গত মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর রাতে হাসিনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি খবর ছড়িয়ে পড়ে। যে খবরে বলা হয় বঙ্গবন্ধু কন্যা তথা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যূত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যু হয়েছে। তাঁকে ভর্তি করা হয়েছিল দিল্লির একটি সামরিক হাসপাতালে। সেখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। সেই খবরে সিলমোহর বসায় আওয়ামী লীগের দলীয় প্যাডের আদলে একটি কাগজ ও দলের সাধারণ সম্পাদক ওয়াবাদুল কাদেরের সই করা একটি শোকবার্তা। তোলপাড় হয়ে ওঠে গোটা বিশ্ব। শব্দের চেয়েও দ্রুত গতিত খবর পেয়ে যায় আওয়ামী লীগের শীর্ষস্তর থেকে শুরু করে তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনার কিছুক্ষণ বাদে দলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে পালটা বিবৃতি জারি করে বলা হয়ে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই বার্তা ভূয়ো। দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথা অন্যতম শীর্ষনেতা একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ শেখ হাসিনার মৃত্যু বা অসুস্থতা নিয়ে যে ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে সেটি গুজব। এটি করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে উদ্দেশ্য, দলের নেতাকর্মীদের মনোবল ভেঙে দেওয়া। ” হাসিনার একটি অডিও বার্তাও আপলোড করা হয়। সেখানে হাসিনাকে বলতে শোনা যায় “ আমার নামে একটি মিথ্য প্রচার চলছে। আমি অসুস্থ হতে যাব কেন ? আমি সু্স্থ আছি। আমাকে তো আমার দেশকে উদ্ধার করতে হবে। ”
এই বিবৃতির ঠিক পরের দিন বিশ্বের প্রথম সারির তিন গণমাধ্যম তাঁর একটি সাক্ষাৎকার প্রকাশ করে। দুটি গণমাধ্যমের শিরোনাম এক। একটি গণমাধ্যম তাদের প্রতিবেদনের শিরোনামে সামান্য বদল ঘটিয়েছে। যদিও তিনটি সাক্ষাৎকারের মুল সুর একটাই। এই সাক্ষাৎকারের প্রকাশকাল কিন্তু নজর কাড়ার মতো। বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়ার মামলার শাস্তির তারিখ ঘোষণা করা হবে আগামী ১৩ নভেম্বর। তার আগে প্রকাশিত হল এই সাক্ষাৎকার। আরও একটি বিষয়ের উল্লেখ করতে হয়। আওয়ামী লীগ এবং হাসিনার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার জন্য ইউনূস সরকারকে নানা প্রান্ত থেকে চাপ দেওয়া হচ্ছে। এই ইস্যুতে নোবেল ম্যান আরও কোণঠাসা। হাসিনার সাক্ষাৎকার তাঁর মাথায় বজ্রপাতের সামিল। কোনও কোনও প্রান্ত থেকে বলা হচ্ছে, এই সাক্ষাৎকার প্রকাশের জন্য কয়েকটি লবি ফার্ম কাজ করেছিল। তার জন্য আওয়ামী লীগের তরফ থেকে মোটা টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।
সাক্ষাৎকারে হাসিনা আরও তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দিয়েছেন। সেই তিনটি বিষয় হল জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর দায় তিনি কোনওভাবেই নেবেন না। কারণ তিনি বলেছেন, ‘কম্যান্ড অফ ফায়ার’-য়ের নির্দেশ তিনি দেননি। বাকি দুটি বিষয় একে অপরটির সঙ্গে জড়িত। তার একটি হল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার পরিণতি। আর দলের কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে নেতাদের ভোট বয়কটের নির্দেশ দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এক যোগে প্রকাশিত এই সব সাক্ষাৎকার আসলে ইউনূস সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। সেই সঙ্গে একটা আন্তর্জাতিকস্তরে একটা সহানুভূতি আদায় করার চেষ্টা। যদিও আন্তর্জাতিক মহল অনেক আগেই জানিয়ে দিয়েছে, হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের ওপর থেকে প্রত্যাহার করে নিতে হবে নিষেধাজ্ঞা। আওয়ামী লীগের যে সব নেতাদের মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছে, তাদের অবিলম্বে ছেড়ে দিতে হবে। ভোট সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post