শনিবার আচমকাই বাংলাদেশের তিন সশস্ত্রবাহিনী প্রধান উপস্থিত হলেন ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায়। যা বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বাসভন এবং কার্যালয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন বলে জানানো হয়েছে। বাংলাদেশের বিভিন্ন মহলে এই বৈঠক নিয়ে নানা জল্পনা কল্পনার সৃষ্টি হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকারের তরফে বলা হচ্ছে, আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত হতে চলা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্যই সব ধরনের প্রস্তুতি নিতে তিন বাহিনীর প্রধানদের ডাকা হয়েছিল। বৈঠকে বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সাথে ছিলেন নৌবাহিনীর প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এটা বিশ্বাসযোগ্য নয় যে আগাম নোটিশ ছাড়া তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আচমকা বৈঠক করলেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। এই বৈঠকের পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে। অনেকের দাবি, ভারত সম্প্রতি পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতে তিন ধাপে ছয় দিনের জন্য নোটিশ টু এয়ারম্যান বা নোটাম জারি করেছে। বলা হচ্ছে, ভারতের তিন বাহিনী যৌথভাবে এক বৃহত্তর সামরিক মহড়া পরিচালনা করবে। তাই আকাশ ও সমুদ্রপথে সতর্কতার জন্যই এই নোটাম। যেমনটা ভারতীয় সেনা এখন পাকিস্তান সীমান্তের স্যর ক্রিক এলাকা ও গুজরাত-রাজস্থানের বিস্তৃর্ণ অঞ্চলে চলছে অপারেশন ত্রিশূল নামে এক বড় মাপের যুদ্ধ মহড়া। এরপর বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্ত এলাকা এবং বঙ্গোপসাগরেও ভারত যুদ্ধ মহড়া দিতে চলেছে। সেই কারণেই তড়িঘড়ি বৈঠকে বসলেন মুহাম্মদ ইউনূস।
ভারতের প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের একটা বড় অংশ অবশ্য আরও বড় দাবি করছেন। তাঁদের বক্তব্য, ভারত শিলিগুড়ি করিডোর চওড়া করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করে দিয়েছে। এই ব্যাপারে ভারতীয় সেনাকে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে বলেই তাঁদের দাবি। সেই মতো এগোচ্ছে সেনা। যদিও চিকেন নেক চওড়া করার গোপন অপারেশন শুরু করে দিয়েছেন ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলি। এমনকি ভারতীয় সামরিক গোয়েন্দা শাখার চার আধিকারিকের বাংলাদেশ সফরও ছিল সেই পরিকল্পনার অংশ। ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর নিয়ে ক্রমাগত হুমকি, ধমকি দিয়ে এসেছে বাংলাদেশের একাধিক মহল। এমনকি প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসও কয়েকবার শিলিগুড়ি করিডোর ও উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য নিয়ে হুমকি দিয়েছিলেন। এই মুহূর্তে বাংলাদেশে অতি সক্রিয় পাকিস্তানের গুপ্তচরবাহিনী আইএসআই। ভারতীয় গোয়েন্দাদের কাছে খবর আসে, শিলিগুড়ি করিডোর লাগোয়া বাংলাদেশের পঞ্চগড়, লালমনিরহাট, রংপুরে পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের ঘনঘন দেখা যাচ্ছে। এরপরই নড়েচড়ে বসে ভারত। সম্প্রতি পাকিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক কর্তা জেনারেল সামশাদ মির্জা বাংলাদেশে এসেছিলেন। এবার জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তাদের একটি দল ৩ নভেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে পৌঁছেছে। এটি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক সম্পর্কের দ্রুত শক্তিশালীকরণ এবং মূলধারায় রূপান্তরের লক্ষণ বলেই মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকরা। তাই আর দেরি করতে রাজি নয় নয়া দিল্লি। এবার আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। অনেকেই মনে করছেন, খুব শীঘ্রই ভারতের অতি সংবেদনশীল অংশ চিকেন নেক বা মুরগীর গলা, পাল্টে গণ্ডারের গলায় রূপান্তরিত হয়ে যাবে। বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের রংপুর, পঞ্চগড় লাগোয়া সীমান্তে ভারতীয় সেনার তৎপরতা অনেকটাই বেড়েছে। ফলে প্রবল চাপে ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post