চলতি বছরের মে মাসে পহেলগাঁও হামলার ১৫ দিনের মাথায় ভারতীয় সেনার প্রত্যাঘাতে কেঁপে উঠেছিল পাকিস্তানের মাটি। পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরের জঙ্গি ঘাঁটিতে অতর্কিতে হামলা চালিয়েছিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। যার পোশাকী নাম ছিল ‘অপারেশন সিঁদুর’। এরপরেই গল্প সকলের জানা। পাকিস্তান পাল্টা হামলা চালায়, কিন্তু তৎপর ভারত সেই হামলা রুখে আরও বড় আকারের হামলা চালায় পাকিস্তানের বুকে। পাক সেনার একাধিক বিমানঘাঁটি, রেডার সিস্টেম, কমান্ড সেন্টার ছাড়াও কয়েকটি কৌশলগত ঘাঁটিতে আছড়ে পড়েছিল শত শত ড্রোন এবং খতরনাক ব্রহ্মস মিসাইল। মাত্র চারদিনের এই অপারেশনে পাকিস্তানের যা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাঁরা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছে। কিন্তু জল্পনা হল, এবার কি তবে বাংলাদেশের পালা?
বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, ভারতীয় সেনাবাহিনী নীরবে এবং অতি গোপনীয়তার সাথে শিলিগুড়ি করিডোর বা “চিকেনস নেক” অঞ্চলে প্রায় ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত তাদের অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করে ফেলেছে। অর্থাৎ মাত্র ২২ কিলোমিটার সংকীর্ণ এই করিডোর বাড়িয়ে ইতিমধ্যেই ৬০ কিলোমিটার এলাকা সংযোজন করা হয়েছে। এর অর্থ, বাংলাদেশের জমি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে এনেছে ভারতীয় সেনা। সেখানে এই মুহূর্তে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। যদি এই বিষয়টি সত্যি হয়, তাহলে সাম্প্রতিক বছরগুলিতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে নাটকীয় কৌশলগত উন্নয়নগুলির মধ্যে একটি হতে পারে বলেই মনে করছেন কূটনৈতিক ও প্রতিরক্ষা মহলের একটা বড় অংশ। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সামরিক এবং ভূ-রাজনৈতিকভাবে ভারতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভৌগোলিক বিন্দু হিসাবে বিবেচিত হয়ে আসছে শিলিগুড়ি করিডোর, এর সংকীর্ণতার জন্যই এই অংশের নাম চিকেন নেক। মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত এই করিডোরটি নেপাল, ভুটান এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী ভারতের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ। আর এই অংশের মাধ্যমেই যুক্ত উত্তর-পূর্ব ভারতের সাতটি রাজ্য বা সেভেন সিস্টার্স। আবার সিকিমও এই অংশের মাধ্যমেই ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। ফলে কোনও বিদেশী শক্তি যদি ভারতের চিকেন নেক নামে খ্যাত এই অংশটুকু ধ্বংস করে দেয় বা কেটে দেয় তাহলে ভারতের আটটি রাজ্যে সরবরাহ ও অন্যান্য যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যাবে। বলা ভালো ওই আটটি রাজ্য ভারত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।
যেটা জানা যাচ্ছে, শিলিগুড়ি করিডোরে পাশে বাংলাদেশের অংশে বিস্তৃর্ণ জলাজমি রয়েছে। এই অঞ্চল খানিকটা দুর্গম ও জনবসতি সেরকম নেই। ভারতীয় সেনা কৌশলগতভাবে বাংলাদেশের অংশে ঢুকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দখল করে অবস্থান নিয়েছে। অর্থাৎ, ছিল ২২ কিমি, এখন হল ৬০ কিমি বা তার বেশি। মজার ব্যাপার হল, ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এই দাবি সম্পর্কে কোনও সরকারি বিবৃতি জারি করেনি, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারও নিশ্চুপ। প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের বক্তব্য, ভারতীয় সেনা যদি এটা করেও থাকে, তাহলে এখনই তা ফলাও করে বলবে না। ভারত সরকারও কৌশলগত কারণে তা ঘোষণা করবে না। বাংলাদেশের তরফে কি প্রতিক্রিয়া আসে সেটা আগে দেখে নেওয়া হবে। তারপর মন্তব্য করবে নয়া দিল্লি। আর এটাই স্বাভাবিক। কেউ কেউ দাবি করছেন, ভারত শিলিগুড়ি করিডোরের কাছে ওই বর্ধিত অংশে রাস্তাঘাট এবং নজরদারি ব্যবস্থা-সহ গুরুত্বপূর্ণ কিছু অবকাঠামো নির্মানের কাজ শুরু করে দিয়েছে। প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞদের কথায় এই পদক্ষেপ ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী, কৌশলগত সাফল্য হতে চলেছে। আর এই কাজটা এমন সময় করা হল, যখন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ক্রমাগত ভারতের চিকেন নেক, সেভেন সিস্টার্স নিয়ে হুমকি দিয়ে চলেছেন। পাকিস্তানের সাথে দহরম মহরম বাড়িয়ে ভারততে ক্রমাগত চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ছেন। ফলে কৌশলগতভাবেই এবার ঝুঁকিপূর্ণ চিকেন নেক বা মুরগীর গলার পরিধী বাড়িয়ে নিয়ে গন্ডারের গলায় পরিণত করে ফেলল ভারত। যাতে কোনও সংঘাত হলে, কৌশলগত দিক থেকে এগিয়ে থাকবে ভারতীয় সেনা। এখন দেখার এই খবরের সত্যতা কতটা।












Discussion about this post