মঙ্গলবারই দুই শতাধিক প্রার্থীর প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে বিএনপি। যা নিয়ে বাংলাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। কারণ, দলীয় প্রার্থী তালিকা প্রকাশের পর শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বলা একটি মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক চর্চা আরও বেড়ছে। তিনি বলেন, ৩০০ আসনের মধ্যে বাকি ৬৩টি আসনের মধ্যে ৪০টি আসন যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। ২৩টি আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নাম পরে ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সবশেষে তিনি বলেন, আসন নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির সঙ্গে দলটির সমঝোতা হলে পাল্টে যেতে পারে হিসাব-নিকাশ। এই শেষের কথাটি নিয়েই জোর রাজনৈতিক চর্চা চলছে বাংলাদেশে। তাহলে কি শেষ পর্যন্ত এনসিপি-বিএনপি জোট বা সমঝোতা হতে পারে আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে? উঠছে প্রশ্ন।
বিএনপি সূত্রে খবর, তিন দফা জরিপ এবং কেন্দ্রীয় নেতাদের পর্যালোচনার ভিত্তিতে এই প্রার্থীতালিকা তৈরি করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে ছিলেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির তিন নেতা, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমেদ ও ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তাঁরাই বিস্তারিত আলাপ আলোচনার শেষে এই ২৩৭ জনের তালিকা চুরান্ত হয়েছে। তবে যে ৬৩টি আসন বাকি রয়ে গিয়েছে, তার মধ্যে ৪০টি আসন বিএনপি তাঁদের জোট সঙ্গীদের ছেড়ে দেবে বলে প্রাথমিক সিদ্ধান্ত হয়েছে। যদিও বিএনপির একাধিক নেতা একান্তে বলছেন, এনসিপির সঙ্গে আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা চলছে। দুই দলের মধ্যে চূড়ান্ত সমঝোতা হলে নবগঠিত ছাত্রদের দলকে কিছু আসন ছেড়ে দিতে পারে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সব রাজনৈতিক দলের জন্য আমাদের দরজা খোলা। আমরা তাঁদের স্বাগত জানাই এবং সহযোগিতা করতে চাই।
বাইট – মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি মহাসচিব
বিএনপির ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ফেনী-১, দিনাজপুর-৩ এবং বগুড়া-৭ আসন রাখা হয়েছে বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তবে এটাও বলা হয়েছে, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার উপর নির্ভর করছে তিনি কটা আসনে লড়াই করবেন। আবার বিএনপির তালিকায় দলের সহ-আন্তর্জাতিক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম নেই। কিন্তু এ সব ছাপিয়ে এথন আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিএনপি-এনসিপি জোটের সম্ভাবনা নিয়ে। কারণ, বিগত কয়েকমাসে এনসিপির একাধিক শীর্ষ নেতা বিএনপিকে টার্গেট করে নানান বিস্ফোরক দাবি করেছেন। বিএনপির বিরুদ্ধে নানা সময়ে সুর চড়িয়েছে ছাত্রনেতারা। কিন্তু এ বিষয়ে মির্জা ফকরুলের বক্তব্য, এনসিপি নানা মন্তব্য করলেও আমরা কিছু বলিনি। এদিকে সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারিকে প্রধান করে ১০ সদস্য বিশিষ্ট নির্বাচন পরিচালনা কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রদের নব গঠিত দল জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপি। এই কমিটির সেক্রেটারি করা হয়েছে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তথা এনসিপি নেত্রী তাসনিম জারাকে। এরমধ্যেই জানা যাচ্ছে, এনসিপি, গণঅধিকার পরিষদ ও এবি পার্টিসহ বেশ কয়েকটি মধ্যমপন্থী গণতান্ত্রিক শক্তি ‘নির্বাচনী জোট’ গঠনের চিন্তা-ভাবনা চলছে। বিএনপি ও জামায়াতের বাইরে গিয়ে নতুন এই জোট গঠনকে ‘সবচেয়ে ভালো উদ্যোগ’ হিসেবে দেখছে এনসিপির একটা অংশ। তবে বিএনপি যে এনসিপিকে বেশ কয়েকটা আসন ছাড়তে রাজি, সেটাও এখন স্পষ্ট। ফলে নির্বাচন আদৌ হবে কিনা সেটাই ঠিক নেই, কিন্তু বিএনপি প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে এবং এনসিপিকে পাশে টানার বার্তা দিয়ে একটা মোক্ষম চাল দিল। যা মুহাম্মদ ইউনূস এবং জামাতের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়েছে।
আবার বাংলাদেশের জাতীয় রাজনীতিতে ফিরে এসেছে ডিপ স্টেট। জুলাই অভ্যুত্থান ও পরবর্তী পর্যায়ে হাসিনা সরকারের পতনের পর এসেছিল ডিপ স্টেটের...
Read more












Discussion about this post