কথাতেই আছে ধর্মের কল বাতাসে আসে। পাক অধিকৃত কাশ্মীর অর্থাৎ কাশ্মীরের যে অংশটা পাকিস্তান জোর করে দখল করেছিল সেখানকার নাম তারা দিয়েছিল আজাদ কাশ্মীর। আজ সেখানে বসবাসকারীরাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সাফ জানিয়ে দিচ্ছেন যে পাকিস্তানের সাথে তারা আর থাকতে চায় না। এবার তারা মুক্তি পেতে চায় পাকিস্তানের থেকে। যদিও এই প্রথমবার নয়, এর আগেও পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্তি পেয়ে ভারতে আসার দাবি জানিয়েছিল তারা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বড়োসরো একটি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।
অন্যদিকে, ম্যাপে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অংশটা খেয়াল করলে দেখা যাবে, স্বাধীনতার পর পাকিস্তান চালাকি করে ভারতের চোখে ধুলো দিয়ে জম্মু ও কাশ্মীরের পুরো অংশটা সেনাবাহিনীদের দিয়ে নিজেদের দখলে নিয়ে নিয়েছিল। কাশ্মীরের ওই অঞ্চল খাতায় – কলমে ভারতের হলেও আজও সেখানে দখলদারি চালাচ্ছে পাকিস্তান। দখলদারি করা এই অংশটিকে পাকিস্তান আবার আজাদ কাশ্মীর বলে উল্লেখ করে। কিন্তু ভারতও ছেড়ে দেওয়ার না। ভারত পাল্টা এই অংশটিকে ভারত অধিকৃত কাশ্মীর বলে উল্লেখ করে।
কাশ্মীরের একটি অঞ্চলের নাম মুজাফারবাদ। এটি POK অর্থাৎ পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী। এখানকার বেশ কিছু অঞ্চল যেমন – মুজাফারবাদ, মিরপুর, কোটলী সহ বেশ কিছু অঞ্চলে বিক্ষোভ চলছে। সম্প্রতি বিক্ষোভের বেশ কিছু চিত্র সামনে এসেছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষজন প্রতিবাদ জানাচ্ছেন। সাথে ভারতের পতাকাকে তারা রাইট টিক দিয়েছেন এবং ক্রস টিক দিয়েছেন পাকিস্তানকে। অর্থাৎ, তারা পাকিস্তানকে আর চাইছে না। কিন্তু হটাৎ কেন তাদের এই বিক্ষোভ ? সেখানকার স্থানীয়রা জানান, পাকিস্তান সরকার দৈনন্দিন জিনিসের মূল্য এত পরিমানে বৃদ্ধি করেছে যার ফলে তাদের জীবনযাত্রা দুর্বিসহ হয়ে পড়েছে। ব্যায়বহুল হয়ে উঠেছে তাদের জীবনযাত্রা। সাথে অভিযোগ উঠেছে, পাকিস্তান সরকার সাধারণ মানুষের সম্পদ ব্যবহার করছে পরিবর্তে তাদের কোনও সুযোগ – সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে না। যেই সময় পাকিস্তান ভারতের এই অংশ কব্জা করেছিল তখন জনগণকে বহু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। সরকারের তরফে কাশ্মীরের ওই অংশটিকে আজাদ কাশ্মীর বলা হলেও আসলে তারা দখল রেখেছিল কাশ্মীরের ওই অংশটির ওপর। এমনকি কাশ্মীরের সম্পত্তি তারা তাদের নিজের ইচ্ছা খুশি ব্যবহার করেছিল। কাশ্মীরের ওই অঞ্চল লাগোয়া সিন্ধু সহ অন্যান্য নদী থাকায় সেখান থেকে বিদ্যুৎ ও উৎপাদন করে পাকিস্তান। এমনকি পাকিস্তান এই অংশটিকে পাকিস্তান ও চীনের মাঝে ইকোনমিক করিডোর নির্মাণের কাজেও ব্যবহার করেছে।
আজাদ কাশ্মীরের এই অংশটি আলাদা পরিকাঠামো দিয়ে সাজানো হলেও সেখানের জনগণকে উপেক্ষা করে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে পাকিস্তান নিজে। ফলে পাকিস্তানের এই দৈত্য শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সরব হয়ে উঠেছে সেখানকার আমজনতা। ইতিমধ্যেই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেওয়া শুরু করে দিয়েছে।












Discussion about this post