ক্রমশ ভারতবিরোধী শক্তির আঁতুড়ঘরে পরিণত হচ্ছে মুহাম্মদ ইউনূসের বাংলাদেশ। যা ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। এমনকি এটা এপার বাংলার জন্যও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিগত কয়েকমাসে বাংলাদেশে একের পর এক ভারতবিরোধী শক্তির আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান, তুর্কির মতো ভারতের শত্রু রাষ্ট্রের আনাগোনা যেমন বেড়েছে, তেমনই শীর্ষ জঙ্গিনেতা এবং কট্টরপন্থী ইসলামিক ধর্মপ্রচারকদের বাংলাদেশে দেখা যাচ্ছে ঘন ঘন। যা অবশ্যই ভারতীয় গোয়েন্দাদের রাতের ঘুম উড়িয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। সেই সঙ্গে নয়া দিল্লির কপালেও চিন্তার ভাঁজ বাড়চ্ছে।
প্রতিরক্ষা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ভারতের আভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের শেষে বিহারে বিধানসভা নির্বাচন এবং আগামী বছরের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গ ও অসমেও বিধানসভা নির্বাচন হবে। বাংলাদেশ লাগোয়া এই রাজ্যগুলির বেশ কয়েকটি জেলায় জনবিন্যাস পরিবর্তন হয়ে গিয়েছে। আর সেটা করা হয়েছে অত্যন্ত ধীরে এবং সুপরিকল্পিতভাবে। ঠিক এই আবহেই এবার বাংলাদেশে একের পর এক শীর্ষ জঙ্গি তথা কট্টরপন্থী ধর্মীয় প্রচারকদের আনাগোনা বাড়ছে। যেমন এই মুহূর্তে বাংলাদেশে নিশ্চিন্তে ঘুরে বেড়াচ্ছে লস্কর-ই-তৈবার প্রধান হাফিজ সৈয়দ ঘনিষ্ঠ ধর্মপ্রচারক ইবতিসাম ইলাহি জহির। বাংলাদেশের ভারত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলিতে ওই জঙ্গিনেতা একের পর এক সভা করছেন, ভারতবিরোধী ভাষণ দিচ্ছেন। কিন্তু মুহাম্মদ ইউনূসের সরকার কোনও পদক্ষেপ তো নিচ্ছেই না, উল্টে তাঁকে নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে মঙ্গলবারই বাংলাদেশে পৌঁছলেন কট্টর ধর্মীয় নেতা জাকির নায়েক। মনে করা হচ্ছে, বাংলাদেশে ক্রমশ বাড়তে থাকা মৌলবাদের আগুনে পাখার বাতাস দিতেই জাকির নায়েক পৌঁছলেন সে দেশে। বিমানবন্দরেই তাঁকে রেড কার্পেটে অভ্যর্থনা জানানো হল। জানা যাচ্ছে, প্রায় একমাস তিনি বাংলাদেশে থাকবেন জাকির, ২৮ নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। গতবছর পাকিস্তান সফরে গিয়েছিল জাকির নায়েক। সেবার লস্কর জঙ্গি মুজাম্মেল ইকবাল হাশমি-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক জঙ্গির সঙ্গে আলাদা করে বৈঠক করেছিলেন ভারত থেকে পালানো এই ধর্মগুরু। এবার জাকিরের বাংলাদেশ সফর নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। তাই তাঁর সফরের উপর কড়া নজর রাখছে ভারতীয় গোয়েন্দা এবং গুপ্তচররা।
শেখ হাসিনার বিদায়ের পর জামায়তে ইসলামীর কোলে বসে ‘চিরশত্রু’ পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছে মহম্মদ ইউনুস সরকার। তারপর থেকেই ঘন ঘন পাকিস্তানের শীর্ষ সেনাকর্তারা বাংলাদেশ সফর করেছেন। সেই সঙ্গেই জঙ্গি, জিহাদি এবং ইসলামিক ধর্মগুরুদের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে কয়েকগুণ। বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ভারতের চিকেন নেক বা শিলিগুড়ি করিডোর লাগোয়া পশ্চিমবঙ্গ ও বিহারের কয়েকটি জেলায় জনবিন্যাস বদলে গিয়েছে। এই জেলাগুলিতে বিগত কয়েক বছরে বিপুল হারে বৃদ্ধি হয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের। মনে করা হচ্ছে, তাঁরা মূলত অবৈধ উপায়ে বাংলাদেশ থেকে এসে এই সমস্ত এলাকায় বসবাস করছেন। সম্প্রতি ভারত সরকার অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে বাংলাদেশে পুশব্যাক করার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু তাতেও আপত্তি জানাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সরকার। সমস্যায় পড়ছে কেন্দ্রীয় সরকার। অন্যদিকে বেছে বেছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের রাজশাহী ও চাপাইনগঞ্জ জেলায় একাধিক সভা করছেন লস্কর প্রধান হাফিজ সৈয়দ ঘনিষ্ঠ ইবতিসাম ইলাহি জহির। এই সপ্তাহেই তাঁর রংপুরে যাওয়ার কথা। তাঁর জন্য আয়োজন করা হচ্ছে একাধিক ধর্মীয় সভার। ইবতিসাম ইলাহি জহির পাকিস্তানের মার্কাজি জামায়ত আহলে হাদিস নামে একটি সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক। এটি পাকিস্তানের ইসলামপন্থী একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংগঠন। মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে দ্বিতীয়বার সে দেশে পা রাখলেন জহির। একইভাবে জাকির নায়েক যাকে ২০১৬ সালে ঢাকার হোলি আর্টিজেন বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার এক অভিযুক্ত বলেই দাবি করা হয়। জাকির নায়েকের পিস টিভি নিষিদ্ধ করেছিল হাসিনা সরকার। এবার তাঁকেই লাল গালিচায় অভ্যর্থনা জানাল ইউনূসের বাংলাদেশ। তিনি একমাস ধরে বাংলাদেশে যে চুপ করে বসে থাকবেন না, সেটা বলাই বাহুল্য। ফলে আগামী কয়েকমাসের মধ্যে ভারতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে অবাক হওয়ার কোনও কারণ থাকবে না। যদিও সতর্ক ভারতের নিরাপত্তা এজেন্সিগুলি। প্রয়োজনে কড়া ব্যবস্থা নিতেও পিছপা হবে না ভারত, সেটা অপারেশন সিঁদূরের সময়ই স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post