বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছরের ৫ আগস্ট থেকে ভারতের আশ্রয়েই রয়েছেন। যদিও ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে তাঁর বিচার চলছে একাধিক মামলায়। এরমধ্যে একটি মামলার রায় আগামী ১৩ নভেম্বের পর যে কোনও দিন আসতে পারে। আর মানবতাবিরোধী অপরাধের ওই মামলায় সরকার পক্ষের আইনজীবীরা প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর সর্বোচ্চ শাস্তিই দাবি করেছেন। যদি ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারপতিরা তাঁর সর্বোচ্চ শাস্তি অর্থাৎ ফাঁসির আদেশ দেন, তাহলে কি হবে? শেখ হাসিনার জন্য সেই আদেশ অভিষাপ না কি আশির্বাদ হিসেবে গণ্য হবে? এটাই এখন বাংলাদেশ এবং ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মূল আলোচনার বিষয়।
গত এক বছরে ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা। এই সময়কালে তিনি শুধু বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িতই হননি। নিষিদ্ধ হয়েছে তাঁর দলও। তবু রাজনৈতিকভাবে লড়াইয়ের মানসিকতা অটুট। আগামী বছর বাংলাদেশে সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিতে চায় বাংলাদেশে নিষিদ্ধ শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ। ভারতের নয়াদিল্লিতে থাকা শেখ হাসিনা গত বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করছেন, তার দলকে বাদ দিয়ে হওয়া নির্বাচনের মাধ্যমে যেই সরকারই হোক তাদের সময়ে তিনি দেশে ফিরবেন না এবং তিনি ভারতেই অবস্থান করবেন। সেই সঙ্গে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সেই নিষেধাজ্ঞার পালটা দিয়ে হাসিনা ঘোষণা করেছেন, তাঁর দলকে অংশ নিতে দেওয়া হলে নির্বাচন বয়কট করবে আওয়ামী লীগের দেড় কোটি সমর্থক। এই দুটি মন্তব্যের মাধ্যমেই হাসিনা বুঝিয়ে দিয়েছেন তিনি কতটা পোড়খাওয়া রাজনীতিবিদ। তিনি ইউনুস সরকারকে ঠারেঠোরে বার্তা দিয়ে বলেছেন, ‘দিল্লিতে স্বাধীনভাবেই আছি’। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় কেন এই কথা বললেন হাসিনা? ওয়াকিবহাল মহল বলছে, এটা একটা সুক্ষ্ণ কূটনৈতিক বার্তা। আসলে তিনি বলতে চেয়েছেন, ভারতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর মর্যাদাতেই আছেন। তিনি স্বাধীনভাবেই তাঁর কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন। এবং যতদিন ইচ্ছা দিল্লিতে থাকতে পারবেন।
আসলে তাঁর বিচার প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। আাগমী ১৩ নভেম্বেরর পর তাঁর প্রথম মামলার রায় বের হবে। সেখানে যদি ফাঁসির আদেশও হয় তাহলেও তিনি ভারতে থাকবেন। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, ভারত সরকারের থেকে এই ধরণের আশ্বাসবানী পেয়ে গিয়েছেন হাসিনা। তাই তিনি রয়টার্সের মতো আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থার কাছে এই দাবি করতে পেরেছেন। আসলে ভারত আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার থেকে হাসিনার বিরুদ্ধে একের পর এক মামলা দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনাও দাবি করে আসছেন, তাঁকে চারদিক থেকে ফাঁসানোর লক্ষ্যেই মামলাগুলি সাজানো হচ্ছে। এমনকি বিচার প্রক্রিয়ায় তাঁর অংশ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি নেই। এটা চরম অনৈতিক। তাই যদি প্রথম বিচারে হাসিনার ফাঁসি হয়, তাহলে তা হাসিনা ও ভারতের পক্ষে সুবিধাই হবে। তিনি ভারতেই থাকবেন, যতদিন না পর্যন্ত বাংলাদেশে একটা সুস্থ এবং উপযোগী সরকার ক্ষমতায় আসে।












Discussion about this post