গত ১৮ই অক্টোবর বাংলাদেশের ঢাকা বিমানবন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে খবর। তবে কি কারণে আগুন লাগল তা নিয়ে নানা মত উঠে আসে। অনেকে বলেন, এটা নাশকতার ছক ছিল। কেউ কেউ অভিযোগ করেছিলেন, এটা আওয়ামীলীগ করেছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত ভিতরের তথ্য পাওয়া যায়নি। এরই মধ্যে কার্গো ভিলেজে মহা কেলেঙ্কারির খবর উঠে এল। জানা যাচ্ছে, গোলাবারুদ চুরির ঘটনা ঘটেছে। সবথেকে মজার বিষয় হল, বিমান কর্তৃপক্ষ এই ব্যাপারে থানায় ডাইরি করলেও তারা এই বিষয়টি স্বীকার করতে চায়নি গণমাধ্যমের কাছে। শুধুমাত্র তারা এটুকু বলেছে, এই বিষয়ে তদন্ত চলছে। আসলে বাংলাদেশের অন্দরে কি চলছে? কেন প্রত্যেকবার সাধারণ মানুষকে ধোঁয়াশার মধ্যে রেখে দেওয়া হয়? তবে কি গোপনে কিছু চলছে?
নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে থেকে কীভাবে গোলাবারুদ চুরি হয়? এমন প্রশ্ন উঠছে বাংলাদেশের অন্দরে। সে দেশের বহু গণমাধ্যম প্রশ্ন তুলছে। বিমানবন্দরের চূড়ান্ত নিরাপত্তার মধ্যে তালা ভেঙে সরকারি বাহিনীর অস্ত্র চুরি। সূত্রের খবর, সরকারী একটি বাহিনীর জন্য কিছু অস্ত্র এসেছিল, সেটা চুরির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ স্বীকার করছে না। অনেকে বলছেন, ১৮ই অক্টোবর আগুন লাগার পর ২৪ তারিখ স্ট্রং ভল্টের ভিতরে কি কি রয়েছে, তার তালিকা তৈরি করা হয়। সেগুলি তালাবদ্ধ করে রাখা হয়। সেখানে আরও বলা হয়, ২৭ তারিখে তালা ছিল। কিন্তু ২৮ তারিখ সেই তালা খোলা পাওয়া গিয়েছে। এরপর চুরির ঘটনা সামনে আসে। এখন জানা যাচ্ছে, ওই এলাকার সমস্ত সিসিটিভি নাকি আগুন লাগার সময় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। সেই সুযোগেই এই চুরি। এখন প্রশ্ন হল, ১৮ই অক্টোবরের পর এতগুলো দিন পার হয়ে গেল। অথচ কোনও সিসিটিভি লাগানো হল না? কেন? এর দায় কে নেবে? বিমান কর্তৃপক্ষ নাকি প্রশাসন? উল্টে, এই ঘটনা স্বীকার করছে না বিমান কর্তৃপক্ষ। এদিকে তারা থানায় জিডি করেছে। এর আগে ১৮ই অক্টোবর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাশাপাশি একসময় বিমানবন্দর থেকে বিমানের চাকা চুরি হয়েছে। এদিকে কিছুদিন আগে ঢাকা বিমানবন্দরে নাশকতা হতে পারে বলে গোটা বন্দরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু তারপরও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। অনেকে বলছেন, সেই নাশকতা বা পরিকল্পনা করছে কে? দেশীয় শক্তি নাকি বিদেশী শক্তি? কেউ কেউ বলছেন, যে যে ঘটনা সম্প্রতি সামনে এসেছে, তাতে মনে হচ্ছে দেশীয় কোনও ষড়যন্ত্র চলছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটা প্রশাসনের দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। যেখানে এতদিন সিসিটিভি লাগানো হয়নি। অন্যদিকে, প্রশাসন বা বিমান কর্তৃপক্ষের এই ব্যর্থতা কি আওয়ামী লীগের উপর চাপানো হবে? আওয়ামী লীগকে দোষারোপ করা হলেও, তার দায়ও তো প্রশাসনের উপর বর্তায়। যে দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে, সমস্ত আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তাতে কি করে এই নাশকতা ছড়াচ্ছে তারা? ফলে এই ঘটনার দায় কোনওভাবেই এড়িয়ে যেতে পারবে না কর্তৃপক্ষ।












Discussion about this post