বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক হৃদ্যতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। যা এখন ভারতের অন্যতম মাথাব্যাথার কারণ। সম্প্রতি ২৪-২৮ অক্টোবর পাকিস্তানের জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফ কমিটির চেয়ারম্যান জেনারেল সাহির শামশাদ মির্জা ঢাকা এবং সিলেট সফর করে গিয়েছেন। এই সফরে তিনি প্রধান উপদেষ্টা, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা-সহ একাধিক বাংলাদেশি সেনাকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেন। পাশাপাশি সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের সঙ্গেও। তাঁর সফর শেষ হতেই ৩ নভেম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মাসরুর রহমানের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল রাওয়ালপিণ্ডি রওয়ানা হয়েছে। যেখানে দুই দেশের স্টাফ অফিসারদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা। ঠিক এই আবহেই জানা গেল, পাকিস্তান নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল নাভিদ আশরাফ ৮ নভেম্বর ঢাকায় পা রাখবেন চার দিনের সফরে। পাকিস্তান-বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক যে দিন দিন আরও মজবুত হচ্ছে, সে কথা আর নতুন করে বলে দিতে হবে না। আর এটা ভারতের আভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে একটা ক্রমবর্ধমান হুমকি ছাড়া কিছুই নয়।
এডমিরাল নাভিদ আশরাফ তার স্ত্রী ফৌজিয়া নাভিদ-সহ চারজন নৌসেনা অফিসারকে নিয়ে ঢাকায় আসছেন। তাঁরা হলেন, কমোডোর আদনান লাগারি, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার পুশতেবান আরবাব, উসমান তরিক আওয়ান এবং ক্যাপ্টেন ইজাজ আহমেদ। জেনারেল সামশাদ মির্জার মতোই এদের জন্য ঢাকার একটি বিলাসবহুল পাঁচতারা হোটেলে একাধিক রুম বুক করা হয়েছে। আর তাঁদের সম্পূর্ণ হালাল খাবার দেওয়া হবে। জানা যাচ্ছে, প্রথম দিন ৯ নভেম্বর বাংলাদেশ নৌসেনা হেডকোয়ার্টারে গার্ড অফ অনার দেওয়া হবে এবং তারপর বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান এডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসানের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এরপর প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ হবে পাক নৌসেনা প্রধানের। সেই দিনই তাঁরা চট্টগ্রাম যাবেন এবং নৌবাহিনীর বোট ক্লাবে রাত্রিবাস করবেন। পরদিন তাঁরা চট্টগ্রাম বন্দরে বাংলাদেশের বৃহত্তম নৌঘাঁটি পরিদর্শন করবেন এবং ঢাকায় ফিরে আসবেন। সেখানে পাক নৌসেনা প্রধান সাক্ষাৎ করবেন বাংলাদেশের এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খানের সঙ্গে। তারপর বাংলাদেশের আর্মড ফোর্সেস ডিভিশনের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানের সঙ্গে একটা গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসবেন। জানা যাচ্ছে, এই সফরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকের-উজ-জামানের সঙ্গে কোনো বৈঠক নির্ধারিত নেই। অর্থাৎ, ছকটা আগের মতোই, যা যা হবে, সেখানে নেই খোদ সেনাপ্রধান।
ঠিক এই আবহেই তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানা যাচ্ছে, বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনীর ৫০ শতাংশ সদস্যকে মাঠ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, ব্যারাকে ফিরিয়ে আনা হবে অর্ধেক সেনাসদস্য ও আধিকারিকদের। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত কোর কমিটির সভায় মঙ্গলবার এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলেই খবর। এই প্রক্রিয়া আজ ৬ই নভেম্বর, বুধবার ধেকে কার্যকর হবে। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের পরিকল্পনায় মারাত্মক কিছু রয়েছে। সম্প্রতি জেনারেল ওয়াকার-সহ বাংলাদেশের বাকি দুই বাহিনীর প্রধান প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছিলেন। তার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, সীমান্তে ভারতীয় সেনার তৎপরতা বৃদ্ধি পেতেই এই সিদ্ধান্ত নিল অন্তর্বর্তী সরকার। এর সঙ্গে পাকিস্তান সেনাকর্তাদের যোগসূত্রও খুঁজে পাচ্ছেন বিশ্লেষকরা। কারণ, পাকিস্তান আশঙ্কা করছে ভারত আবারও অপারেশন সিঁদূর চালু করতে পারে। আর সেটা করা হলে তাঁরা পরিকল্পনামাফিক ভারতের পূর্বপ্রান্ত অর্থাৎ বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করে ভারতকে আক্রমণে আসবে। সেই কারণেই বাংলাদেশে ঘনঘন সফর করছেন পাকিস্তানের শীর্ষ সেনাকর্তারা। আর সেই পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবেই ৫০ শতাংশ সেনাসদস্যদের ব্যারাকে ফিরিয়ে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হল।












Discussion about this post