ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অব অ্যান আনফিনিশড রেভলিউশন, সম্প্রতি এই নামে একটি বই প্রকাশ পেয়েছে। যা লিখেছেন দীপ হালদার, জয়দীপ মজুমদার ও সাহিদুল হাসান খোকন। এই বইয়ে বাংলাদেশের সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের একটি সাক্ষাৎকার ছাপা হয়েছে। সেখানেই তিনি কয়েকটি বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বলে রাখি, বাংলাদেশের এই প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একই দোষে অভিযুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধেও ঢাকার আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা চলছে। তাঁরই একাধিক দাবিতে আজ বাংলাদেশের অন্দরে বিরাট শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আসাদুজ্জামান খান কামাল দাবি করেছেন,পূর্বতন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের গদি থেকে সরানোর পিছনে নাকি আমেরিকার হাত ছিল! তিনি আরও দাবি করেছেন, শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ঘটনা কোনও স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন নয়,এটা ছিল মার্কিন গুপ্তচর সংস্থা সিআইএ-র সুচারু পরিকল্পনা। পাশাপাশি তাঁর বিস্ফোরক দাবি, বাংলাদেশের সেনা প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান, যিনি হাসিনার আত্মীয়, তিনিই শেখ হাসিনার পিঠে ছুরি মেরেছেন!
প্রসঙ্গত, গত বছর জুলাই-আগস্টের আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থানের পিছনে যে মার্কিন ডিপ স্টেট, সিআইএ ও পাকিস্তানের আইএসআইয়ের একটা বড় ভূমিকা ছিল, এটা এখন ওপেন সিক্রেট। স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এই দাবি করেন। যদিও তিনি বাংলাদেশের সরকার পতনে মার্কিন প্রশাসনের যুক্ত থাকার ঘটনা অস্বীকার করেছিলেন। তবে ডিপ স্টেটের অর্থায়নের খোলসা তিনি করে দিয়েছিলেন রীতিমতো তথ্য প্রমান দিয়ে। ফলে আসাদুজ্জামান খান কামালের এই দাবি পুরোনো। নতুন যে দাবিটা নিয়ে এখন শোরগোল পড়েছে সেটা হল বাংলাদেশের সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের ভূমিকা নিয়ে। তিন লেখকের প্রকাশিত ইনশাআল্লাহ বাংলাদেশ: দ্য স্টোরি অব অ্য়ান আনফিনিশড রেভলিউশন নামক বইতেই এই দাবি করা হয়েছে। ওই বইয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাবি করেন, আমরা বুঝতে পেরেছিলাম, সিআইএ চক্রান্ত করছে, কিন্তু জানতাম না সিআইএ-র পকেটে ছিল ওয়াকার উজ জামান। আসাদুজ্জামানের বক্তব্য, আমাদের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা বাহিনী, বাংলাদেশ গোয়েন্দার ডিরেক্টর জেনারেল ও বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল সিভিলিয়ান ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা-কেউই প্রধানমন্ত্রীকে সে সময় সতর্ক করেননি। কেউই বলেনি, জেনারেল ওয়াকার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিশ্বাসঘাকতা করবে। তিনি আরও বলেছেন, হয়তো ওদের শীর্ষকর্তারাও এই ষড়যন্ত্রে সামিল ছিল। তারা কীভাবে জড়িত থাকবে না? সেনাপ্রধান নিজেই যেখানে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাচ্যুতির নেপথ্যে মূল চক্রী।
কেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশে পালাবদলে উদ্যোগী হয়েছিল, এই প্রশ্নের উত্তরে বাংলাদেশের পলাতক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মূলত দুটি বিষয় উল্লেখ করেছেন। প্রথমত, দক্ষিণ এশিয়ায় যাতে একাধিক শক্তিশালী রাষ্ট্রনেতা না থাকে। কামালের যুক্তি, এই অঞ্চলে মোদি ও শি জিনপিংয়ের মতো শক্তিশালী নেতা রয়েছেন। কিন্তু শেখ হাসিনাও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করছিলেন। কামালের দাবি, যদি এদের মতে শক্তিধর নেতারা থাকেন, তাহলে সিআইএ কীভাবে কাজ করবে? তাই অপেক্ষাকৃত দুর্বল এবং পুতুল রাষ্ট্রপ্রধান যদি বসিয়ে দেওয়া যায় তাহলে সুবিধা হয় কাজ হাসিল করতে। বাংলাদেশে দুর্বল সরকার হলেই আমেরিকার স্বার্থপূরণ হতো, সেই স্বার্থ অবশ্যই সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। তাৎপূর্যপূর্ণভাবে আসাদুজ্জামান যা বলেছেন, তাতেই কার্যত শিলমোহর দিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা মহাপরিচালক তুলসী গ্যাবার্ড। তিনি কার্যত ঘুরিয়ে স্বীকার করে নিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পুরোনো নীতি ছিল বিভিন্ন দেশে রাজনৈতিক পালাবদল ঘটানো। যা ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বাতিল করে দিয়েছে।
কীভাবে এবং কেনই বা হাসিনার পিঠে ছুরি মারলেন সেনা প্রধান?
ওই বইয়ে লেখা হয়েছে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কিছু সময় আগেই ওয়াকার উজ-জামানকে নিয়োগ করা হয়েছিল। বাংলাদেশে যে বিভিন্ন রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার পিছনে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান ও রাষ্ট্রপতি মহম্মদ সাহাবুদ্দিন রয়েছেন বলেই মনে করা হয়। সেনাপ্রধান যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখতে পারেননি, তা সে গোপালগঞ্জের দাঙ্গা হোক বা ১৫ সেনাকর্তার গ্রেফতারির ঘটনাই জলজ্যান্ত প্রমান। এমনকি গণঅভ্যুত্থানের পরপরই সেনাপ্রধানের বক্তব্যে এর ইঙ্গিত ছিল। তিনি বলেছিলেন,জামাত-সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। ওয়াকার দেশের মৌলবাদী শক্তিগুলির সঙ্গে হাত মিলিয়েছিল হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে। জামায়াত-ই-ইসলামি বাংলাদেশ এই কাজ করতে তাঁকে সাহায্য করেছিল। আসলে পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা জামাতের সঙ্গে কাজ করছে। তাঁরা গত বছর পুলিশ হত্যার নেপথ্যে কাজ করেছে। এবার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকেও হীনবল করতে চাইছে।












Discussion about this post