেলে দিয়ে যায়। ঘটনার তদন্তে নেমে গাজীপুর থানা বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে জানতে পারে, এটা মিথ্যা দাবি। নিজেই বাসে করে ঠাকুরগাঁও গিয়েছিলেন মুহিবুল্লা। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন, ওই ব্যক্তির ছেলে বিভিন্ন সভা মজলিসে এবং ফেসবুকে ‘একশো ইসকন হত্যা’র অঙ্গীকারের কথা বলে বিস্তর সাম্প্রদায়িক প্রচার করছেন। অর্থাৎ, মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করে ইসকনকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে প্রতিপন্ন করার একটা প্রয়াস গোটা বাংলাদেশেই চলছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, আসলেই একটা হিন্দু মুক্ত বাংলাদেশ তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে ইসলামিক কট্টরপন্থী সংগঠনগুলি। আর মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার প্রত্যক্ষভাবেই তাতে মদত দিচ্ছেন। সব চেয়ে বড় কথা, ফেসবুকে #tmd ট্যাগলাইনে গত এক সপ্তাহ ধরে সংখ্যালঘুদের গণহত্যার পক্ষে আগ্রাসী প্রচার চলেছে কয়েকটি সংগঠন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই হ্যাসট্যাগের অর্থ হল বিধর্মীদের নিধন করো। এই হ্যাশট্যাগে সার্চ করলে প্রায় তিন লক্ষ এমন ভয়ানক পোস্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে, ভারতীয় গোয়েন্দারা যাকে সুপরিকল্পিত প্রোপাগান্ডা বলেই মনে করছেন। মূলত সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে আগুন লাগানো, তাঁদের হত্যা করার ছবিও প্রচার করা হচ্ছে ওই সমস্ত পোস্টে। গোয়েন্দা এজেন্সিগুলির মতে, যে কট্টরপন্থী শক্তি এই কাজে নেমেছে, তাদের লক্ষ্য গণতন্ত্রকে উচ্ছেদ করে বাংলাদেশে খিলাফত কায়েম করা। আর এটা করা হচ্ছে সুপরিকল্পিতভাবেই। তাতে সায় রয়েছে অন্তর্বর্তী প্রশাসনের। এমনকি এই পরিকল্পনায় মদত রয়েছে পাকিস্তানেরও। তাহলে কী বাংলাদেশ পুরোপুরি ইসলামিক দেশে পরিণত হয়ে যাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন বিশ্লেষকরা।











Discussion about this post