গোটা বাংলাদেশ জুড়ে চলছে নির্বাচনী হাওয়া। এরমধ্যে নির্বাচনী প্রস্তুতিতে ব্যস্ত রাজনৈতিক দলগুলি। এরমধ্যে নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম। গত বছর গণ অভ্যুত্থানের পর ভারতের আশ্রয়ে রয়েছেন শেখ হাসিনা। সেখান থেকেই বিভিন্ন সময় অডিও বার্তা দিয়েছেন তিনি। কেউ কেউ বলেন, ভারতে থেকে শেখ হাসিনা দলের কার্যক্রম চালাচ্ছেন। যদিও এর প্রমাণ বিভিন্ন সময় দেখা গিয়েছে। আওয়ামী লীগের বহু শীর্ষ নেতা ভারতে বসে বৈঠক করেছেন। তবে প্রথম দিকে শেখ হাসিনা নির্বাসিত থাকলেও বা সামান্য কিছু বার্তা দিলেও এখন তিনি ঘনঘন বার্তা দিচ্ছেন। আর তা ঘিরেই বাংলাদেশের বহু গমমাধ্যম প্রশ্ন তুলছে, তবে কি ভারত শেখ হাসিনাকে আনলক করে দিল? কোনওভাবে শেখ হাসিনাকে নির্বাচনে ফেরাতে কি তৎপর ভারত?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শেখ হাসিনা কোনও অডিও বার্তা দিলে ইউনূস সরকার ভয় পেয়ে যায়। কারণ তারা জানে, ভারতে রয়েছেন শেখ হাসিনা। ভারত তাঁর পাশে রয়েছে। এদিকে বাংলাদেশে নির্বাচন আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে যেহেতু আওয়ামী লীগের কর্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে অন্তবর্তীকালীন সরকার, তাই তারা ভারতের সাহাষ্য নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে আওয়ামী লীগ। আর প্রত্যেকেই জানে, এখনও পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যে পরিমাণ দেশে সমর্থক রয়েছে, তাতে শেখ হাসিনার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে, তাতে কেউ আটকাতে পারবে না। পাশাপাশি দেড় বছরে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তীকালীন সরকার যে যে কর্মকাণ্ড করেছে গোটা দেশে, তাতে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট।
অন্যদিকে ছাত্রদের দল এনসিপির ভরাডুবি আগেই দেখা গিয়েছে। জাকসু, ডাকসু নির্বাচনে স্পষ্ট। পাশাপাশি বিএনপি খেয় হারিয়ে ফেলছে নিজেদের অন্তদ্বন্দ্ব নিয়ে। বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলের মধ্যে রয়েছে জামায়েতি ইসলামী। তাদের এজেন্ডাও খুব একটা গ্রহণযোগ্যতা পাবে না, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ অনেক বেশি এগিয়ে। তবে কিছু কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞ এই তত্ত্ব তুলে ধরছেন, যে এই মুহূর্তে দেশে ফিরে নিজেদের সংগঠন গুছিয়ে তোলা অনেক বেশি চ্যালেঞ্জ আওয়ামী লীগের কাছে। কাজেই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জটিলতা কাটিয়ে, দেশে ফেরাটা অনেক বেশি কঠিন। তবে নির্বাচন কমিশন ভোটে অংশগ্রহণ করতে দেয় কিনা, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে। বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণার একদিন পরে বিএনপির মনোনিত এক প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হলেন। এবং তার সঙ্গে আর একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। চট্টগ্রামে ঘটা এই ঘটনা একদিকে যেমন চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে ঠিক একইভাবে নানা পক্ষ নানা কথা সামনে আসছে। সরকার এক ধরনের বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে এক ধরণের দাবি করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আর এক ধরণের বক্তব্য আসছে। আবার রাজনৈতিক সংঘাত এবং দ্বন্দ্ব…এটা নিয়ে এনসিপি নেতারা তির্যক মন্তব্য করেছে বিএনপির দিকে। এই ঘটনা বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণ কিনা, সেটা নিয়ে তীব্র সমালোচনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশে। যদিও এখন বিএনপি নেতারা অন্যভাবে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকে বলছেন, অর্ধেক সেনা তুলে নেওয়ার দিনে এমন অশান্তি। ফলে এখন বাংলাদেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে উঠছে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে।











Discussion about this post