তবে কি ইরানের সঙ্গে আমেরিকার যাবতীয় তিক্ততার অবসান ঘটতে চলেছে। তেহরান-ওয়াশিংটনের মধ্যে তৈরি হচ্ছে এক ঘন নিবিড় সম্পর্ক? এক কথায় ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ কিছুই বলা যাবে না। তবে সেই সম্ভাবনার একটা ক্ষেত্র তৈরি হতে চলেছে। যদিও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেইনির দেওয়া শর্ত ডন মেনে নিলে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতির অভিমুখ বদলে যাবে।
গত অক্টোবর থেকে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের জন্য জমি তৈরির কাজ শুরু হয়। শুরু করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অক্টোবরে ইসরায়েল পার্লামেন্ট নেসেটে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্টকে বলতে শোনা যায়, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তি নিয়ে তিনি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিতে প্রস্তুত। সেই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘আমরা প্রস্তুত যখন তোমরা প্রস্তুত হবে। বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার হাত খোলা রয়েছে। ’ এদিকে আবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়ে দিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তাদের বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খামেইনি জানিয়েছেন, আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে তাঁর বিন্দুমাত্র আপত্তি নেই। তবে তিনি কিছু শর্ত আরোপ করেছেন। সেই সব শর্তের মধ্যে রয়েছে ইজরায়েল থেকে মার্কিন সেনার অপসারণ। মধ্যপ্রাচ্য থেকে আমেরিকার সামরিক উপস্থিতির অবসান। এই দুটি করলেই বন্ধুত্বের পথ খুলে যাবে। প্রশ্ন উঠছে কেন এমন শর্ত দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা। প্রথমত তাঁর কথা মেনে কি ডন সেই পথে হাঁটবেন? দুই দেশের দুই শীর্ষনেতাকে কী আগামীদিনে কাছাকাছি দেখতে পাওয়া যাবে যেমন পাওয়া যায় ডনের সঙ্গে মোদিকে বা পুতিনের সঙ্গে আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে? খামেইনির বক্তব্যের একটি বিষয় বেশ প্রণিধানযোগ্য। ইরানের সর্বোচ্চ এই ধর্মীয় নেতা জানিয়েছেন, ‘একটি শক্তিশালী শত্রু দেশ যদি কোনও একটি দেশের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে যায়, তাহলে শত্রু দেশের লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। সেটা তারা বুঝতে পারলে বা উপলব্ধি করতে পারলে তারাই উপকৃত হবে।’ ইরান কিন্তু কুটনীতির দরজা এখনও খোলেনি। আবার সে দেশের নেতারা কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ফেরার ব্যাপারে একেবারেই তাড়াহুড়ো করছে না।
উল্লেখ করা যেতে পারে, ইরানের সঙ্গে হওয়া পারমাণবিক চুক্তি থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয় আমেরিকা। সেটা ২০১৮ সালের ঘটনা। তার পর থেকে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের সম্পর্ক অনেকটা কাঁচালঙ্কার সঙ্গে যেমন নুনের সম্পর্ক, তেমনই। ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনার ওপর হামলা চালায়। সেই ঘটনার পর থেকে সে দেশের সঙ্গে পারমাণবিক সংক্রান্ত আলোচনা স্থগিত রয়েছে। এদিকে, জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের ওপর হামলা চালায় ইজরায়েল। একই সময় আমেরিকা তেহরানের বেশ কয়েকটি পারমাণবিক কেন্দ্রের ওপর বোমা বর্ষণ করে। ফলে, ইজরায়েলকে কেন্দ্র করে আমেরিকার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক ক্রমশ তিক্তি হয়ে ওঠে।
একদিকে, ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি করতে ইচ্ছুক, আবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা বন্ধুত্বের জন্য ডনকে কিছু শর্ত দিয়েছেন। প্রশ্ন এখানে একটাই আদৌ কি এই ঠাণ্ডা লডা়ইয়ের অবসান ঘটবে? এই বিষয়ে মার্কিন গবেষণা প্রতিষ্ঠান কুইন্সি ইন্সটিটিউট ফর রেসপনসিবল স্টেটক্র্যাফটের অ্যাক্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট ত্রিতা পারসির মতে, ‘যখন ওয়াশিংটন- তেহরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলছিল সেই সময় তেহরানে যৌথ হামলা চালায় আমেরিকা এবং ইজরায়েল। এখন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে আমেরিকা আসলে কূটনীতির কথা বলে ইরানকে মিথ্যে নিরাপত্তাবোধে আচ্ছন্ন করছে। ’












Discussion about this post