চলতি বছরের ৩১ আগস্ট ঢাকার এক পাঁচতারা হোটেলে এক মার্কিন নাগরিকের মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছিল। সে সময় ঢাকা পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন নামে ওই ব্যক্তি মার্কিন দূতাবাসের মাধ্যমে ওই অভিজাত হোটেলের তিনটি রুম ভাড়া নিয়েছিলেন। দুই দিন তিনি কোনও খাবার অর্ডার না করায় কর্তৃপক্ষের সন্দেহ হয়। তারা এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও স্থানীয় গুলশন থানায় জানায়। পরে দূতাবাস থেকে মেডিকেল টিমসহ একটি টিম আসে এবং ওই ব্যক্তিকে মৃত অবস্থায় পান। সে সময় গুলশান থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছিলেন, ওই ব্যক্তির মৃত্যু স্বাভাবিক মনে হওয়ায় মার্কিন দূতাবাস কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে লিখিত আবেদন করে মরদেহটি নিয়ে যায়। অর্থাৎ, সঠিক ময়নাতদন্ত এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়াই মার্কিন দূতাবাস টেরেন্স আরভেল জ্যাকসনের দেহ নিজের দেশে পাঠিয়ে দেয়। যেটা জানা গিয়েছে সেটা হল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্সেস কমান্ডের একজন কর্মকর্তা ছিলেন টেরেন্স আরভেল জ্যাকসন। তাঁর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যু এবং তড়িঘড়ি বিনা ময়নাতদন্তে দেহ যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ায় একটা সন্দেহের বাতাবরণ তৈরি হয়। ফলে প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা এর খোঁজখবর নিতে শুরু করেন। বাংলাদেশ এখনও গত বছরের জিহাদি অভ্যুত্থানের পর কাঁপছে, এই পটভূমিকায় ঢাকার হোটেলে জ্যাকসনের উপস্থিতি এবং তাঁর আকস্মিক মৃত্যু অনেক প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। তাহলে কি ওই মার্কিন স্পেশাল ফোর্সের অফিসার কোনও গোপন মিশনে ছিলেন?
এখানেই রয়েছে আসল ট্যুইস্ট। বাংলাদেশের পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, জ্যাকসন গত কয়েক মাস ধরে ব্যবসায়িক সফরে সে দেশে ছিলেন। তাহলে তাঁর জন্য মার্কিন দূতাবাস কেন হোটেল রুম ভাড়া করেছিল, কেনই বা তাঁর মৃত্যুর পর দেহ বিনা ময়নাতদন্তেই অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে দেশে পাঠানো হল। আর কেনই বা ঢাকা পুলিশকে কোনও কিছু বাজেয়াপ্ত করা বা দেহ ছুঁতে দেওয়া হল না? একাধিক প্রশ্ন উঠছিল। এ সবের কারণ খুঁজতে গিয়েই উঠে এল এক ভয়ানক তত্ত্ব। সেটা হল, পেশাগতভাবে, তিনি স্পেশাল ফোর্সেসের মধ্যে একজন সিনিয়র ইন্সপেক্টর পদে উন্নীত হওয়ার আগে ট্রুপ কমান্ডার এবং আর্মি আরওটিসি প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তবে জ্যাকসন কেবল একজন সৈনিক ছিলেন না, তিনি সন্ত্রাসবাদ দমন, অপ্রচলিত যুদ্ধ এবং বিদেশী অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত অঙ্গ সংগঠনগুলির অংশ ছিলেন। অর্থাৎ বাংলাদেশ পুলিশের কাছে তাঁর আসল পরিচয় গোপন রাখা হয়েছিল। এই মার্কিন সামরিক কর্তার রহস্যজনক মৃত্যু সংবাদমাধ্যম জুড়ে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে। দক্ষিণ এশিয়া এবং ভারতের উপর আড়ালে সিআইএ-র পদচারণা এ ক্ষেত্রে মার্কিন গোয়েন্দা শাখাগুলির গোপন এজেন্ডা সম্পর্কে প্রশ্ন তুলেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে কোনও হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল কিনা তা নিয়ে আশঙ্কা ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। ঢাকায় মার্কিন সেনা কর্মকর্তার রহস্যময় মৃত্যুকে ঘিরে বিন্দু বিন্দু করে সেই রহস্য আরও ঘনিভূত হচ্ছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ বিশ্বজুড়ে তাঁর কুখ্যাত কাজের জন্য পরিচিত। সরকারবিরোধী বক্তব্য প্রচার, নাগরিক বিদ্রোহের মাধ্যমে বৈধভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারগুলিকে উৎখাত করার মতো কর্মকাণ্ডের জন্য এই সংস্থা সিদ্ধহস্ত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, বাংলাদেশে জ্যাকসনের উপস্থিতি যথেষ্টই উদ্বেগজনক ছিল। একদিকে, এটি ইঙ্গিত দেয় যে ওয়াশিংটন ভারতের পূর্ব প্রান্তে জিহাদি হুমকির প্রতি গভীর মনোযোগ দিচ্ছে। আবার ভারতে একটা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টাও চালাচ্ছে। মার্কিন নিরাপত্তা কর্মকর্তার মৃত্যুর ঘটনাটি বিশেষভাবে এই আশঙ্কা জাগিয়ে তুলেছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কি ভারত এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে লক্ষ্য করে ঢাকায় মোতায়েন ছিলেন? বিশ্লেষকরা অনুমান করছেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদিকে হত্যার কোনও পরিকল্পনা এবং চেষ্টা থাকতে পারে সিআইএ গোয়েন্দার। তবে ভারত ও রাশিয়ার গোয়েন্দা ইউনিটের যৌথ অভিযানের মাধ্যমে এটি ব্যর্থ করা হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যত চেষ্টাই করুক না কেন, দক্ষিণ এশিয়ায় মার্কিন আধিপত্য রুখতে এখন একজোট ভারত, রাশিয়া ও চিন। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের মাধ্যমেই যখন আমেরিকা নিজের ফুটপ্রিন্ট প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। তাই পাল্টা চাল হিসেবে, বাংলাদেশে এখন অতি সক্রিয় ভারতের গুপ্তচর সংস্থা র, রাশিয়ার কেজিবি এবং চিনের রাষ্ট্রীয় গুপ্তচর সংস্থা এমএসএস এবং ইজরইলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ। ফলে বাংলাদেশে এখন যা কিছু ঘটছে, তা হল গুপ্তচরদের লড়াই।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more











Discussion about this post