প্রতিবেদন শুরু করা যাক নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর ‘উলঙ্গ রাজা’ কবিতার কয়েকটি ছত্রের উল্লেখ করে। কবিতার শেষ স্তবকে একটি সাহসী শিশুর কথা বলা হয়েছে। সে আচমকাই নিরুদ্দেশ হয়ে যায়। তাকে উদ্দেশ্য করে জনগণকে বার্তা দেওয়া হচ্ছে- ‘… যাও তাকে যেমন করেই হোক খুঁজে আনো।/ সে এসে একবার এই উলঙ্গ রাজার সামনে নির্ভয়ে দাঁড়াক।/ সে এসে একবার এই হাততালির উর্ধ্বে গলা তুলে জিজ্ঞাসা করুক: রাজা তোর কাপড় কোথায়?’
বাংলাদেশে তদরকি সরকার প্রধানের অবস্থা এখন অনেকটাই সেই রাজার মতো। সবাই দেখছে রাজা উলঙ্গ। তবুও অনেকে হাততালি দিচ্ছে। অনেকে চেঁচিয়ে বলছে শাবাশ। কারও মনে সংস্কার, কারও ভয়। অর্থনীতিতে যে মানুষটা নোবেল পেয়েছেন, আজ তাঁকে বিবস্ত্র করে কার্যত রাস্তায় নামিয়ে দিয়েছেন একসময়ের তাঁর মিত্ররা। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অথচ তাঁকে নিয়েই জাতিসঙ্ঘের সাধারণ সভার অধিবেশনে যোগ দিতে নিউ ইয়র্ক গিয়েছিলেন ইউনূস। সেটা খুব বেশিদিনের পুরনো ঘটনা নয়। জাতিসঙ্ঘে দেওয়া ইউনূসের ভাষণে মির্জা ফখরুল জিয়ার অস্তিত্ব খুঁজে পান। তার একের পর এক আলটপকা মন্তব্য শুনে বাংলাদেশের বিশিষ্ট এক সাংবাদিকের মন্তব্য ছিল, তারেক রহমানের উচিত অবিলম্বে দলের মহাসচিবের মুখ বন্ধ করা। তা না করে তারেক যে কী ভুল করেছেন, সেটা এখন বোঝা যাচ্ছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরাসরি তদারকি সরকার প্রধানকে প্রতারক বলে গালি দিয়েছেন। কিন্তু কেন? এখানে একটা কথা বলে রাখা ভালো, এই ক্ষেত্রে দলের অপর সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদকে পাশে পেয়েছেন। তিনিও ইউনূসের ওপর খাপ্পা। আলোকপাত করা যাক মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ওপর। ২৯ অক্টোবর বুধবার, জাতীয় প্রেস ক্লাবে তিনি একটি সাংবাদিক সম্মেলন করেন। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলতে চাই, আপনি জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সত্যিকার অর্থে যে টুকু সংস্কার দরকার সেই সংস্কাগুলি আপনি করে দেবেন। সেই নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে যে পার্লামেন্টে আসবে, তারাই এই দেশের সংকটগুলোর সমাধান করবে। এর থেকে কোনও ব্যতয় ঘটলে তার দায় দায়িত্ব আপনাকেই নিতে হবে। ’
বিএনপির বিরুদ্ধে তোলা হয়েছে ক্ষমতালিপ্সার অভিযোগ। সেই অভিযোগের জবাব দিতে গিয়ে আলমগীর বলেন, ‘আমরা ৫ অগাস্টের পরে নির্বাচনের কথা বলেছিলাম। তখন বলা হয়েছিল আমরা নাকি ক্ষমতা চাই। সে জন্য অধিক দ্রুত নির্বাচন চাইছি। আজ প্রমাণিত হচ্ছে যে নির্বাচন যত দেরিতে হবে, ততই ফ্যাসিবাদী শক্তি মাথা চাড়া দেবে। তারা অস্থির বাংলাদেশ দেখতে চাইছে। ’
ইউনূসের ওপর ফখরুল ইসলামের রাগের আসল কারণ, দলের তরফ থেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে জুলাই সনদ নিয়ে তাদের কিছু আপত্তি এবং কিছু সংশোধনীর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এমনকী নোট অব ডিসেন্ট বাক্যবন্ধনীরও উল্লেখ করা হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সে সব কিছু পাত্তা না দিয়ে জুলাই সনদ প্রকাশ করে। বিএনপির দাবি, বিশেষ একটি রাজনৈতিক দলকে সুযোগ করে দিতেই ইউনূসের অঙ্গুলি হেলনে কমিশন এই কাজ করেছে। সাংবাদিক সম্মেলনে সেটা রাখঢাক না করেই বিএনপি মহাসচিব জানিয়ে দেন। ইউনূস এখন তাঁদের চোখে প্রতারক, ভণ্ড।












Discussion about this post