যত দিন যাচ্ছে, ততই যেন ভারতের পূর্ব প্রান্তে যুদ্ধের একটা আবহ সৃষ্টি হচ্ছে। যদিও এই মুহূর্তে সাম্প্রতিককালের ভারতের সবচেয়ে বড় যুদ্ধ মহড়া চলছে পশ্চিম প্রান্তের আরব সাগরে। গুজরাট, রাজস্থান সীমান্তবর্তী এলাকা এবং আরব সাগরের স্যার ক্রিক অঞ্চলে চলছে ভয়ানক যুদ্ধমহড়া “অপারেশন ত্রিশূল”। যাতে অংশ নিচ্ছে ভারতীয় সেনার তিন বাহিনী ও অন্যান্য সশস্ত্র বাহিনীগুলি। ভারতের এই যুদ্ধ মহড়ার জেরে পাকিস্তান তাঁদের এয়ারস্পেস বন্ধ করে দিয়েছে। জানা যাচ্ছে, পাক সেনাবাহিনীর একটা বড় অংশকে স্যার ক্রিক অঞ্চলে মোতায়েন করা হচ্ছে। সবমিলিয়ে পাকিস্তান সীমান্ত এখন সরগরম। কিন্তু চুপিসারে ভারতের পূর্ব ও উত্তর পূর্ব রাজ্যগুলিকে টার্গেট করতে তৎপর পাকিস্তান। তাঁরা বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে ওই দিক দিয়ে ভারতে আক্রমণ বা বড় কোনও নাশকতার ছক কষছে, এমনই তথ্য গোয়েন্দা রিপোর্টে। এই অবহে প্রশ্ন উঠছে, ভারত কি করবে? বাংলাদেশ কি ভারতে আক্রমণ করতে পারে? এই মুহূর্তে এগুলোই মূল চর্চার বিষয় ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের।
বিগত কয়েকদিনের ব্যবধানে বেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা ঘটেছে। একদিকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সংঘাত চলছে, অন্যদিকে পাক অধিকৃত কাশ্মীরের লিপা ভ্যালি এলাকায় ব্যাপক গোলা গুলি ছুঁড়েছে ভারতীয় সেনা। এই অবহে সাত দিনের ভারত সফর শেষ করে ফিরেছেন আফগানিস্তানের তালিবানি সরকারের বিদেশমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি। তারপরেই জানা যাচ্ছে এক ধামাকাদার খবর। সেটা হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আফগানিস্তানের যে বাগরাম বিমানঘাঁটি ফেরত চাইছিলেন, সেই বিমানঘাঁটি ভারতের হাতে তুলে দিয়েছে তালিবান সরকার। মূলত মার্কিন হাত থেকে বাঁচাতেই গুরুত্বপূর্ণ ওই বিমানঘাঁটি ভারতকেই দিল আফগানিস্তান। যা ভারতের এক বিরাট কূটনৈতিক জয় হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। এতে পাকিস্তান আরও চাপে পড়ে গেল। কারণ বাগরাম বিমানঘাঁটি দীর্ঘ ২০ বছর ছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হাতে। কিন্তু তাঁরা তালিবানি অগ্রাসনের সামনে অসহায় হয়ে ২০২১ সালে আফগানিস্তান ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই সময় এই বাগরাম বিমানঘাঁটিতে আমেরিকার বিপুল অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ও ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুদ ছিল। সবই ফেলে রেখে পালায় মার্কিন বাহিনী। শোনা যাচ্ছে, সেই সমস্ত তালিবানরা যত্ন করে রেখেছিল, এবং গোপনে ভারতের বিশেষজ্ঞরা গিয়ে সেগুলির ব্যবহার তালিবানদের শিখিয়েছেন। এবার ওই বাগরাম এয়ারবেস গোপনে ভারতের হাতেই তুলে দেওয়া হল। জানা যাচ্ছে, ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি দল ইতিমধ্যেই বাগরাম পৌঁছে গিয়েছে।
এত কথা এই কারণেই বলতে হল, কারণ বাংলাদেশও এখন পাকিস্তানকে তাঁদের এয়ারবেস ও অন্যান্য সামরিক সুযোগসুবিধা তুলে দিতে চুক্তি করেছে বলে জানা যাচ্ছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করছেন পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তা জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা। তাঁর নেতৃত্বে পাকিস্তান সেনার সঙ্গে বাংলাদেশ সেনার গোপন চুক্তি সারা হয়েছে। যা ভারতের জন্য অবশ্যই চিন্তার বিষয় ছিল। এবার পাল্টা হিসেবে ভারত বাগরাম এয়ারবেস হাতে পাচ্ছে। অর্থাৎ ভারত চাইলে পাকিস্তানের পশ্চিম প্রান্ত দিয়েও এয়ার স্ট্রাইক করতে পারে। এমনিতেই আফগানিস্তান ভারতের পাশে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের নাকে দম করে রাখছে। এখন প্রশ্ন হল, বাংলাদেশ কি চাইছে?
মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি গত বছর শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব হাতে পান। তারপর থেকেই তিনি একের পর এক জঙ্গিদের জেল থেকে ছেড়ে দেন, তাঁদের উপর চলা যাবতীয় মামলা খারিজের ব্যবস্থা করেন। তাঁর আমলে বিগত এক বছরে বাংলাদেশে যেমন উগ্রপন্থার বাড়বাড়ন্ত হয়েছে, তেমনই ভারতবিরোধী কার্যকলাপ বৃদ্ধি পেয়েছে দ্বিগুণ গতিতে। ইউনূস নিজেও চলতি বছরের মার্চ মাসে চিন সফরে গিয়ে ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত উত্তর পূর্বের সাতটি রাজ্যকে নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছিলেন। একবার নয়, একাধিকবার তিনি সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকি দেন। আবার সম্প্রতি পাক জেনারেল মির্জার হাতে যে পুস্তিকা তুলে দিলেন, তার প্রচ্ছদেও আঁকা বাংলাদেশের মানচিত্রে ভারতের সেভেন সিস্টার্সকে দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর ইঙ্গিত স্পষ্ট। তিনি ভারতের সাথে যুদ্ধ চাইছেন, এবং তা পাকিস্তান ও চিনকে সাথে নিয়েই করতে চাইছেন। আসলে বাংলাদেশে এখনও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের একটা যোগসুত্র রয়ে গিয়েছে। তাঁরা হল জামাতি রাজাকারদের বংশধর। তাঁরাই সেই ৭১-এর বদলা নেওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে আজও নানা চক্রান্ত করে চলেছেন। এবার হাসিনার পতন এবং ইউনূসের আগমণে তাঁরা সেই স্বপ্ন পুরণ করতে চাইছেন। তাই পাকিস্তানকে সাদরে আহ্বান জানিয়ে এবার ভারতের সঙ্গেই যুদ্ধ করতে চাইছে জামাত ও তাঁদের সহযোগী কট্টরপন্থী মুসলিম সংগঠনগুলি। এই জন্য তাঁরা একটা ইসলামিক আর্মিও তৈরি করছে তলে তলে। যা ভারতের বিরুদ্ধে ছায়া যুদ্ধ চালাতে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এখন দেখার এতকিছুর পরও ভারত চুপ থাকে, নাকি বড় কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করে।












Discussion about this post