যারা কাজ করে তারাই তো ভুল করে। তাই মানুষের কাছে আবার যাওয়া আওয়ামীলীগের। আগামী ১৫ ই নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ প্রায় ২৫ – ৩০ দিন বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রায় ১ হাজার মিছিল সংগঠিত করবে আওয়ামীলীগ। ৭ জন কোর কমিটির করা সিদ্ধান্তের পথেই চলবে আওয়ামীলীগ। গত ১৫ মাসের ও বেশ কিছু সময় ধরে অন্তর্বর্তী সরকার ডক্টর মহম্মদ ইউনূসের শাসনকালে বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝতে পারছে তারা কি ভুলটাই না করেছে। হাসিনা সরকারকে উৎখাত করে তারা এখন হাড়ে – হাড়ে টের পাচ্ছে তাদের দেশের অভ্যন্তরীণ অবস্থা। হাসিনার সরকারকে গণ অভ্যুত্থানের জের করে সরিয়ে দেওয়ার পর তারা ভেবেছিল দেশে অন্যরকম কোনও পরিবর্তন আসবে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তা হচ্ছে সম্পূর্ণ উল্টো। মানে বাংলাদেশের জনগণের অবস্থা এখন হয়ে দাঁড়িয়েছে চোরের ওপর রাগ করে মাটিতে ভাত খাওয়ার মতো। ইউনুস সরকার না পেরেছে দেশের কোনও সংস্কার করতে আর না পেরেছে সাধারণ জনগণের কোনও নিরাপত্তা সুনিশ্চিত আর না পেরেছে বাংলাদেশের ইতিহাসে তাকে মনে করে রাখার মতো কোনও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিতে। এগুলোর পরিবর্তে হয়েছে শুধুই দেশে সংকট, দাঙ্গা লাগার পরিস্থিতি। ফলে অন্তর্বর্তী সরকার ইউনূসের আমলে মানুষ অতিষ্ট হয়ে উঠেছে।
ইউনূসের ক্ষমতার লোভ। ইউনুস নিজের অন্তর্বর্তী সরকারের ক্ষমতার পদে আসীন থাকার জন্য বারবার বাংলাদেশের নির্বাচনের ব্যাঘাত ঘটাতে চেয়েছেন। জনমনে ও জনগণের ভিতর আওয়ামীলীগের পক্ষ ও জনপ্রিয়তা বেশি থাকায় ইউনুস ক্ষমতা হারানোর ভয়ে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করেছেন। নির্বাচন না হওয়ার জন্য তিনি চেষ্টা চালিয়েছেন নানা ভাবে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন ঘটতে চলেছে এবং চলতি বছরের ডিসেম্বরেই তার প্রত্যাবর্তন ঘটবে তা আমরা সকলেই জানি। আওয়ামীলীগ তাদের পরিকল্পনা প্রস্তুত করতে তৎপর। মানুষের হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস ফেরাতে লড়াই শুরু করবে আওয়ামীলীগ। যদিও আওয়ামীলীগের ওপর মানুষ আবারও আস্থা রাখতে শুরু করেছে তা দেখা গেছে বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে। শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনের সকল প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। শেখ হাসিনা কে তার দেশে ফেরাতে সম্পূর্ণরূপে সাহায্য করছে ভারত। হাসিনার প্রত্যাবর্তনে কূটনৈতিকভাবে সাহায্য করছে ভারত। সাথে তৎপরতা নিচ্ছে আমেরিকাও।
আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি – আবারও শোনা যাবে আওয়ামীলীগের নেতা – নেত্রী, কর্মী ও সমর্থকদের কণ্ঠে। ইউনূসের তরফে দলটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেও দমিয়ে রাখা যায়নি। আওয়ামীলীগ আবারও ফিরতে চলেছে স্বমহিমায়। আওয়ামীলীগের পুনরায় স্বক্ষমতায় ফেরার সম্পূর্ণ মাস্টারপ্ল্যান পরিকল্পনা দিল্লিতে বসেই করছেন আওয়ামীলীগ নেত্রী শেখ হাসিনা। মুজিব কন্যা হাসিনা গঠন করতে চাইছেন একটি ৭ জনের কোর কমিটি। এই ৭ জনের নেওয়া সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করেই আগামী পথের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথে চলবে আওয়ামীলীগ। বেশ কিছুদিন আগে কলকাতার নিউটউন এ আওয়ামীলীগের ২৬ জন নেতা মিলে একটি মাস্টারপ্ল্যান বৈঠক সেরে ফেলেছেন। দেশে স্বমহিমায় ফেরার আগে দলের নেতা ও কর্মীদের সংঘবদ্ধ করতে চাইছেন বঙ্গবন্ধু কন্যা হাসিনা। কোর কমিটি দেশে কাজ শুরু করলেই আবির্ভূত হবেন হাসিনা। ঠিক যেমনটা করেছিলেন ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। ইন্দিরা গান্ধী যেভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে ভারতকে শক্ত হাতে ধরেছিলেন, ইন্দিরা গান্ধীর দেখানো সেই পথেই হাটতে চলেছেন শেখ হাসিনা।
আগামী দিনের আসন্ন ১ হাজার মিছিল নিয়ে নেত্রী শেখ হাসিনা তার দলীয় নেতা ও কর্মীদের উদ্দেশ্যে নির্দেশ দেন, মিছিল চলাকালীন কোথাও কোনও হামলা, লাঠিচার্জ হয় তাহলে সেখানে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ না করে তা প্রতিরোধ করবেন। কেউ পালিয়ে যাবেন না, ঘর ছাড়বেন না।
ফলে এই মিছিল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়বেন হাসিনা। এ থেকে বোঝাই যাচ্ছে এবার বাংলাদেশে খেলা শুরু হাসিনার।












Discussion about this post